ভারতে অবস্থান, বিশেষ সহায়তা ও অনুপ্রবেশ অভিযোগ ঘিরে নতুন বিতর্ক
এ বছরের শুরুর দিকে বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা যায়, ভারতে বর্তমানে আওয়ামী লীগের প্রায় ৪৫ হাজার নেতাকর্মী অবস্থান করছেন। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর যারা ভারতে প্রবেশ করেছেন, তাদের একটি বড় অংশ বৈধ পাসপোর্ট ও ভিসা ছাড়াই দেশটিতে প্রবেশ করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করছে, পরবর্তীতে ভারতের অভিবাসন সংস্থার সহায়তায় ওইসব ব্যক্তির মধ্য থেকে কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চলে যাওয়ার সুযোগ পান। অভিযোগ অনুযায়ী, এই বিশেষ সুবিধা কেবল তাদেরই দেওয়া হয়, যাদের ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ‘গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে বিবেচনা করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিসা ছাড়া অবৈধপথে ভারতে প্রবেশ করে পরে অন্য দেশে যাওয়া স্বাভাবিকভাবে সহজ নয়। এমনকি নিজস্ব পাসপোর্ট থাকলেও ভারত ত্যাগের সময় দেশটির ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ প্রবেশের রেকর্ড যাচাই করে। প্রবেশের বৈধ নথি বা ভিসা না থাকলে সাধারণত আটক হওয়ার নিয়ম রয়েছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, বিশেষ সংস্থার সহায়তা থাকলে এসব নিয়ম এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
এ প্রসঙ্গে আরও অভিযোগ উঠেছে, যারা প্রকাশ্যে বাংলাদেশে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর ভূমিকা নিয়ে উচ্চকণ্ঠ সমালোচনা করেন, তারা কখনোই ওই সংস্থার কোনো কর্মকর্তা বা নির্দিষ্ট পরিচয় প্রকাশ করেন না। বরং যখনই সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম প্রকাশ্যে আসার আশঙ্কা তৈরি হয়, তখনই ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’-এর তৎপরতা দেখা যায় বলে দাবি করা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে এক ব্যক্তির বক্তব্য ঘিরে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র থেকে অনুপ্রবেশকারী আততায়ীদের সঙ্গে কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি সংগঠনের কোনো সম্পর্ক নেই। একই সঙ্গে ওসমান হাদীকে হত্যার উদ্দেশ্যে সংঘটিত হামলার ঘটনায় একটি ‘খুনি চক্রকে আড়াল করার চেষ্টা’ চলছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তবে সমালোচকদের প্রশ্ন, যারা allegedly হাজার হাজার রাজনৈতিক কর্মীকে আশ্রয় দিয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে জাল টাকা ও অস্ত্র প্রবাহের মাধ্যমে বাংলাদেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার অভিযোগ রয়েছে এবং যারা নির্বাচনের আগে সহিংস পরিস্থিতি সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে বলে অভিযোগ—তাদের কার্যক্রম স্বীকার করতে সংশ্লিষ্টদের অনীহা কেন?
আল-জাজিরার সাংবাদিক জুলকারনাইনের ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করা তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশে অনুপ্রবেশকারী আততায়ীদের নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তি হিসেবে গৌতম কুমার শীলের নাম উঠে আসে। একই পোস্টে ইসরায়েলের লিকুদ পার্টির নেতা মেনদি সাফাদির সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ শিব সেনার সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ ঘোষের সংশ্লিষ্টতার কথাও উল্লেখ করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রদীপ ঘোষ ভারতের একটি বিশেষ সংস্থার হয়ে বাংলাদেশে তাদের রাজনৈতিক আদর্শ বিস্তারে কাজ করেন।
এছাড়া সুশান্ত কেশরি সুমন, ওরফে সুব্রত সুমন সম্পর্কে দাবি করা হয় যে, তিনি Indian Importers Chambers of Commerce and Industries (IICCI)-এর পরিচয়ে বাংলাদেশে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা R&AW-এর হয়ে একটি নির্দিষ্ট সময় কাজ করেছেন। একই ব্যক্তি গত ১৫ জানুয়ারি ২০২৫ কলকাতার পার্ক হোটেলে অনুষ্ঠিত একটি সভায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ একাধিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বলেও অভিযোগ করা হয়।
উল্লিখিত অভিযোগ ও তথ্যগুলো সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য ছাড়া নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।