ডিগ্রি-অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন, চিকিৎসার নামে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ ভুক্তভোগীদের
স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট:
সিলেটের কানাইঘাটে মো. ইসলাম উদ্দিন নামের এক কথিত কবিরাজের বিরুদ্ধে চিকিৎসার নামে অর্থ নেওয়া, রোগ ভালো করার নিশ্চয়তা দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাগত যোগ্যতা ও অনুমোদন না থাকার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজন ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিভিন্ন জটিল রোগের চিকিৎসার কথা বলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হলেও প্রত্যাশিত চিকিৎসা ফল পাওয়া যায়নি।
অভিযোগ রয়েছে, ইসলাম উদ্দিন নিজেকে কবিরাজ হিসেবে পরিচয় দিয়ে অর্শ, পাইলস, শ্বাসকষ্ট, টিউমার, ক্যান্সার ও কিডনিতে পাথরসহ বিভিন্ন রোগের চিকিৎসার প্রচার করেন। এসব রোগের ক্ষেত্রে বিনা অপারেশনে চিকিৎসা ও রোগ ভালো হওয়ার নিশ্চয়তা দেওয়ার মতো বক্তব্যও প্রচার করা হয় বলে অভিযোগকারীদের দাবি। তবে তার চিকিৎসা কার্যক্রমের বৈধতা, প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতা, সংশ্লিষ্ট ডিগ্রি ও সরকারি অনুমোদনের বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, সেলিনা নামের এক রোগী ব্যক্তিগত একটি স্বাস্থ্য সমস্যার চিকিৎসার জন্য ইসলাম উদ্দিনের সঙ্গে ১৭ হাজার টাকার চুক্তি করেন। অভিযোগকারীর দাবি, রোগ ভালো হওয়ার নিশ্চয়তা দিয়ে আগেই পুরো টাকা নেওয়া হলেও পরবর্তীতে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায়নি।
দেওয়ান আব্দুল কাইয়ুম নামে আরেক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, নির্দিষ্ট একটি রোগের চিকিৎসার জন্য তিনি ইসলাম উদ্দিনের কাছে গেলে বিভিন্ন প্রক্রিয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে প্রায় ২৩ হাজার টাকা নেওয়া হয়। দীর্ঘদিন চিকিৎসা নেওয়ার পরও তার শারীরিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।
হুমায়ুন আহমেদ নামে অপর এক ভুক্তভোগীর অভিযোগ, তার বড় ভাইয়ের চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন সময়ে প্রায় ৩৩ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। প্রায় তিন মাস চিকিৎসা নেওয়ার পরও প্রত্যাশিত ফল পাওয়া যায়নি বলে তার দাবি।
এলাকার একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, ইসলাম উদ্দিনের কোনো স্বীকৃত চিকিৎসা শিক্ষাগত যোগ্যতা বা বৈধ লাইসেন্স রয়েছে কি না, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। তার দাবি, কিছু বনাজি ওষুধ ব্যবহার ও বিক্রির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা করা হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা, ওষুধের বৈধতা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির চিকিৎসাগত যোগ্যতা ও অনুমোদনের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কানাইঘাটের বাংলা বাজার এলাকায় জকিগঞ্জ সড়কের পাশে তার কথিত চেম্বার রয়েছে। তার বাড়ি কানাইঘাট উপজেলার জুলাই কোনাগ্রামে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
এদিকে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, চিকিৎসার নামে অর্থ নেওয়ার পর কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ায় তারা আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তারা বিষয়টি তদন্ত করে দেখার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তবে ইসলাম উদ্দিনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার বক্তব্য, চিকিৎসাগত যোগ্যতার সনদ, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন কিংবা বৈধ লাইসেন্সের তথ্য এই প্রতিবেদন প্রস্তুত করার সময় পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই জরুরি।
দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ-এর পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য পাওয়ার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। ইসলাম উদ্দিন বা সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষ তাদের বক্তব্য, ব্যাখ্যা কিংবা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিলে তা যাচাই সাপেক্ষে প্রতিবেদনে সংযোজন বা সংশোধনের সুযোগ থাকবে।
চিকিৎসা একটি সংবেদনশীল ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় হওয়ায় অনুমোদনহীনভাবে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে কি না, রোগীদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগের সত্যতা কী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অনুমোদন রয়েছে কি না—এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের কার্যকর তদন্ত এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।