কেশবপুরের ২ হাজার পরিবার পানিবন্ধি, মানবেতর জীবন; এমপি প্রার্থী আজাদের হস্তক্ষেপ কামনা
রিপোর্ট: হাফিজুর রহমান কেশবপুর প্রতিনিধি
৩১জুলাই ২০২৫
যশোরের কেশবপুর উপজেলার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা দীর্ঘদিন থেকে নাজুক অবস্থায় রয়েছে। সম্প্রতি বর্ষার অতিরিক্ত পানি ও নদ-নালা ভরাট হওয়ায় পৌরসভা ও আশপাশের নিম্নাঞ্চলগুলি স্থায়ী জলাবদ্ধতায় ভুগছে। ফলে প্রায় ২ হাজার পরিবার পানিবন্ধি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
হরিহর ও বুড়িভদ্রা নদীর নাব্যতা কমে যাওয়া এবং অপরিকল্পিত মাছের ঘের গঠন ও খালের কচুরিপানা ভরাটের কারণে পানি দ্রুত নিষ্কাশন হচ্ছে না। সামান্য বৃষ্টিতেই শহরের আলতাপোল, মধ্যকুল, ভবানিপুর, সাহাপাড়া, হাবাসপোলসহ সদর ও মঙ্গলকোট ইউনিয়নের বহু গ্রামের নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। বাসিন্দারা বাধ্য হয়ে যশোর-সাতক্ষীরা সড়কের পাশে আশ্রয় নিয়েছেন।
পাইকারি কাঁচাবাজার, ধান হাট, হলুদ হাটসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোও পানিতে ডুবে যাওয়ায় কৃষকরা ফসল বিক্রির সুযোগ পাচ্ছেন না। কৃষি অফিস জানিয়েছে, চলতি বৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের বরাদ্দকৃত অর্থের একটি বড় অংশ দুর্নীতির শিকার হওয়ার কারণে নদী খনন ও খাল পরিষ্কারের কাজ স্থবির রয়েছে। ফলে হরিহর নদীর পলি ভরাট এবং বড়পীঠ খালের কচুরিপানা অপসারণের কাজ হচ্ছে না।
কেশবপুর পৌর যুবদলের সদস্য সচিব মেহেদী হাসান বিশ্বাস জানান, আলতাপোল এলাকায় দেড় শতাধিক পরিবার প্রায় এক মাস ধরে পানিবন্দি রয়েছেন। উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলাউদ্দীন আলা জানিয়েছেন, তার ইউনিয়নের অন্তত দুই শতাধিক পরিবার পানিবন্ধি।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সুমন সিকদার জানিয়েছেন, মঙ্গলকোট থেকে আপার ভদ্রা নদীর ৩.৭৫ কিলোমিটার দীর্ঘ নদী খননের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। কাজ সম্পন্ন হলে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের সুযোগ তৈরি হবে।
স্থানীয় মানুষের জীবনমান দ্রুত স্বাভাবিক করার জন্য এমপি প্রার্থী আজাদের হস্তক্ষেপ কামনা করা হচ্ছে। তারা আশাবাদী, তাঁর উদ্যোগে দ্রুত পানি নিষ্কাশন ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে স্পষ্ট যে, সাময়িক রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতিই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন কার্যকর প্রশাসনিক জবাবদিহিতা, সঠিক পরিকল্পনা ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপের। মানুষ যা দাবি করছে তা সঠিক—দ্রুত ব্যবস্থা এবং দুঃস্থ মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য দায়ী কর্তৃপক্ষকে এগিয়ে আসতে হবে।
কেশবপুরের এই জটিল পরিস্থিতি শুধু পানি উন্নয়ন বোর্ড বা স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্ব নয়। এটি একটি সমন্বিত ও সুপরিকল্পিত জাতীয় উদ্যোগের বিষয়, যেখানে স্থানীয় নেতাদের পাশাপাশি সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নজর ও স্বচ্ছতা অপরিহার্য।
আপনার কাছে প্রশ্ন থেকে যায়—
এই মানবিক বিপর্যয়ের শেকড় থেকে মুক্তির পথ কি একক এমপি প্রার্থীর পদক্ষেপে সীমাবদ্ধ, নাকি দেশের সামগ্রিক প্রশাসনিক সংস্কারে বিনিয়োগ ও মনোযোগই চূড়ান্ত সমাধান?
আপনি কি এই পরিস্থিতির দ্রুত সমাধানে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ যথেষ্ট মনে করেন? নাকি দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত সংস্কার ও জবাবদিহিতা ছাড়া এ সমস্যা দূর হবে না? আপনার মতামত জানতে আগ্রহী।