জাতীয় পর্যায়ে লালন শাহ স্মরণোৎসব: মানবতার সুরে বাজছে ছেঁউরিয়া দরবার
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি | ২০ অক্টোবর ২০২৫
বাংলার আধ্যাত্মিক সাধক ফকির লালন শাহকে স্মরণ করে কুষ্টিয়ার ছেঁউরিয়ায় শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী জাতীয় লালন স্মরণোৎসব। এবারের আয়োজনটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এই প্রথমবারের মতো জাতীয় পর্যায়ে লালনের মৃত্যুবার্ষিকী উদযাপন করা হচ্ছে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায়।
উৎসবের উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরোয়ার ফারুকী। উপস্থিত ছিলেন দেশবরেণ্য বাউল শিল্পী, গবেষক, সংস্কৃতিকর্মীসহ হাজারো দর্শনার্থী।
আলো, সঙ্গীত আর মানবতার মিলনমেলা
১৭ থেকে ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত চলে এই মহাউৎসব। ছেঁউরিয়ার আখড়াবাড়ি প্রাঙ্গণজুড়ে ছিল লালনের গান, বাউল আড্ডা, আলোকসজ্জা ও সাধনানুষ্ঠান।
প্রতিদিন সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয় বাউল গানের আসর, যেখানে মানবতা, ভালোবাসা ও সমতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে জানানো হয়, লালনের দর্শনকে জাতীয়ভাবে প্রচারের জন্য ১৭ অক্টোবর দিনটিকে “লালন স্মরণ দিবস” হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
লালন শাহের জীবন ও দর্শন
লালন শাহের জন্ম ১৭৭৪ সালের দিকে কুষ্টিয়া জেলার হারসদিয়া গ্রামে। ধর্ম, বর্ণ, জাত—সব ভেদাভেদ অতিক্রম করে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন শুধুই “মানুষ” হিসেবে।
তরুণ বয়সে তীর্থযাত্রা থেকে ফেরার পথে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পরিত্যক্ত হন তিনি। এক মুসলিম নারী তাঁকে আশ্রয় ও সেবা দেন—সেই ঘটনাই তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এরপর থেকেই তিনি মানবতাকেই জীবনের মূল দর্শন হিসেবে গ্রহণ করেন।
তিনি বলেছিলেন—
> “সব লোকে কয় লালন কি জাত সংসারে,
লালন কয় জাতের কি রূপ দেখলাম না এ নজরে।”
এই দর্শনের মাধ্যমেই তিনি মানুষে মানুষে ভেদাভেদহীন এক সমাজের স্বপ্ন দেখেছিলেন।
উৎসবের তাৎপর্য ও প্রস্তুতি
লালন শাহের জীবন ও চিন্তা আজও বাঙালির চেতনায় গভীরভাবে প্রোথিত। তাঁর গান কুসংস্কার, ভণ্ডামি ও বিভেদের বিরুদ্ধে এক অমর প্রতিবাদ।
লালন স্মরণোৎসবকে ঘিরে ছেঁউরিয়া এখন এক আধ্যাত্মিক মিলনক্ষেত্র। নিরাপত্তা নিশ্চিতে জেলা প্রশাসন নিয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি—বসানো হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা, গড়ে তোলা হয়েছে ওয়াচ টাওয়ার ও তথ্যকেন্দ্র।
দেশ-বিদেশ থেকে আগত দর্শনার্থীদের ভিড়ে মুখরিত পুরো এলাকা।
উপসংহার
লালন শাহ ছিলেন এমন এক মানবতাবাদী সাধক, যিনি ধর্ম, জাত ও প্রথার বাইরে গিয়ে মানুষকে মানুষ হিসেবে চিনতে শিখিয়েছেন। তাঁর জীবন ও দর্শন আজও সমান প্রাসঙ্গিক।
> “যে জন প্রেমের ভাব জানে না, তারে সাধন কি কাজে?”
