“আমি ছিলাম রাজা, আর আমার মন্ত্রী ছিল আমার স্বামী” — এক সাহসিনী নারীর গল্পে স্তব্ধ ইন্টারভিউ বোর্ড
রিপোর্ট ঢাকা:সিনিয়র এডিটর জান্নাতুল মিম
কখনো কখনো একটি সাদা কাগজে লেখা কয়েকটি শব্দ, আর একটি নরম অথচ দৃঢ় কণ্ঠ মানুষের হৃদয়কে ঝাঁকুনি দিতে পারে।
ঠিক তেমনটাই ঘটেছিল এক মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির চাকরির ইন্টারভিউ বোর্ডে, যেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন এক সাহসিনী নারী—সুস্মিতা সাহা। তিনি ছিলেন নিহত এএসপি পলাশ সাহার স্ত্রী।
সাধারণ একটি প্রশ্নোত্তর পর্বের মধ্যে যে এমন এক মর্মস্পর্শী বাস্তবতা ধরা দেবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেননি।
সিভি দেখে এমডি সাহেব প্রথমে জানতে চাইলেন, “আপনার প্রত্যাশিত বেতন কত?”
সুস্মিতা শান্তভাবে বললেন, “কমপক্ষে এক লাখ টাকা।”
এই আত্মবিশ্বাসের পেছনে লুকিয়ে ছিল একটি বিধ্বস্ত অথচ দৃঢ় হৃদয়। পরের প্রশ্ন ছিল, “আপনি কি কোনো খেলা পছন্দ করেন?”
তিনি বললেন, “আমি দাবা খেলতে খুব ভালোবাসি।”
আলোচনা গড়াল দাবার ঘুঁটির দিকে। কোনটি প্রিয়?
সুস্মিতা বললেন, “মন্ত্রী।”
কেন?
তিনি ব্যাখ্যা দিলেন, “মন্ত্রী চলতে পারে কোণাকুণি, সোজাসুজি—রাজার ঢাল হয়ে দাঁড়াতে পারে।”
এমডি সাহেব বললেন, “তাহলে আপনি নিজেকে কী ভাবেন?”
সুস্মিতা বললেন, “রাজা।”
চমকে উঠলেন সবাই—একজন নারী নিজেকে ‘রাজা’ বলছেন!
কিন্তু ব্যাখ্যাটা ছিল এমন এক বাস্তবতায় মোড়ানো, যা চোখে জল এনে দেয়:
“আমি ছিলাম রাজা। আমার মন্ত্রী ছিল আমার স্বামী। সে সব সময় আমাকে আগলে রাখত। কিন্তু এখন সে নেই। তাই আমাকেই মন্ত্রী হতে হবে, আমাকেই আমার পরিবারকে আগলে রাখতে হবে।”
তাঁর চোখের কোণ বেয়ে নেমে এলো অশ্রু। ঘরে তখন পিনপতন নীরবতা।
কোন চাকরির প্রশ্ন আর কেউ করেনি।
এমডি উঠে দাঁড়ালেন, হাততালি দিয়ে বললেন, “আপনি একজন সাহসী নারী। আপনার জন্য শুভকামনা।”
এই গল্প কাল্পনিক হতে পারে, তবে এমন হাজারো বাস্তব ‘সুস্মিতা’ আজ বাংলাদেশ জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছেন। যাঁদের জীবন একদিন স্বপ্নে মোড়ানো ছিল, আর আজ তা লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে।
এদের জন্য দরকার শুধু একটা সুযোগ, একটা সহানুভূতির হাত, আর একটু সম্মান।