দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ
জনতার কণ্ঠস্বর
তারিখ: ৩ আগস্ট ২০২৫
আলোচনার বাইরে “জুলাই ঘোষণাপত্র” প্রত্যাখ্যান করবে গণঅধিকার পরিষদ
আজ রোববার সকালে রাজধানীর পুরানা পল্টনের আলরাজি কমপ্লেক্সস্থ দলীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে গণঅধিকার পরিষদ। সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে অনুষ্ঠিত এই সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ রাশেদ খান লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। তিনি বলেন, বিপ্লবের অংশীজনদের সাথে আলোচনা ও স্বীকৃতি ছাড়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ঘোষিত “জুলাই ঘোষণাপত্র” গণঅধিকার পরিষদ প্রত্যাখ্যান করবে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, একই বক্তব্য গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পোস্টেও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।
রাশেদ খান বলেন, “জুলাই বিপ্লব কোনও একক সংগঠনের কৃতিত্ব নয়, বরং এটি ১৪-১৫ বছরের গণতান্ত্রিক সংগ্রাম ও প্রতিরোধের চূড়ান্ত প্রকাশ।” তিনি মনে করিয়ে দেন, ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে কোটা প্রথা বিলুপ্ত হলেও ২০২৪ সালের ৫ জুন হাইকোর্টের রায়ে ৩০% কোটা ফিরিয়ে আনার পটভূমিতে নতুন করে শিক্ষার্থীদের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন শুরু হয়, যা পরবর্তীতে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনে রূপ নেয়।
সংগঠনটি দাবি করে, জুলাই বিপ্লবের শিকড় অনেক গভীরে—
২০১৩ সালের শাপলা চত্বরে আলেম-ওলামার উপর গণহত্যা,
২০১৫ সালের ভ্যাট বিরোধী আন্দোলন,
২০১৮ সালের কোটা ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলন,
২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে কারচুপি,
আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ড,
২০২১ সালের মোদি বিরোধী আন্দোলন,
একতরফা নির্বাচন ও শিক্ষাঙ্গনে মাফিয়া নিয়ন্ত্রণ—সবই এই বিপ্লবের প্রেক্ষাপট গড়ে তোলে।
তিনি আরও বলেন, “২০১৮ সালের ১১ এপ্রিল শেখ হাসিনা সংসদে দাঁড়িয়ে ‘আর কোনো কোটা থাকবে না’ বলে যে ঘোষণা দেন, তা ছিল শিক্ষার্থীদের অসাধারণ বিজয়ের প্রতীক। কিন্তু ২০২৪ সালে সেই অর্জনকে ভূলুণ্ঠিত করা হলে নতুন প্রজন্ম রাজপথে নামে, এবং হাসিনা সরকারের গুলির মুখে দাঁড়িয়ে তারা একটি ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান গড়ে তোলে।”
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “জুলাই একক কারও সম্পত্তি নয়। যদি কোনও দলকে খুশি করতে ঘোষণাপত্র তৈরি করা হয়, তা হবে ৭১-এর ইতিহাসের মতো ২০২৪-এর গণআন্দোলনকে বিকৃত করার সামিল। এই চেতনার বিপরীত কোনও পদক্ষেপ আমরা মেনে নেব না।”
সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের উচ্চতর পরিষদের সদস্য আবু হানিফ। আরও বক্তব্য রাখেন সিনিয়র সহ-সভাপতি ফারুক হাসান, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুন, উচ্চতর পরিষদের সদস্য শাকিল উজ্জামান, শহিদুল ইসলাম ফাহিম, এডভোকেট সরকার নুরে এরশাদ সিদ্দিকী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জিলু খান, সহ-দপ্তর সম্পাদক শাহ মুহাম্মদ সাগর এবং ছাত্র অধিকার পরিষদের ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আখতারুজ্জামান সম্রাট।
গণঅধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, একটি বহুত্ববাদী, গণতান্ত্রিক ও অংশগ্রহণমূলক বাংলাদেশ গড়ার জন্য “জুলাই বিপ্লবের” পূর্ণাঙ্গ স্বীকৃতি এবং সকল অংশীজনের সম্মিলিত মতামতের ভিত্তিতে ঘোষণাপত্র রচনা আবশ্যক।
বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ ডেস্ক
www.bangladeshprothomsangbad.com