ষড়যন্ত্রমূলক অপপ্রচারের বিপরীতে সত্যের জয়: ডুমুরিয়ায় সুকৃতি মন্ডলের সারের ডিলারশিপ বিতর্ক ও বিএনপির অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির নতুন দিগন্ত
।
বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন
খুলনা, ডুমুরিয়া:
সম্প্রতি খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার নদীবেষ্টিত মাগুরখালী ইউনিয়নে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) সারের ডিলারশিপ নিয়োগকে কেন্দ্র করে কিছু সংবাদমাধ্যমে একটি বিভ্রান্তিকর ও অসত্য তথ্য প্রচার করা হয়েছে। সেখানে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী রাজনৈতিক কর্মী সুকৃতি কুমার মন্ডল এবং তাঁর বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স এস এস এন্টারপ্রাইজ’-এর বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অনিয়মের অভিযোগ তোলা হয়।
তবে সরেজমিনে গভীর অনুসন্ধানে এবং স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর বক্তব্যে ফুটে উঠেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। অনুসন্ধানে নিশ্চিত হওয়া গেছে, এটি মূলত একটি স্বার্থান্বেষী চক্রান্তকারী মহলের ষড়যন্ত্র এবং অনৈতিক রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সুকৃতি মন্ডলকে হেয় প্রতিপন্ন করার হীন অপচেষ্টা মাত্র।
১. ‘মিষ্টির দোকান’ বিতর্কের আসল সত্য ও মানবিকতার দৃষ্টান্ত
সংবাদে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অভিযোগ তোলা হয়েছিল যে, একটি মিষ্টির দোকানকে সারের গুদাম দেখিয়ে অনিয়মের মাধ্যমে ডিলারশিপ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রকৃত তথ্য অনুসন্ধানে এর মূল বাস্তবতা উন্মোচিত হয়েছে:
মালিকানা ও চুক্তির বাস্তবতা: যে স্থানটি নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, সেটি সম্পূর্ণভাবে সুকৃতি কুমার মন্ডলের নিজস্ব ব্যক্তিমালিকানাধীন সম্পত্তি। স্থানটি পূর্বে এক ব্যবসায়ীকে মিষ্টির দোকান পরিচালনার জন্য সাময়িকভাবে ভাড়া দেওয়া হয়েছিল।
মানবিক বিবেচনা ও পূজার ছাড়: ওই মিষ্টির দোকানের ভাড়ার চুক্তির মেয়াদ ইতিমধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব ‘শারদীয় দুর্গাপূজা’ নিকটবর্তী হওয়ায় উক্ত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর আকুল আবেদনে সাড়া দিয়ে মানবিক কারণে পূজা পর্যন্ত ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেন সুকৃতি মন্ডল।
আইনি ও নীতিগত প্রস্তুতি: ডিলারশিপের নীতিগত প্রয়োজনীয়তা মেনে নির্ধারিত স্থানে উপযুক্ত নিরাপত্তা ও সুরক্ষাসহ সারের গুদামজাতকরণের যাবতীয় প্রস্তুতি আগেই সম্পন্ন করা হয়েছিল। কিন্তু কেবল মানবিক কারণে দেওয়া সাময়িক এই ছাড়কে বিকৃত ও অপব্যাখ্যা করে কতিপয় অসাধু ব্যক্তি বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ করেছে।
২. আওয়ামী স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও বিএনপির আদর্শে আত্মনিয়োগ
প্রচারিত সংবাদে সুকৃতি কুমার মন্ডলকে “রাজনৈতিক সুবিধাবাদী” বা “গিরগিটি” বানানোর ব্যর্থ চেষ্টা করা হলেও তাঁর অতীত ও বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান শতভাগ পরিষ্কার:
স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান: অতীতে স্থানীয়ভাবে দলীয় পদে থাকলেও আওয়ামী লীগের বিগত আমলের নজিরবিহীন দুর্নীতি, চরম বৈষম্য এবং অন্যায়-অপকর্মের কঠোর প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি সেই দলের সাথে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করেন।
জাতীয়তাবাদী চেতনায় আস্থা: বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নীতি ও আদর্শ, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং দেশনায়ক তারেক রহমানের রাষ্ট্রনায়কোচিত নেতৃত্বের প্রতি অবিচল আস্থা রেখে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) আত্মনিয়োগ করেন।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার: বিএনপির আদর্শ গ্রহণ করার কারণে তৎকালীন আওয়ামী সরকারের অমানবিক রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হতে হয় তাঁকে। মহান বিজয় দিবসের রাতে তাঁর বিরুদ্ধে নাশকতার সম্পূর্ণ মিথ্যা ও সাজানো মামলা দেওয়া হয় এবং তাঁকে টানা ২৭ দিন কারাবাস ভোগ করতে হয়।
৩. সংকটে পাশে বিএনপি: অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য নজির
সুকৃতি কুমার মন্ডলের কারাবরণ ও রাজনৈতিক হয়রানির কঠিন দিনগুলোতে বিএনপি দলীয়ভাবে যেভাবে তাঁর পাশে এসে দাঁড়িয়েছে, তা বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির ইতিহাসে এক উজ্জ্বল নজির স্থাপন করেছে।
