৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫, সময়: বিকেল ৪:৩০
জনতার কণ্ঠস্বর ডেস্ক
অবৈধ উপার্জন, স্ত্রীর নীরবতা এবং পরকীয়ার মর্মান্তিক বাস্তবতা
সমাজে প্রায়শই দেখা যায় একজন পুরুষ ঘুষ, জালিয়াতি, চাঁদাবাজি বা অনৈতিক উপায়ে অর্থ উপার্জন করছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই স্ত্রী নীরব থাকেন। কেননা সেই অর্থ দিয়ে সন্তানদের ভালো স্কুলে পড়ানো যায়, আত্মীয়স্বজনের সামনে গর্ব করে চলা যায় এবং সংসারের বিলাসিতা পূরণ হয়। কিন্তু যখন সেই স্বামী অন্য নারীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে, তখনই স্ত্রীর চোখে পানি আসে, প্রতিবাদ শুরু হয়। অথচ প্রশ্ন থেকে যায় অবৈধ উপার্জনের সময় তিনি চুপ ছিলেন কেন।
মনোবিজ্ঞান কী বলে
মানসিকভাবে অযোগ্য হয়েও যখন একজন পুরুষ অতিরিক্ত অর্থ কামায়, তার ভেতর এক ধরনের সুপেরিয়রিটি কমপ্লেক্স তৈরি হয়। সে ভাবে আমি চাইলে সব পারি। এই অহংকার ধীরে ধীরে তাকে নৈতিকতা থেকে সরিয়ে দেয়। এরপর অতিরিক্ত অবসর, অযাচিত খরচ আর নতুন রোমাঞ্চ খোঁজা তাকে টেনে নেয় পরকীয়া, নেশা বা অপরাধের দিকে।
ইসলামের দৃষ্টিতে
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন
হারাম পন্থায় উপার্জিত প্রতিটি কণা জাহান্নামের দিকে টেনে নিয়ে যাবে। (তিরমিজি)
আরও বলা হয়েছে
যে ব্যক্তি হারাম খায়, তার দোয়া কবুল হয় না, ইবাদত গ্রহণ হয় না। (মুসলিম)
অতএব, স্বামী ঘুষের টাকা এনে দিলে নীরব থাকা মানে সেই অপরাধের অংশীদার হয়ে যাওয়া।
সামাজিক বাস্তবতা
আজকের সমাজে বহু সংসার ভেঙে যাচ্ছে। শুরুটা হয় অবৈধ আয়ে নীরব সম্মতি দিয়ে, শেষ হয় চোখের পানি ও বিচ্ছেদে। স্ত্রীরা প্রাথমিক পর্যায়ে যদি প্রতিবাদ করতেন, অনেক বিপর্যয় রোধ করা যেত।
শিশুদের উপর প্রভাব
মনোবিজ্ঞান গবেষণায় দেখা গেছে, অবৈধ অর্থে বেড়ে ওঠা শিশুরা অবচেতনভাবে মনে করে টাকা আসলেই লক্ষ্য, পথে সততা না থাকলেও চলে। এর ফলে ভবিষ্যতে তারা একই অনৈতিক পথে ঝুঁকে পড়ে। অর্থাৎ মায়ের নীরবতা শুধু সংসার নয়, পরবর্তী প্রজন্মকেও ধ্বংস করে।
আইনগত ঝুঁকি
অবৈধ আয় কেবল নৈতিক ক্ষতি নয়, এটি আইনগত বিপদও ডেকে আনে। দুর্নীতির মামলায় স্বামী গ্রেফতার হলে সমাজে লজ্জা, সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত, সন্তানের ভবিষ্যৎ ধ্বংস সব কিছুর মুখোমুখি হয় পরিবার।
বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি
নিউরোসায়েন্স অনুযায়ী অবৈধ অর্থ অর্জনের সময় মস্তিষ্কে ডোপামিন নিঃসরণ হয় যা নেশার মতো আনন্দ দেয়। ধীরে ধীরে সেই আনন্দে তৃপ্তি মেলে না, তখন নতুন উত্তেজনা খোঁজা হয় পরকীয়া, জুয়া, মদ, নেশা যা শেষ পর্যন্ত ধ্বংসের পথ তৈরি করে।
মোঃ শরীফ প্রথমে ঘুষ নিয়ে কাজ করেন। স্ত্রী বলেন টাকা তো দরকার, করো। এরপর তিনি বড় প্রকল্পে দুর্নীতিতে নামেন। গাড়ি-বাড়ি হয়, স্ত্রী খুশি। কিন্তু একসময় সহকর্মী নারীর প্রেমে পড়েন। তখনই স্ত্রী কাঁদতে থাকেন। অথচ শুরুতেই যদি তিনি বলতেন না, আমি হারাম টাকা চাই না, তাহলে হয়তো আজকের বিপর্যয় আসত না।
সমাধান
স্বামীকে সৎ আয়ের জন্য উৎসাহিত করুন। পরিবারের খরচ সীমিত রাখুন। খোলামেলা আলাপ করুন। দাম্পত্যে সততা থাকলে অনেক বিপদ আগেই ঠেকানো যায়।
শেষ কথা
হারাম পথে পাওয়া টাকা কখনো সুখ দিতে পারে না। নীরব সম্মতি মানে অপরাধে অংশীদার হওয়া। তাই সময় থাকতে সত্যের পথে থাকুন, পরিবার ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করুন।
বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ ডেস্ক
www.bangladeshprothomsangbad.com