কাওরান বাজারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ক্যাডার বাহিনীর মরণকামড়: নেপথ্যে লোকমান সিন্ডিকেট ও কতিপয় সুবিধাবাদী বিএনপি কর্মীর আঁতাত
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের একচ্ছত্র আধিপত্যের কেন্দ্রবিন্দু ছিল রাজধানীর কাওরান বাজার। ৫ই আগস্ট ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশত্যাগ করলেও তার রেখে যাওয়া বিশাল ক্যাডার বাহিনী এবং ২৬ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক লোকমান হোসেনের সিন্ডিকেট এখনো বাজারে সক্রিয় রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বিগত ১৭ বছর যারা আওয়ামী লীগের ‘পা চাটা কুকুর’ হিসেবে পরিচিত ছিল, তারা এখন বিএনপির কিছু লোভী ও সুবিধাবাদী কর্মীর সাথে হাত মিলিয়ে নতুন করে যড়যন্ত্র শুরু করেছে। তাদের মূল লক্ষ্য—বিগত ১৭ বছরের ত্যাগী বিএনপি নেতাকর্মীদের নির্মূল করা এবং বাজারে চাঁদাবাজির রাজত্ব কায়েম রাখা।

ষড়যন্ত্রের নীল নকশা ও টার্গেট
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২৬ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক লোকমান হোসেন পলাতক থাকলেও তার ডান হাত ও বাম হাত হিসেবে পরিচিত ক্যাডাররা এখনো কাওরান বাজারের কিচেন মার্কেট ও সংলগ্ন এলাকায় বিচরণ করছে। এই চক্রটি এখন অভিনব কৌশল গ্রহণ করেছে। তারা বিএনপির দুঃসময়ের রাজপথের কান্ডারিদের সামাজিকভাবে হেয় করতে বিভিন্ন টিভি চ্যানেল বা মিডিয়াকে টাকা দিয়ে ভাড়া করে এনে ‘চাঁদাবাজ’ আখ্যা দিয়ে ভুয়া নিউজ করাচ্ছে। এর পেছনে রয়েছে সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্র—যাতে ত্যাগী নেতাদের বিতর্কিত করে সরিয়ে দিয়ে আওয়ামী লীগের দোসররা পুনরায় নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায়।
শহীদ ও নির্যাতিতদের অবমাননা
বিগত আন্দোলনে কাওরান বাজার এলাকায় যারা বুক পেতে লড়াই করেছেন, তাদের ওপর এখন নেমে আসছে আওয়ামী লীগের প্রেতাত্মাদের খড়গ। স্বেচ্ছাসেবক দলের মুসাব্বির এবং যুবদলের আব্দুর রহমান—এই দুজনকে নিয়ে একটি গভীর ষড়যন্ত্র আঁকা হয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে একজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে এবং অন্যজনকে চাঁদাবাজ বলে প্রচার করে মাঠ থেকে সরানোর চেষ্টা চলছে। অথচ এই মুসাব্বির ও আব্দুর রহমান বিগত ১৭ বছর আওয়ামী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে সম্মুখ সমরে লড়েছেন।

খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে
অভিযোগ রয়েছে, কাওরান বাজারে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে যারা বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছিল, তারা এখনো এলাকায় বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এরা সবাই লোকমান হোসেনের বিশ্বস্ত ক্যাডার। ভুক্তভোগীদের দাবি, এদের গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিলে বিগত ১৭ বছরের গুম, খুন এবং অর্থপাচারের চাঞ্চল্যকর সব তথ্য বেরিয়ে আসবে। অথচ কিছু নামধারী বিএনপি কর্মী ব্যক্তিগত লাভের আশায় এই খুনিদের আশ্রয়-প্র প্রশ্রয় দিচ্ছে।
বিএনপির সিনিয়র নেতৃত্ব ও প্রশাসনের প্রতি আহ্বান
দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে যারা জেল-জুলুম সহ্য করে বিএনপিকে টিকিয়ে রেখেছে, আজ তারা নিজ ঘরেই পরবাসী। এলাকার সাধারণ মানুষের দাবি: ১. কাওরান বাজারে লোকমান সিন্ডিকেটের যে ক্যাডাররা এখনো অবস্থান করছে, তাদের অবিলম্বে আইনের আওতায় আনতে হবে। ২. যেসকল তথাকথিত বিএনপি কর্মী আওয়ামী দোসরদের সাথে হাত মিলিয়ে ত্যাগী নেতাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে, তাদের চিহ্নিত করে দল থেকে বহিষ্কার করতে হবে। ৩. প্রশাসনকে নিশ্চিত করতে হবে যে, আওয়ামী লীগের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে কেউ যেন ভুয়া তথ্য দিয়ে মিডিয়াকে ব্যবহার করতে না পারে।

সজাগ থাকো বাংলাদেশ: ষড়যন্ত্র হয়নি শেষ
কাওরান বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, খুনি আসাদুজ্জামান খান কামালের প্রেতাত্মারা এখনো সক্রিয়। তারা চাচ্ছে বিএনপিকে ভেতর থেকে ভেঙে দিতে এবং আগামী নির্বাচনকে বানচাল করতে। এই কিচেন মার্কেট ছিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আর্থিক শক্তির প্রধান উৎস, আর লোকমান ছিল তার প্রধান সংগ্রাহক। এই চক্রটিকে সমূলে উৎপাটন করা না গেলে কাওরান বাজারে শান্তি ফিরবে না এবং শহীদদের রক্ত বৃথা যাবে।
“বিচার কিন্তু হবেই—আজ হোক বা কাল হোক। আওয়ামী লীগের দোসরদের আর ছাড় দেওয়া হবে না।” — এমনটাই হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন কাওরান বাজারের সাধারণ ব্যবসায়ী ও নির্যাতিত নেতাকর্মীরা।