জাতীয় শোকের দিনে মানবতার পাশে: ডা. জোবায়দা রহমানের আহ্বান ও বিএনপির অঙ্গীকার
সিনিয়র এডিটর নাজমুল হাসান
২৩ জুলাই, ২০২৫
উত্তরার আকাশে ঝরে পড়া একটি প্রশিক্ষণ বিমানের সঙ্গে যেন ছিন্নভিন্ন হয়ে গেল কতগুলো পরিবারের স্বপ্ন। মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ক্যাম্পাসে ভয়াবহ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন একাধিক নিরীহ মানুষ, আহত হয়েছেন অনেক শিক্ষার্থী। এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় গোটা দেশ যখন শোকাচ্ছন্ন, তখন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র পরিবার ও নেতৃত্ব থেকে উঠে এসেছে এক অন্তরাত্মার আহ্বান— সহানুভূতি, সহমর্মিতা ও মানবিকতার।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী, জননেত্রী ডা. জোবায়দা রহমান, এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারবর্গের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন—
> “এই ট্র্যাজেডিতে আমরা হারিয়েছি শুধু প্রাণ নয়, হারিয়েছি বিশ্বাস, হারিয়েছি নিরাপত্তাবোধ। আমি ব্যক্তিগতভাবে এবং বিএনপি পরিবারের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারের পাশে আছি এবং ভবিষ্যতেও পাশে থাকব। আমাদের সন্তানদের রক্ষা করা এখন জাতির চরম দায়িত্ব। আমি বিএনপির নেতাকর্মীসহ দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাই— আসুন, আমরা সব বিভেদ ভুলে মানবতার পাশে দাঁড়াই।”
বিশেষভাবে তিনি শহীদ লেফটেন্যান্ট তৌকিরের আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।
তরুণ এই অফিসার কর্তব্যরত অবস্থায় নিজের প্রাণ উৎসর্গ করেছেন— জাতির পক্ষে এক নিঃশব্দ কিন্তু দৃপ্ত বার্তা রেখে। ডা. জোবায়দা রহমান বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যেন শহীদ তৌকিরের পরিবারের পাশে মানবিকভাবে দাঁড়ানো হয় এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করা হয়।
তিনি বলেন—
> “শহীদ লেফটেন্যান্ট তৌকির আমাদের জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের একজন। আমরা তার আত্মত্যাগের মূল্য কখনোই ভুলে যেতে পারি না। তাঁর পরিবারের চোখের জল আমাদের দায়িত্ব হয়ে দাঁড়ায়। বিএনপি’র প্রতিটি স্তরে আমি আহ্বান জানাই— আমরা যেন এই পরিবারটির পাশে থাকি, শুধু আজ নয়, আগামী দিনেও।”
ডা. জোবায়দা রহমান আরও বলেন, এই ধরনের দুর্ঘটনা শুধু প্রযুক্তিগত ব্যর্থতা নয়, এটি রাষ্ট্রযন্ত্রের অবহেলার নগ্ন প্রতিচ্ছবি। তিনি শাসকগোষ্ঠীর দিকে ইঙ্গিত করে বলেন—
> “নিরাপত্তা যে একটি সরকারের মৌলিক দায়িত্ব, তা ভুলে গেছে যারা ক্ষমতার মোহে অন্ধ। এই শাসনব্যবস্থা আমাদের শিশুদের আকাশ থেকে ছিঁড়ে নিচ্ছে।”
তিনি বিএনপির নেতা-কর্মীদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান— কোনো সহিংস নয়, মানবিক প্রতিবাদই হোক প্রতিরোধের ভাষা। গণতন্ত্রের সংগ্রামের পথে থেকেও যেন আমাদের মানবিকতা না মরে, সেই কথাই স্পষ্টভাবে বলেন তিনি।
বিএনপি পরিবার এ দুর্ঘটনাকে জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণা করে, অবিলম্বে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পূর্ণ সহায়তা, আহতদের উন্নত চিকিৎসা ও বিমান নিরাপত্তা ব্যবস্থার পূর্ণ সংস্কারের দাবি জানায়।
শিশুদের চোখে যেন আর কখনো আতঙ্কের আগুন না জ্বলে— এটাই বিএনপির অঙ্গীকার।
আজকের এ শোক একদিন প্রতিশ্রুতির জন্ম দেবে— এমনটাই বিশ্বাস করেন ডা. জোবায়দা রহমান। এবং দেশবাসীকে বার্তা দেন—
> “একটি জাতিকে তার বেদনাই শক্তি দেয়। আজ যারা কাঁদছে, আগামীকাল তারাই গড়বে নিরাপদ বাংলাদেশ। আসুন, তাদের হাত ধরেই আমরা এগিয়ে যাই।”