চুড়ামনকাটিতে বিএনপির নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ
আওয়ামী লীগ আমলের ত্রাস মাহাবুর আলম এখন ‘অঘোষিত বিএনপি নেতা’!
যশোর প্রতিনিধি:
আওয়ামী লীগ সরকার আমলে চুড়ামনকাটি এলাকায় ত্রাস হিসেবে পরিচিত মাহাবুর আলম বর্তমানে বিএনপির নাম ব্যবহার করে দেদারছে চাঁদাবাজি চালাচ্ছেন—এমন গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। কোনো পদ-পদবি না থাকলেও নিজেকে বিএনপির লোক দাবি করে তিনি এখন এলাকায় অঘোষিত নেতা বনে গেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন চুড়ামনকাটি বাজারের হাটচান্নিতে ব্যবসা করা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে ইউনিয়ন বিএনপির কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও মাহাবুরকে ঠেকানো যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। তার ভয়ে অনেক ব্যবসায়ীর রাতের ঘুম হারাম হয়ে পড়েছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, চুড়ামনকাটি বাজারের হাটচান্নিতে দীর্ঘদিন ধরে অসংখ্য ব্যবসায়ী ব্যবসা করে আসছেন। সম্প্রতি সরকারি উদ্যোগে হাটচান্নির স্থানটি পাকা করা হয়। ওই এলাকার পাশেই একসময়কার ত্রাস মাহাবুর আলমের একটি দোকান রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, হাটচান্নিতে ব্যবসা করতে গেলেই মাহাবুর টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে দোকান বসাতে দেওয়া হবে না—এমন প্রকাশ্য হুমকি দিচ্ছেন তিনি।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের অভিযোগ অনুযায়ী, মাহাবুর আলম ইতোমধ্যে
ব্যবসায়ী সোহেলের কাছ থেকে ৭ হাজার টাকা,
মিন্টুর কাছ থেকে ১৪ হাজার টাকা,
রবিউলের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা,
ইয়াসিনের কাছ থেকে ৪ হাজার ৩ শত টাকা,
পরিমলের কাছ থেকে ২ হাজার টাকা,
এবং আতিয়ারের কাছ থেকে ২ হাজার ৫ শত টাকা
জোরপূর্বক আদায় করেছেন।
এছাড়াও তার ভয়ে অনেক ব্যবসায়ী দোকান খুলতেই পারছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে।
ব্যবসায়ীদের দাবি, মাহাবুর প্রকাশ্যেই বলে বেড়াচ্ছেন—“হাটচান্নিতে ব্যবসা করতে হলে টাকা দিতেই হবে।” নিজেকে বিএনপির লোক পরিচয় দিয়ে তিনি এই চাঁদাবাজি চালাচ্ছেন বলে তারা অভিযোগ করেন। এ কারণেই ইউনিয়ন বিএনপির কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তারা।
স্থানীয়রা জানান, মাহাবুর আলম ও তার ভাই ওবাইদুল ইসলাম সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান মুন্নার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে তারা বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। সরকার পরিবর্তনের পর কয়েক মাস গা ঢাকা দিলেও সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসে আবারও চাঁদাবাজিতে লিপ্ত হয়েছেন মাহাবুর ও তার চক্র।
এ বিষয়ে চুড়ামনকাটি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাস্টার মিজানুর রহমান রাতদিন নিউজকে বলেন, “আমাদের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ এসেছে। বিষয়টি আমরা তদন্ত করছি। মাহাবুর বিএনপির কেউ নন, এমনকি কোনো অঙ্গসংগঠনেরও সদস্য নন।”
তিনি আরও বলেন, “আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় থেকে মাহাবুর অতীতে যা ইচ্ছে তাই করেছে। বর্তমানে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত আব্দুস সালাম ও শামীম হোসেনের সঙ্গে চলাফেরা করে নিজেকে বিএনপি দাবি করছে।” বিষয়টি জেলা নেতৃবৃন্দকে জানানো হবে বলেও তিনি জানান।
সাজিয়ালি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আব্দুর রউফ বলেন, “এ বিষয়ে আমাদের কাছে কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে চুড়ামনকাটি উত্তর পাড়ার বাসিন্দা মাহাবুর আলম রাতদিন নিউজকে বলেন, “ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সামান্য ঝামেলা হয়েছিল, তা মিটে গেছে। এখন কোনো সমস্যা নেই।”
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তার বিরুদ্ধে ওঠা নানা নৈরাজ্যের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, “আমি নিজেই আওয়ামী লীগের প্রতিহিংসার শিকার।”
এদিকে স্থানীয় সাধারণ ব্যবসায়ীরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে বাজার এলাকায় স্বাভাবিক ব্যবসা-বাণিজ্য পরিবেশ ফিরে আসে।