শীর্ষ নেতৃবৃন্দের পাশে দাঁড়ানো: কারামুক্তির পর ডুমুরিয়া-ফুলতলা আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জনাব মোহাম্মদ আলী আসগর লবী, খুলনা জেলা যুবদলের আহ্বায়ক জনাব ইবাদুল হক রুবায়েত, ডুমুরিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক জনাব মোল্ল্যা মোশাররফ হোসেন মফিজ এবং খুলনা জেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক বাবু নিত্যানন্দ মন্ডল সহ জেলা ও উপজেলার শীর্ষ নেতৃবৃন্দ তাঁর বাসভবনে গিয়ে সহমর্মিতা জানান এবং পূর্ণ রাজনৈতিক ও সামাজিক সুরক্ষার আশ্বাস দেন।
বিনামূল্যে আইনি সহায়তা: বিএনপির আইনি সহায়তা দল সম্পূর্ণ বিনামূল্যে তাঁর মিথ্যা মামলার আইনি লড়াই পরিচালনা করে তাঁর দ্রুত কারামুক্তি নিশ্চিত করে।
সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তায় দলের অবস্থান: এই ঘটনা স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, বিএনপি দল হিসেবে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল নাগরিকের সমঅধিকারে বিশ্বাসী। সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় বিএনপির এই ভূমিকা সুকৃতি কুমার মন্ডলসহ স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বী জনগোষ্ঠীর মনে বিএনপি নেতৃত্বের প্রতি এক নতুন ও গভীর আস্থা তৈরি করেছে।
৪. সুকৃতি কুমার মন্ডলের বক্তব্য ও জনসাধারণের প্রতি আহ্বান
আইনি হয়রানি ও রাজনৈতিক অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা জানিয়ে সুকৃতি কুমার মন্ডল স্পষ্ট ভাষায় বলেন:
“আমি আওয়ামী লীগের বিগত দিনের দুর্নীতি ও নীতিহীনতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে বিএনপির জাতীয়তাবাদী পতাকাতলে আশ্রয় নিয়েছি। বিএনপি আমাকে যে সম্মান ও আইনি সুরক্ষা দিয়েছে, তাতে আমি ও আমার পরিবার চিরকৃতজ্ঞ। একটি কুচক্রী মহল আমাদের আদর্শিক অবস্থান ও ব্যবসায়িক সুনাম নষ্ট করতে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়েছে।
আমি মাগুরখালীসহ ডুমুরিয়া-ফুলতলার সকল সনাতনী ভাই-বোনদের আহ্বান জানাই—আসুন, সকল বিভেদ ভুলে ধর্মীয় স্বাধীনতা, জীবনের নিরাপত্তা এবং সাম্য ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে তারেক রহমানের হাতকে এবং ধানের শীষের রাজনৈতিক ধারাকে শক্তিশালী করি।”
৫. বিএনপির সাংগঠনিক বার্তা: সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা ও ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় রাখার তাগিদ
এই অনুসন্ধানে আরও ফুটে উঠেছে যে, দলীয় হাইকমান্ড ও বিএনপির রাজনৈতিক নীতির মূল কথা হলো—সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে আলাদা করে না দেখে দেশের সমান নাগরিক হিসেবে তাদের অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
ঐক্য ও সৌহার্দ্যের রাজনৈতিক নির্দেশনা: বিএনপি নেতাকর্মীদের স্পষ্টভাবে মনে রাখতে হবে, সনাতন ধর্মাবলম্বী ভাই-বোনদের সাথে সবসময় সম্মানজনক ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে। নির্বাচনী মৌসুমে শুধু ভোটের জন্য কাছে যাওয়া নয়, বরং সুদিনে-দুর্দিনে তাদের পাশে থেকে প্রকৃত বন্ধুর পরিচয় দিতে হবে।
নতুনদের গ্রহণ ও মূল্যায়ন: কোনো ব্যক্তি যদি পূর্বের ভুল পথ পরিহার করে বিএনপির আদর্শ ও দেশনায়ক তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বকে ভালোবেসে দলে যোগ দেন, তবে স্থানীয় নেতাকর্মীদের উচিত তাঁকে সাদরে গ্রহণ করা এবং তাঁর পাশে দাঁড়ানো।
অপপ্রচার ও চক্রান্ত বন্ধের তাগিদ: যেখানে দেশনায়ক তারেক রহমানের সরাসরি অভিভাবকত্ব ও সদয় দৃষ্টি রয়েছে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও অধিকারের ওপর, সেখানে কতিপয় স্থানীয় স্বার্থান্বেষী নেতাকর্মী কেন অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হবে—আজ সেই প্রশ্ন উঠেছে।
সমঅধিকারের বাংলাদেশ: বাংলাদেশ কারও একার নয়; সব অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা শুধু সংখ্যাগরিষ্ঠরাই পাবে—এই মানসিকতা পরিহার করতে হবে। সংখ্যালঘুরা কোনো পরবাসী বা রিফিউজি নয়, তারা এই দেশের সমান নাগরিক।
চক্রান্ত রুখে সত্য ও সমৃদ্ধির জয়
কৃষকবান্ধব সারের ডিলারশিপকে কেন্দ্র করে স্থানীয় একটি কুচক্রী মহলের যে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের চক্রান্ত ছিল, তা সচেতন জনগণের কাছে আজ উন্মোচিত। সুকৃতি কুমার মন্ডল কেবল একজন সফল ও সৎ ব্যবসায়ীই নন, বরং তিনি জাতীয়তাবাদী আদর্শের এক নিবেদিতপ্রাণ কর্মী।
তাঁর বিরুদ্ধে চালানো মিথ্যাচার মূলত বিএনপি এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যকার সুদৃঢ় মেলবন্ধনকে বিনষ্ট করার অপচেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়। অপপ্রচারের দিন শেষ, সত্যের জয় সুনির্দিষ্ট।
মনে রাখতে হবে—অবস্থান ও সময় পাল্টাতে বেশি সময় লাগে না। তাই সকল অপপ্রচার ও নির্যাতন-জুলুমের পথ বন্ধ করে অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, ভালোবাসার রাজনীতি এবং ন্যায়বিচারের পথেই অর্জিত হবে টেকসই সফলতা।