গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবায় বড় উদ্যোগ বিএনপির
তৃণমূলে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের ঘোষণা
ঢাকা: গ্রামীণ পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে যুগান্তকারী উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দেশের মানুষ যেন ঘরে বসেই মৌলিক চিকিৎসা সেবা পেতে পারে—সে লক্ষ্য বাস্তবায়নে তৃণমূল পর্যায়ে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে।
এক বিবৃতিতে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষ গ্রামে বসবাস করলেও দীর্ঘদিন ধরে তারা ন্যূনতম স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত। সামান্য অসুস্থতায়ও অনেক সময় গ্রামবাসীকে উপজেলা বা জেলা শহরে ছুটতে হয়, যা তাদের জন্য কষ্টসাধ্য ও ব্যয়বহুল। বিএনপি ক্ষমতায় এলে এই বাস্তবতাকে গুরুত্ব দিয়ে স্বাস্থ্যসেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
তিনি জানান, প্রস্তাবিত এই কর্মসূচির আওতায় প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীরা গ্রাম ও ওয়ার্ডভিত্তিকভাবে কাজ করবেন। তারা প্রাথমিক চিকিৎসা, মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য সেবা, সাধারণ রোগের চিকিৎসা, স্বাস্থ্য পরামর্শ এবং জরুরি প্রয়োজনে রোগীকে নিকটস্থ সরকারি বা বেসরকারি চিকিৎসা কেন্দ্রে রেফার করবেন। এর ফলে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তারেক রহমান আরও বলেন, এই উদ্যোগ শুধু স্বাস্থ্যখাতেই নয়, কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
বিএনপি নেতারা বলছেন, স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার। দলটির ঘোষিত এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে গ্রামীণ স্বাস্থ্যব্যবস্থায় একটি কাঠামোগত পরিবর্তন আসবে এবং সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নত হবে। তারা আশা প্রকাশ করেন, এই উদ্যোগ জনগণের মধ্যে আস্থা সৃষ্টি করবে এবং একটি মানবিক ও জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনে সহায়ক হবে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি স্বাস্থ্যখাত সংস্কারের অংশ হিসেবে ভবিষ্যতে আরও বাস্তবমুখী কর্মসূচি ঘোষণা করবে।