এই চিরন্তন বাণী আজও আমাদের মনে করিয়ে দেয়—সত্যিকার ধর্ম ভালোবাসা, আর মানবতাই সর্বোচ্চ সাধনা।
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি | ২০ অক্টোবর ২০২৫
বাংলার আধ্যাত্মিক সাধক ফকির লালন শাহকে স্মরণ করে কুষ্টিয়ার ছেঁউরিয়ায় শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী জাতীয় লালন স্মরণোৎসব। এবারের আয়োজনটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এই প্রথমবারের মতো জাতীয় পর্যায়ে লালনের মৃত্যুবার্ষিকী উদযাপন করা হচ্ছে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায়।
উৎসবের উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরোয়ার ফারুকী। উপস্থিত ছিলেন দেশবরেণ্য বাউল শিল্পী, গবেষক, সংস্কৃতিকর্মীসহ হাজারো দর্শনার্থী।
আলো, সঙ্গীত আর মানবতার মিলনমেলা
১৭ থেকে ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত চলে এই মহাউৎসব। ছেঁউরিয়ার আখড়াবাড়ি প্রাঙ্গণজুড়ে ছিল লালনের গান, বাউল আড্ডা, আলোকসজ্জা ও সাধনানুষ্ঠান।
প্রতিদিন সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয় বাউল গানের আসর, যেখানে মানবতা, ভালোবাসা ও সমতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে জানানো হয়, লালনের দর্শনকে জাতীয়ভাবে প্রচারের জন্য ১৭ অক্টোবর দিনটিকে “লালন স্মরণ দিবস” হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
লালন শাহের জীবন ও দর্শন
লালন শাহের জন্ম ১৭৭৪ সালের দিকে কুষ্টিয়া জেলার হারসদিয়া গ্রামে। ধর্ম, বর্ণ, জাত—সব ভেদাভেদ অতিক্রম করে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন শুধুই “মানুষ” হিসেবে।
তরুণ বয়সে তীর্থযাত্রা থেকে ফেরার পথে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পরিত্যক্ত হন তিনি। এক মুসলিম নারী তাঁকে আশ্রয় ও সেবা দেন—সেই ঘটনাই তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এরপর থেকেই তিনি মানবতাকেই জীবনের মূল দর্শন হিসেবে গ্রহণ করেন।
তিনি বলেছিলেন—
> “সব লোকে কয় লালন কি জাত সংসারে,
লালন কয় জাতের কি রূপ দেখলাম না এ নজরে।”
এই দর্শনের মাধ্যমেই তিনি মানুষে মানুষে ভেদাভেদহীন এক সমাজের স্বপ্ন দেখেছিলেন।
উৎসবের তাৎপর্য ও প্রস্তুতি
লালন শাহের জীবন ও চিন্তা আজও বাঙালির চেতনায় গভীরভাবে প্রোথিত। তাঁর গান কুসংস্কার, ভণ্ডামি ও বিভেদের বিরুদ্ধে এক অমর প্রতিবাদ।
লালন স্মরণোৎসবকে ঘিরে ছেঁউরিয়া এখন এক আধ্যাত্মিক মিলনক্ষেত্র। নিরাপত্তা নিশ্চিতে জেলা প্রশাসন নিয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি—বসানো হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা, গড়ে তোলা হয়েছে ওয়াচ টাওয়ার ও তথ্যকেন্দ্র।
দেশ-বিদেশ থেকে আগত দর্শনার্থীদের ভিড়ে মুখরিত পুরো এলাকা।
উপসংহার
লালন শাহ ছিলেন এমন এক মানবতাবাদী সাধক, যিনি ধর্ম, জাত ও প্রথার বাইরে গিয়ে মানুষকে মানুষ হিসেবে চিনতে শিখিয়েছেন। তাঁর জীবন ও দর্শন আজও সমান প্রাসঙ্গিক।
> “যে জন প্রেমের ভাব জানে না, তারে সাধন কি কাজে?”
এই চিরন্তন বাণী আজও আমাদের মনে করিয়ে দেয়—সত্যিকার ধর্ম ভালোবাসা, আর মানবতাই সর্বোচ্চ সাধনা।