৩০ জুন ২০২৫
Daily Bangladesh Prothom Sangbad
আওয়ামী লীগের নতুন নাটক: ‘জুলাই মানেই মিথ্যা’, বিভ্রান্তি ঢাকতে পুরনো চালের নতুন কৌশল
১০ মাস আগে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি বহুল আলোচিত সময় ছিল ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট। বিদেশি রাষ্ট্রের অর্থায়ন ও কথিত ‘উগ্রবাদী অপশক্তির’ মদদে সংঘটিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ এটিকে ‘জুলাই দাঙ্গা’ নামে অভিহিত করে। সেই সময় যারা এর অংশ হয়েছিলেন—তা রাজনৈতিক হোক, সামাজিক হোক কিংবা পেশাগত—তাদের নিয়ে আজ নতুন এক বিবৃতি দিয়েছে আওয়ামী লীগ, যা কার্যত আত্মস্বীকৃতি, আত্মরক্ষার প্রচেষ্টা ও বিরোধী মত দমন নীতির ধারাবাহিকতা।
‘ভুল বুঝেছিল, এখন বুঝে গেছে’ — পুরনো ফর্মুলায় নতুন মোড়ক
আজ তাদের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে একটি পোস্টে আওয়ামী লীগ দাবি করে, অনেকেই নাকি এখন ভুল বুঝতে পেরে নিজেদের অবস্থান পর্যালোচনা করছেন। এই উপলব্ধিকে তারা ‘সাহসিকতার শুরু’ বলে অভিহিত করেছে, এবং আহ্বান জানিয়েছে—“আসুন, একসাথে দেশ ও দেশের মানুষের পাশে দাঁড়াই”।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই বার্তা আসলে একটা স্পিন—যেখানে তারা প্রতিবাদকারী জনগণ, পেশাজীবী সমাজ ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দোষী সাব্যস্ত করার এক কৌশল অবলম্বন করছে, আবার একইসাথে ক্ষমার মুখোশ পরে নিজেদের উদার প্রতিচ্ছবি উপস্থাপন করছে।
‘জুলাই মানেই মিথ্যা’ – নতুন ভিজ্যুয়াল প্রচারণা নিয়ে বিতর্ক
এই পোস্টের সঙ্গে প্রকাশিত হয়েছে একটি নতুন ভিজ্যুয়াল, যেখানে ‘জুলাই’ শব্দটিকে ‘lie’ (মিথ্যা) শব্দের সঙ্গে মিলিয়ে একধরনের মনস্তাত্ত্বিক বার্তা দেওয়া হয়েছে—“জুলাই মানেই ধোঁকা, জুলাই মানেই মিথ্যা, জুলাই একটি ষড়যন্ত্রের অধ্যায়”।
এই বার্তা অনেকের চোখে প্রতিশোধপরায়ণতা, আত্মপক্ষ সমর্থন এবং সত্য গোপনের প্রচেষ্টা হিসেবেই প্রতিভাত হয়েছে।
আওয়ামী লীগের বার্তা—ক্ষমা, সহমর্মিতা না রাজনৈতিক অবস্থান পুনর্দখলের চেষ্টা?
তাদের পোস্টে বলা হয়েছে, “আমরা সোশ্যাল মিডিয়ায় বা গণমাধ্যমে যাঁদের অনুশোচনা ও দুঃখ প্রকাশ করতে দেখছি—তাঁদের প্রতি আমাদের কোনো ক্ষোভ নেই।” অথচ, এই কথার পেছনেই রয়েছে এক অদৃশ্য চাপ, যা বোঝায়—“ভুল বুঝে থাকলে এখন ফিরে আসুন, নইলে আমরা পরিণাম জানি।”
নাটকের পরতে পরতে অভ্যন্তরীণ সঙ্কটের ছাপ
বিশ্লেষকদের ধারণা, এই বক্তব্য আসলে আওয়ামী লীগের ভেতরে এক গভীর অনিশ্চয়তার প্রতিচ্ছবি। শাসনক্ষমতা ধরে রাখতে তারা একদিকে ‘ক্ষমা’র মুখোশ পরে আবার অন্যদিকে জনগণের মধ্যকার মতবিরোধকে বিভক্ত করতে চায়—একদলকে ‘অনুতপ্ত’ বলে আলাদা করে, বাকিদের দমনযোগ্য করে তোলার মতো হীন কৌশল প্রয়োগ করছে।
শেষ কথায় বলা যায় —
এটি কি বাস্তব ‘ক্ষমাশীলতা’ নাকি জনগণের মনে ভয় ঢুকিয়ে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠার দুর্দান্ত প্রচেষ্টা?
সময়ই দেবে উত্তর।
—
তথ্যসূত্র: আওয়ামী লীগ অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ
ভিজ্যুয়াল বিশ্লেষণ: “জুলাই মানেই মিথ্যা” পোস্টার