• মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:১৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম
দেশের টেকসই উন্নয়নে সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ,মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান, আইন মেনে তালাকের পর সাবেক স্ত্রীর হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা: বৃদ্ধ মায়ের জীবন শঙ্কায়, আতঙ্কে পুরো পরিবার বন্দর এলাকা, পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড ও সীমান্তপথে যাত্রীদের নিরাপদ চলাচলে প্রশংসায় ভাসছেন বেনাপোল পোর্ট থানার এসআই (নিঃ) মো. রাশেদুজ্জামান ঠাকুরগাঁওয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে ২২০ ইয়াবা, ৯ বোতল ফেনসিডিল ও নগদ ৩২ হাজার টাকা উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১ এফবিআই প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আইজিপির সৌজন্য সাক্ষাৎ চট্টগ্রাম থেকে ফেরার পথে ডাকাতের কবলে বিএমএসএফ কেন্দ্রীয় সভাপতি আহমেদ আবু জাফর, সহকর্মীদের দোয়া ও সহযোগিতার আহ্বান মাছ ধরতে গিয়ে জেলের জালে মিলল থানা থেকে লুট হওয়া শর্টগান বেনাপোল কাস্টম চেকপোস্টে ‘স্পট ট্যাক্স’ বন্ধ, লাগেজ হয়রানি ও উন্নয়ন প্রশ্নে বাড়ছে জনঅসন্তোষ: রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান: বড়আঁচড়া সড়কের অস্থায়ী সংস্কারে উদ্যোগ, এলাকাবাসীর মাঝে স্বস্তি বেনাপোলের গর্ব মারিয়া আফরিন তিষু: ছাত্ররাজনীতিতে নেতৃত্ব, গণমাধ্যমে আত্মবিশ্বাসী উপস্থাপনায় নতুন প্রজন্মের অনুপ্রেরণা

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের কর প্রশাসনে অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহার:

নাজমুল হাসান চিফ ইন এডিটর / ৭২ Time View
Update : সোমবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬

 

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের কর প্রশাসনে অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহার:

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন অপরাধ ডেস্ক রিপোর্ট :

সিটি কর্পোরেশনের কর প্রশাসন একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় কাঠামো, যার ওপর নগর ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন অনেকাংশে নির্ভরশীল। তবে দীর্ঘদিন ধরে কর নির্ধারণ, টেন্ডার ব্যবস্থাপনা এবং প্রশাসনিক আচরণ নিয়ে নানা অভিযোগ উঠে আসছে। এই প্রতিবেদনে রাজস্ব কর্মকর্তা মোঃ জাকির হোসেন-কে কেন্দ্র করে উঠে আসা একাধিক গুরুতর অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট অনিয়মের চিত্র অনুসন্ধান করা হয়েছে।

উক্ত রাজস্ব কর্মকর্তা ১৯৯৩ সালে চাকুরীতে যোগদান করেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে কর প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন। দায়িত্বশীল এই পদে থাকার কারণে কর নির্ধারণ ও আদায়, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তদারকি এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে তার প্রভাব উল্লেখযোগ্য।
বিভিন্ন সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য অনুযায়ী, উক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিম্নলিখিত অভিযোগগুলো উঠে এসেছে—
1. কর নির্ধারণ ও আদায়ে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ
করদাতাদের কাছ থেকে আদায়কৃত অর্থ যথাযথভাবে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা না দিয়ে ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত স্বার্থে ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।
2. টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার ও টেন্ডারবাজির অভিযোগ
উন্নয়ন ও সেবামূলক কাজে টেন্ডার অনুমোদনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় না রেখে নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছে।
3. ভূমি ও ব্যবসা সংক্রান্ত ক্ষমতার অপব্যবহার
ভূমি দখল সংক্রান্ত বিরোধ এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ওপর অযৌক্তিক চাপ প্রয়োগের অভিযোগ রয়েছে, যা প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহারের ইঙ্গিত দেয়।
4. ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ
কর সংক্রান্ত বিষয়ে ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের সঙ্গে ভয়ভীতি প্রদর্শন, হুমকি ও অসদাচরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
5. সহকর্মী ও জুনিয়র কর্মকর্তাদের সঙ্গে পেশাগত আচরণবিধি লঙ্ঘন
নিজ কলিগ ও অধস্তন কর্মচারীদের সঙ্গে অসম্মানজনক ও কর্তৃত্ববাদী আচরণ করার অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
6. পারিবারিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ
নিজের পারিবারিক পরিচয়, রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী সূত্র ব্যবহার করে প্রশাসনিক ও ব্যক্তিগত স্বার্থসংশ্লিষ্ট কাজে সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও উঠে এসেছে।
৭। সরকারি কর্মচারীদের গোপনে ব্যবসা করা সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯ এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিধি-বিধান (যেমন, সরকারি চাকুরি আইন, ২০১৮) দ্বারা নিষিদ্ধ। কিন্তু রাজস্ব কর্মকর্তা মোঃ জাকির হোসেন চাকুরীর পাশাপাশি হাজার কোটি টাকার আমদারি-রপ্তানি, টাইলসের ব্যবসা করের এবং পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন কোম্পানীর(ঔষদ কোম্পানীসহ) শেয়ারহোল্ডার । এনজিও এর মাধ্যমে আমেরিকায় টাকা পাচার করে দুটি বাড়ি কিনেছেন্। সেখানে তার মেয়েকেও পড়াশোনা করাচ্ছেন।
৮। প্রতিদিন রাতে জাকির হোসেন উত্তরা ও গুলসানের বিভিন্ন বারে যাতায়াত করে যৌনকর্মীদের সাথে রঙ্গলীলায় মত্ত থাকেন।

এই অভিযোগগুলোর বিষয়ে বিভিন্ন সূত্র নথিপত্র, অভ্যন্তরীণ অডিট রিপোর্ট, সাক্ষ্যপ্রমাণ এবং লিখিত অভিযোগ,অডিও ও ভিভিও ক্লিপ পাওয়া গেছে । এতে শুধু রাষ্ট্রীয় রাজস্ব ক্ষতিগ্রস্ত হয় না, বরং সাধারণ জনগণের আস্থা ও প্রশাসনের স্বচ্ছতাও প্রশ্নের মুখে পড়ে।
তদন্তকরলে উত্থাপিত অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হবে, এবং তা সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা, দুর্নীতি দমন আইন এবং প্রশাসনিক নীতিমালার গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে।
সিটি কর্পোরেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত প্রাপ্ত অভিযোগ ও তথ্যের ভিত্তিতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা, যাতে প্রশাসনে শৃঙ্খলা ও জনআস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।


More News Of This Category
bdit.com.bd