ডেইলি বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ | ২৫ জুলাই ২০২৫
প্রতিবেদক: হাফিজুর রহমান, কালীগঞ্জ (সাতক্ষীরা)
সাতক্ষীরার কালীগঞ্জে প্রেমের প্রলোভনে এক যুবতীকে বারবার ধর্ষণ, গর্ভপাত এবং পরবর্তীতে তাকে ত্যাগ করার ঘটনায় অভিযুক্ত সাব্বির আহমেদ (২৪) নামে এক তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে ঢাকার খিলক্ষেত থানাধীন নিকুঞ্জ-২ এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া সাব্বির আহমেদ কালীগঞ্জ উপজেলার ভাড়া শিমলা ইউনিয়নের পূর্ব নারায়ণপুর গ্রামের মহাসিন গাজীর ছেলে। কালীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সমীর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করেন।
থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাফিজুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, “ভুক্তভোগীর দায়ের করা ১৯ নম্বর মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সাব্বিরকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।”
ভুক্তভোগী ইভা (ছদ্মনাম), কালীগঞ্জ উপজেলার শীতলপুর গ্রামের ফজলুর রহমানের কন্যা। তিনি জানান, নলতা এলাকার একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে গিয়ে সাব্বিরের সঙ্গে পরিচয় হয়। এরপর সাব্বির প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে দীর্ঘদিন উত্ত্যক্ত করে। প্রথমে রাজি না হলেও পরে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাকে ঢাকায় নিয়ে যায় এবং বিভিন্ন বাসায় রেখে বারবার শারীরিক সম্পর্ক করে।
এক পর্যায়ে ইভা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে সে বিয়ের জন্য চাপ দিলে, সাব্বির তাকে ২০২৪ সালের ৮ এপ্রিল নলতা সেবা ক্লিনিকে নিয়ে যায় এবং অজ্ঞান করে গর্ভপাত ঘটায়। এরপর আবারো বিয়ের আশ্বাসে ২১ জুলাই তাকে ঢাকার খিলক্ষেতের নিকুঞ্জ-২ এলাকায় নিয়ে যায় এবং ফের জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।
সবশেষে ১ জুলাই ওই বাসা থেকে তাড়িয়ে দিয়ে সাব্বির বিদেশে পালানোর প্রস্তুতি নেয়। ভুক্তভোগী মেয়েটি বাড়িতে ফিরে পরিবারের সদস্যদের জানালে পরামর্শক্রমে থানায় মামলা করেন।
এই ঘটনা শুধু একজন নারীর জীবনকেই বিপর্যস্ত করেনি, বরং সমাজের নৈতিক ও মানবিক দায়বদ্ধতার প্রশ্নও সামনে এনেছে। প্রতারণা ও জোরপূর্বক সম্পর্ক, গর্ভপাত এবং নারীর প্রতি সহিংসতার এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় নাগরিক সমাজ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো।
এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে প্রশাসনের পাশাপাশি সামাজিকভাবে সচেতনতা, নারী নিরাপত্তা এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ জরুরি হয়ে উঠেছে। এখন সময়, অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে ন্যায় ও মানবাধিকারের পক্ষে শক্ত অবস্থান নেওয়ার।