তৌকিরের না-ফেরার যাত্রা: ক্ষমার ভাষায় স্ত্রীর শেষ আর্তি
Daily Prothom Bangladesh প্রতিবেদক | ২৪ জুলাই ২০২৫
একজন স্বপ্নবাজ পাইলট, এক নবদাম্পত্যের শুরুতে জীবনের মাঝপথে থেমে গেল তাঁর গতি। পাইলট তৌকির আহমেদ—যিনি আকাশে ডানা মেলেছিলেন দেশের জন্য, ভালোবাসার মানুষটির জন্য, তার আর ফেরা হলো না। বিমান দুর্ঘটনার মর্মান্তিক শিকার হয়ে বিদায় নিয়েছেন এই তরুণ প্রাণ। আর সেই বিদায়ের পরে, এক হৃদয়বিদারক বার্তায় দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়েছেন তার নবপরিণীতা স্ত্রী।
তিনি বলেন—
“আমাদের বিয়ের মাত্র ছয় মাস হয়েছে। সংসার কি, তা বুঝে ওঠার আগেই সে চলে গেছে। আমি তাকে ক্ষমা করে দিয়েছি। আপনারা যদি ক্ষমা করেন, হয়তো সে বেহেস্তে চলে যেতে পারবে।”
এই কয়েকটি বাক্য যেন গোটা জাতিকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। নিঃশব্দ কান্নায় ভেসে গেছে হাজারো হৃদয়।
তৌকির শুধু একজন পাইলট ছিলেন না। তিনি ছিলেন একজন সাহসী দেশপ্রেমিক—যিনি প্রতিদিন আকাশে ওড়ার আগে মাকে ফোন করে বলতেন, “দোয়া কইরো, আজও যেন ঠিকঠাক নামতে পারি।” এমন ছিল তার ভেতরের ভয় আর বাহিরের সাহসের সঙ্গম।
বাংলাদেশের আকাশরক্ষীদের একজন হয়ে তিনি যে শেষ যাত্রায় পাড়ি দিলেন, সেটি যেন একটি ভালোবাসার অপূর্ণ অধ্যায় হয়ে রইল। স্ত্রী তার চোখের জল নিয়ে লিখলেন ভালোবাসার শেষ চিঠি—ক্ষমা করে দিতে বললেন জাতিকে, যেন মৃত্যুর ওপারে শান্তি পায় তার ভালোবাসার মানুষটি।
তৌকিরের মৃত্যু আমাদের জন্য শুধুই একটি ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, এটি একটি জাতীয় বেদনা। এ জাতি প্রতিদিন দেখে আত্মত্যাগের গল্প—কিন্তু খুব কম দিনই এমনভাবে হৃদয় ছুঁয়ে যায় কোনো বিদায়।
তৌকিরের স্ত্রীর কান্না আজ এ দেশের প্রতিটি বিবেকবান নাগরিকের হৃদয় কাঁপিয়েছে। তাঁর শেষ আবেদন—
“ক্ষমা করে দিন ওকে… তাহলেই বোধহয় সে শান্তি পাবে।”
এই আবেদন, এই অনুরোধ—আজ আমাদের বিবেকের দরজায় কড়া নাড়ছে।
তৌকির আহমেদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করি। আমরা ভুলবো না। ভালোবাসা আর ক্ষমার মিশেলে তোমার গল্প বেঁচে থাকবে আমাদের হৃদয়ে।
—
“যারা আকাশে উড়তে শেখায়, তারা মাটির টানে হারিয়ে যায় না—তারা হয়ে ওঠে ইতিহাস।”
🕊️