৭ আগস্ট ২০২৫
জনতার কণ্ঠস্বর ডেস্ক
কুড়িগ্রামের উলিপুরে সমাজসেবা কর্মকর্তা সেজে প্রতারণা, জনতার হাতে যুবক আটক
রফিকুল ইসলাম রফিক, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার অসহায় জনগোষ্ঠীকে সরকারি সহায়তার আশ্বাস দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণার জাল বুনছিলেন মাইনুল ইসলাম (২২)। সমাজসেবা কর্মকর্তার ভুয়া পরিচয়ে তিনি বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতাসহ বিভিন্ন সরকারি ভাতার প্রলোভনে সংগ্রহ করতেন জাতীয় পরিচয়পত্র, ছবি ও ব্যক্তিগত তথ্য। কিন্তু স্থানীয় জনসচেতনতায় ধরা পড়লেন জনতার হাতে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাইনুল ধরনীবাড়ি ইউনিয়নের কিশামত মালতিবাড়ি এলাকার নুর হোসেনের ছেলে। নিজেকে সমাজসেবা কর্মকর্তা দাবি করে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে দরিদ্র, অসচেতন মানুষদের টার্গেট করতেন। ভাতা পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আইডি কার্ডের ফটোকপি ও ছবি নিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিতেন।
এক ভুক্তভোগী জানান, “আইডি কার্ড আর ছবি নিয়ে গিয়েছিলেন, এরপর আর খোঁজ মিলল না। পরে জানতে পারলাম তিনি অফিসের লোকও নন।”
বৃহস্পতিবার (৭ জুলাই) বুড়াবুড়ি ইউনিয়নে একই কৌশলে টাকা নেওয়ার সময় স্থানীয়রা সন্দেহ করে তাকে আটক করেন। পরে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ করা হয়।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা লুৎফর রহমান নিশ্চিত করেন, মাইনুল কখনো সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মকর্তা ছিলেন না। তিনি প্রতারণায় বহু মানুষের ক্ষতি করেছেন।
ঘটনার তদন্তের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নয়ন কুমার সাহা এবং উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জিল্লুর রহমানকে অবহিত করা হয়েছে। বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের সমাজসেবা কর্মচারী বিপুল মিয়া উলিপুর থানায় মামলাও দায়ের করেছেন।
সমাজসেবা কর্মকর্তারা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, আরও অনেকে হয়তো এখনো প্রতারণার শিকার কিন্তু জানেন না। তাই তারা সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছেন।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা লুৎফর রহমান বলেন, “পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনসাধারণকে আরও সচেতন হতে হবে যেন কেউ সহজে প্রতারিত না হন।”
এ ঘটনায় শুধুমাত্র একজনের অপরাধ নয়, এটি সামাজিক দুর্বলতা এবং ব্যবস্থাপনার অভাবের ইঙ্গিত দেয়। দরিদ্র, অশিক্ষিত মানুষের দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে প্রতারকরা সক্রিয় থাকে। তাই সরকারি অফিস এবং জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা প্রকাশ পেয়েছে।
সরকারি সুবিধা নিতে কখনোই কারো কাছ থেকে টাকা বা ব্যক্তিগত তথ্য না দিন। সরকারি ভাতা ও সহায়তা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রদান করা হয়। সন্দেহজনক কোনো ব্যক্তি বা কর্মকাণ্ড দেখলে নিকটস্থ সমাজসেবা কার্যালয় বা থানায় অবিলম্বে জানান।