কোটা আন্দোলনের মূল নেতৃত্বে বিএনপি—স্বৈরশাসন আমলে সরাসরি অভিযোগ করেছিলেন ওবায়দুল কাদের
৩ আগস্ট ২০২৫ | ঢাকা | দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ | জনতার কণ্ঠস্বর
বিগত স্বৈরশাসনামলের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ছাত্র আন্দোলনের পটভূমিতে ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছিলেন—কোটা সংস্কার আন্দোলনের পেছনে সবচেয়ে বড় এবং সক্রিয় ভূমিকা রাখছে বিএনপি।
ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন,
“এই আন্দোলন কেবল শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ নয়, বরং বিএনপি নেতৃত্বাধীন একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক উস্কানি। বিএনপি না থাকলে এই আন্দোলন এভাবে বিস্তৃত হতো না।”
“ষড়যন্ত্র আছে আন্দোলনের ভিতরে” — আওয়ামী লীগের সন্দেহ
ওই সময় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা একের পর এক অভিযোগে বলেন, আন্দোলনের নেতৃত্বে যারা রয়েছেন, তাদের অনেকেই বিএনপি ঘনিষ্ঠ ছাত্রসংগঠনের সঙ্গে যুক্ত এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় বিএনপিপন্থী বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছেন। আন্দোলনের ভাষ্য, দাবি এবং বক্তব্যে বিএনপির রাজনৈতিক রূপ স্পষ্ট।
ওবায়দুল কাদের বলেন, “আন্দোলনের গতি-প্রকৃতি এবং প্রচারে ষড়যন্ত্রের গন্ধ আছে। এটি নিছক ন্যায্য দাবির লড়াই নয়, বরং রাজনৈতিকভাবে রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার চক্রান্ত।”
আদালতের আদেশ ও কোটার বাস্তবতা
প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে কোটা পদ্ধতি বাতিল করে সরকার একটি পরিপত্র জারি করেছিল। পরবর্তীতে সাতজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হাইকোর্টে রিট করে সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানালে আদালত পরিপত্র বাতিল করে দেয়। সরকার তখন আপিল করে, যা এখনও সর্বোচ্চ আদালতে বিচারাধীন।
ওই প্রেক্ষাপটে ওবায়দুল কাদের মন্তব্য করেন,
“বিচারাধীন একটি বিষয়ে রাজনৈতিক দল প্রকাশ্যে পক্ষ নিতে পারে না। বিএনপির এই হস্তক্ষেপ বিচার ব্যবস্থার প্রতি অবজ্ঞা ও ষড়যন্ত্রের পরিচায়ক।”
আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন
ওই সময় ওবায়দুল কাদের আরও দাবি করেন, আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রদের অনেকেই বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে ব্যর্থ হয়েছেন। ফলে এই আন্দোলনের নেপথ্যে ব্যক্তিগত হতাশা, ব্যর্থতা ও রাজনৈতিক প্রতিশোধস্পৃহা থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি বলেন,
“৩১ জন আন্দোলনকারী ছাত্র বিসিএস-এ উত্তীর্ণ হতে পারেননি। সেটাই তাদের ক্ষোভের প্রধান উৎস। এখন তারা রাজনৈতিক ইন্ধনে পথে নেমেছে।”
সরকারের হুঁশিয়ারি ও নজরদারি
স্বৈরশাসনের সময় কঠোর প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ থাকা অবস্থায়ও সরকার এই আন্দোলনের প্রতি নজর রাখছিল বলে তখন জানা যায়। আওয়ামী লীগের নেতারা তখন বারবার সতর্ক করে বলেন,
“যদি আন্দোলনের নামে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র হয়, তবে তা কঠোরভাবে দমন করা হবে।”
২০২৪ সালের ৩ আগস্টের এই বক্তব্য ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণ আজও স্মরণযোগ্য, কারণ সেটি কোটা আন্দোলনের রাজনৈতিক মাত্রা স্পষ্ট করে দিয়েছিল। একদিকে যেখানে আন্দোলনকারীরা দাবি করছিলেন প্রশাসনিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই, অন্যদিকে সরকার এটিকে বিএনপির কৌশলগত আন্দোলনভিত্তিক রাজনীতির অংশ হিসেবে চিহ্নিত করেছিল।
এই ঘটনার মধ্য দিয়েই স্পষ্ট হয়েছিল, বাংলাদেশে ছাত্র আন্দোলন মানেই নিছক ছাত্ররাজনীতি নয়, বরং বৃহত্তর ক্ষমতা-রাজনীতির গভীর ছায়া এতে জড়িত।
বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ ডেস্ক
দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ | জনতার কণ্ঠস্বর