তৎকালীন আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় কাউন্সিলর অহেদুজ্জামান বকুলের ‘কোটি টাকার পাহাড়’: আলাদিনের চেরাগ যেন তার হাতে!
নিজস্ব প্রতিবেদক, বেনাপোল | ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬
যশোরের সীমান্তবর্তী বেনাপোল পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর বকুলের বিরুদ্ধে গত ১৫ বছরে অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকার মালিক হওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে শূন্য থেকে তিনি এখন অঢেল বিত্ত-বৈভবের মালিক। তার এই ‘আলাদিনের চেরাগ’ পাওয়ার রহস্য নিয়ে এলাকায় চলছে ব্যাপক গুঞ্জন।
শূন্য থেকে কোটিপতি: সম্পদের নেপথ্যে যা আছে
এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, কাউন্সিলর হওয়ার আগে বকুলের আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত সাধারণ থাকলেও আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তার ভাগ্য রাতারাতি বদলে যায়। অভিযোগ রয়েছে, তিনি মূলত নিচের খাতগুলো থেকে এই বিপুল সম্পদ গড়েছেন:
সীমান্ত সিন্ডিকেট ও কমিশন: সাদিপুর সীমান্ত দিয়ে সোনা, অস্ত্র ও মাদক চোরাচালানের প্রতিটি বড় চালান থেকে তিনি নির্দিষ্ট হারে কমিশন বা ‘বখরা’ আদায় করতেন।
স্থলবন্দরে প্রভাব: বেনাপোল স্থলবন্দরের বিভিন্ন পয়েন্টে নিজস্ব লোক বসিয়ে চাঁদাবাজি এবং পণ্য খালাসে প্রভাব খাটিয়ে বিশাল অংকের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
সরকারি জমি ও বাওড় দখল: ক্ষমতার দাপটে তিনি স্থানীয় সরকারি খাস জমি এবং মাছ চাষের জন্য বাওড় দখল করে সেখানে ব্যক্তিগত বাণিজ্যিক সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন।
বিদেশে অর্থ পাচারের গুঞ্জন
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যবসায়ী জানান, “বকুল কাউন্সিলর হওয়ার পর তার সম্পদের গ্রাফ কেবল উপরের দিকেই উঠেছে। বেনাপোল ও যশোরে তার একাধিক আলিশান বাড়ি এবং বেনামে প্রচুর জমি রয়েছে। শুধু তাই নয়, চোরাচালানের মাধ্যমে উপার্জিত বিপুল পরিমাণ টাকা তিনি সীমান্ত পার করে হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করেছেন বলেও গুঞ্জন রয়েছে।”
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নীরবতায় ক্ষোভ
এত বিশাল সম্পদের পাহাড় গড়লেও আয়কর বিভাগ বা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কেন তার বিরুদ্ধে এখনো কোনো পদক্ষেপ নেয়নি, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরেও তিনি এলাকায় সক্রিয় থাকায় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।
তদন্তের দাবি
বেনাপোলের সচেতন নাগরিক মহল মনে করেন, বকুলের এই অবৈধ সম্পদের উৎস খুঁজে বের করতে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। সাদিপুর গ্রামের বাসিন্দারা দ্রুত তার গ্রেফতার এবং অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।