অবৈধ গ্যাস সংযোগ উচ্ছেদে তিতাস গ্যাসের জোরালো অভিযান: কোটি টাকার গ্যাস চুরি রোধ, জরিমানা ও সংযোগ বিচ্ছিন্ন
ঢাকা, ২৪ জুলাই ২০২৫
মো. শাহজাহান বাশার | স্টাফ রিপোর্টার
জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং গ্যাস অপচয় রোধে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি সারাদেশে ধারাবাহিকভাবে পরিচালনা করছে সুনির্দিষ্ট, পরিকল্পিত ও কড়াকড়িভিত্তিক অভিযান। ২৩ জুলাই (বুধবার) বিভিন্ন স্থানে পরিচালিত পৃথক অভিযানে সহস্রাধিক অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে, জব্দ করা হয়েছে শত শত ফুট পাইপ, এবং আরোপ করা হয়েছে লক্ষাধিক টাকা জরিমানা।
ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ: শিল্পপ্রতিষ্ঠানে গোপন সংযোগ ও পুনরাবৃত্ত অপরাধ
তিতাস গ্যাসের জোবিঅ-এনায়েতনগর-কাশীপুর অঞ্চলে জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জনাব সিমন সরকারের নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে হাটখোলা, কাশীপুর, ফতুল্লা এলাকায় অবস্থিত মেসার্স ক্রোনি এপারেলস লিমিটেড কর্তৃক ২ ইঞ্চি ব্যাসের অবৈধ সার্ভিস লাইন স্থাপন করে বাইপাসের মাধ্যমে গ্যাস ব্যবহারের প্রমাণ মেলে।
প্রতিষ্ঠানটির সংযোগ তৎক্ষণাৎ বিচ্ছিন্ন করে উৎস পয়েন্ট থেকে স্থায়ীভাবে কিলিং করা হয়। উল্লেখযোগ্য যে, একই প্রতিষ্ঠান ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ এবং ১২ মার্চ ২০২৫ তারিখেও অনুরূপ অপরাধে অভিযুক্ত হয়ে সংযোগ হারায় এবং মামলাও বর্তমানে চলমান।
গাজীপুর: হোটেল রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে আবাসিকে গ্যাস চুরি
সাভার আঞ্চলিক বিক্রয় বিভাগের অভিযানে গাজীপুরের কাশিমপুর এলাকায় মেসার্স বিসমিল্লাহ হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট-এর অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।
প্রতিষ্ঠানটির মাসিক অনুমোদিত গ্যাস লোড ছিল ১,৭৩৩ ঘনমিটার, যার মাধ্যমে প্রায় ৫২,৮৫৭ টাকা মূল্যের গ্যাস চুরি হচ্ছিল বলে ধারণা করা হয়।
অন্যদিকে, মির্জাপুর রোড, বাংলাবাজার ও বাঘের বাজার এলাকায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মুশফিক-উল-আলম এর নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে ৫০টি অবৈধ দ্বিমুখী বার্নার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।
জব্দ করা হয় প্রায় ৩০০ ফুট বিভিন্ন ব্যাসের পাইপ এবং এক গ্রাহকের উপর ১ লক্ষ টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়।
সোনারগাঁও: গ্রামাঞ্চলে বড় পরিসরের চুরি, হাজারো বার্নার সংযোগ বিচ্ছিন্ন
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার কাঠালিয়াপাড়া ও নয়াপুর এলাকায় সিনিয়র সহকারী সচিব ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনিজা খাতুন এর নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে ৩.৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে প্রায় ৮৩০টি অবৈধ আবাসিক বার্নারের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।
সেইসঙ্গে ১৮০ ফুট এমএস পাইপ ও ৩৫০ ফুট প্লাস্টিক পাইপ জব্দ ও অপসারণ করা হয়।
তিতাস গ্যাসের অবস্থান: কঠোর ব্যবস্থা, নিয়মিত তদারকি
সবগুলো অভিযানে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি’র সংশ্লিষ্ট বিক্রয় বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন।
প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক (মিডিয়া ও জনসংযোগ) মোঃ আল আমিন বলেন,
> “অবৈধ গ্যাস সংযোগ রোধে আমাদের অভিযান নিয়মিত চলবে। গ্যাস অপচয়, চুরি ও নিরাপত্তা ঝুঁকি হ্রাসে সবাইকে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি আমরা কঠোর আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ অব্যাহত রাখব।”
শক্ত হাতে নিয়ন্ত্রণে তিতাস, বার্তা দেশব্যাপী
তিতাস গ্যাসের এই ধারাবাহিক অভিযান শুধুমাত্র গ্যাস চুরি বন্ধে নয়, বরং দেশের জ্বালানি ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় এক দৃঢ় পদক্ষেপ।
সংযোগ ব্যবহারে সতর্কতা না নিলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর পদক্ষেপ যে অনিবার্য—এই বার্তাই স্পষ্টভাবে পৌঁছে দিচ্ছে তিতাসের চলমান এ ধরণের উদাহরণস্বরূপ অভিযান।