কুষ্টিয়ার সাবেক এসপি তানভীর আরাফাতকে বিএনপি নেতা কুদরত হত্যা মামলায় পুনরায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো
ডেইলি বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ রিপোর্ট
২৮ জুলাই, ২০২৫ | কুষ্টিয়া
বিএনপি কর্মী কুদরত আলীকে গুলি করে হত্যার মামলায় কুষ্টিয়ার বিতর্কিত সাবেক পুলিশ সুপার এস এম তানভীর আরাফাতকে আবারও গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। সোমবার দুপুর ১টা ৪১ মিনিটে কড়া নিরাপত্তায় তাকে কারাগার থেকে কুষ্টিয়া আদালতে হাজির করা হয়। দৌলতপুর আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তফা পারভেজ তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আবার কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে বিএনপির আরেক কর্মী সুজন মালিথাকে হত্যার মামলায় তানভীর আরাফাত গ্রেপ্তার হন এবং তখন থেকেই তিনি কারাগারে আছেন।

মামলার বাদী কুদরত আলীর ছেলে এজাহারে লিখেছেন, “আমার বাবা কুদরত আলী দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির সক্রিয় কর্মী ছিলেন। তার জনপ্রিয়তা ও রাজনৈতিক সক্রিয়তা আওয়ামী লীগ ও সুবিধাভোগী পুলিশের চোখে শত্রুতে পরিণত হয়।”
তিনি আরও জানান, ২০২০ সালের ২৩ জুলাই গভীর রাতে কুদরত আলীকে নিজ বাড়ি মুন্সিগঞ্জ থেকে তুলে নিয়ে যায় এসআই রোকনুজ্জামান, এসআই মেহেদী হাসান, ওসি তদন্ত নিশিকান্ত সরকারসহ অজ্ঞাত ১০-১২ জন পুলিশ। পরবর্তীতে ২৫ জুলাই কুদরত আলীর গুলিবিদ্ধ ও নির্যাতিত মরদেহ কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাওয়া যায়। তার বুকে, পিঠে, মুখে ও দুই হাতে নির্যাতনের চিহ্ন ছিল।
বাদীর অভিযোগ, এসপি তানভীর আরাফাত ছিলেন এই হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী। ৫ আগস্ট ২০২৫ শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর পরিবারের পক্ষ থেকে সাহস করে মামলা দায়ের করা হয়।
এর আগে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার টাকিমারা গ্রামের বিএনপি কর্মী সুজন মালিথাকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় তানভীর আরাফাতের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা দায়ের হয়। ২০১৯ সালের ১৩ সেপ্টেম্বরের সেই ঘটনায় ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ১০-১২ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে কুষ্টিয়া মডেল থানায় মামলা করেন নিহতের রাজনৈতিক বড় ভাই সুজন হোসেন।
তানভীর আরাফাত খুলনার খালিশপুর উপজেলার বাসিন্দা। কুষ্টিয়ায় দায়িত্ব পালনকালে বারবার নানা বিতর্কে জড়ান। রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ, দমন-পীড়ন ও বিচারবহির্ভূত কর্মকাণ্ডে তার নাম জড়ায় বহুবার। বিএনপি নেতাকর্মীরা তাকে “কুষ্টিয়া কিলার তানভীর” নামে আখ্যা দেন।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোলাইমান শেখ জানান, “মামলার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তানভীর আরাফাতকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আদালতের নির্দেশেই তা কার্যকর করা হয়েছে।”
এতদিন ধরে যিনি বিভিন্ন মামলায় নাম উঠে এলেও প্রভাব ও রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় পার পেয়ে গেছেন, অবশেষে কি তার বিচার হবে? নাকি এই গ্রেপ্তারের নাটক আবারও ‘পাওয়ার শিফট’-এর রাজনীতিতে চাপা পড়ে যাবে?
তানভীর আরাফাতের গ্রেপ্তার শুধু একটি আইনি পদক্ষেপ নয়—এটি একটি যুগান্তকারী মুহূর্ত, যেখানে পুলিশ প্রশাসনের ভেতরে লুকিয়ে থাকা রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের মুখোশ খুলে দিতে পারে নতুন দিনের রাজনীতি।
তথ্যসূত্র: সংরক্ষিত নথি, এজাহার কপি, থানার বিবৃতি, এবং আদালত পর্যবেক্ষণ
(রিপোর্টিং ডেস্ক: ডেইলি বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ)