গোপালগঞ্জ-১ আসনে বিতর্কিত আওয়ামী দোষরদের নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভ
আশরাফুল আলম শিমুলকে ঘিরে গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে ফুঁসে উঠেছে সর্বস্তরের মানুষ
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি : আবু সাইদ
দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী শাসনামলে সুবিধাভোগী ও কথিত অর্থযোগানদাতাদের পুনরায় রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা ঘিরে গোপালগঞ্জ-১ আসনে চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয় জনগণের অভিযোগ, এই সময়কালে আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় গড়ে ওঠা একাধিক কুখ্যাত দোষর আজ আবারও নির্বাচন ও রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারের অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
এর মধ্যে আশরাফুল আলম শিমুলকে ঘিরে সর্বাধিক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সূত্র ও আন্দোলনকারী মহলের দাবি অনুযায়ী, তিনি দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ সুবিধাভোগীদের একজন এবং সাবেক এমপি ও মন্ত্রী ফারুখ খান ও তার কন্যা কানতারা খানের বিশ্বস্ত সহযোগী ও অর্থনৈতিক সহায়তাকারী হিসেবে পরিচিত।

গণহত্যা ও সহিংসতার মামলার অভিযোগ
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-আন্দোলনের সময় সংঘটিত সহিংসতা ও গণহত্যার একাধিক মামলায় আশরাফুল আলম শিমুল পলাতক আসামি বলে অভিযোগ রয়েছে। আন্দোলনকারীদের ভাষ্যমতে, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে গোপালগঞ্জে সংঘটিত বিভিন্ন সহিংস ঘটনার পেছনেও তিনি পরিকল্পনাকারী ও মদদদাতা হিসেবে ভূমিকা রেখেছেন।
মাদক সংশ্লিষ্টতার গুরুতর অভিযোগ
স্থানীয়দের অভিযোগে আরও উঠে এসেছে, আশরাফুল আলম শিমুল একজন ইয়াবা ব্যবসায়ী ও মাদকসেবক ছিলেন এবং মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র (রিহ্যাব) থেকে ফেরত এসেছেন। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি এলাকায় ভয়ভীতি, সন্ত্রাস ও অবৈধ অর্থনীতির পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন বলে দাবি করা হয়।
প্রশ্ন উঠেছে নির্বাচনী যোগ্যতা নিয়ে
সচেতন মহলের প্রশ্ন—
যদি এমন অভিযোগে অভিযুক্ত একজন ব্যক্তি এমপি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পায়, তবে শেখ সেলিম, ফারুখ খানসহ অন্যান্য আলোচিত আওয়ামী লীগ নেতাদের ক্ষেত্রে নির্বাচনী বাধা কেন সৃষ্টি করা হচ্ছে?
এই প্রশ্নের মধ্য দিয়েই বিগত ১৭ বছরের আওয়ামী শাসনামলে সারাদেশজুড়ে গড়ে ওঠা দোষর, সুবিধাভোগী ও অবৈধ অর্থের নেটওয়ার্ক নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
সাবেক জনপ্রতিনিধি পরিচয়
উল্লেখ্য, আশরাফুল আলম শিমুল মুকসুদপুর উপজেলায়
সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান
সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান
সাবেক পৌরসভা মেয়র
হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন বলে জানা গেছে। তার এই রাজনৈতিক অতীতই আজ নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
জনগণের জোরালো দাবি
গোপালগঞ্জ-১ আসনের সর্বস্তরের জনগণ এবং আন্দোলনকারী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে অবিলম্বে আশরাফুল আলম শিমুলসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় থাকা কথিত আওয়ামী দোষরদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানানো হয়েছে।
তাদের ভাষায়,
“এটি শুধু একজন ব্যক্তির প্রশ্ন নয়, এটি আওয়ামী লীগের পেতাতন্ত্র ও দোষর সংস্কৃতির অবসান ঘটানোর প্রশ্ন।”
জনগণ মনে করে, প্রকৃত গণতন্ত্র ও সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে এইসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং বিচার নিশ্চিত করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।