যশোরের বেনাপোল বড় আঁচড়া গ্রামের কৃতি সন্তান—সাংবাদিক আজিজুল হক, যিনি ভয়কে হার মানিয়েছেন কলমে
ডেইলি বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ | ২৫ জুলাই ২০২৫
যশোরের সীমান্তবর্তী এলাকা বেনাপোল। আর তারই এক ছোট্ট কিন্তু গৌরবময় গ্রাম বড় আঁচড়া। এখান থেকেই উঠে এসেছেন একজন ব্যতিক্রমী সাংবাদিক—আজিজুল হক। সময় টিভির হয়ে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন বহু বছর ধরে। সেইসাথে দেশের একাধিক জাতীয় পত্রিকা ও অনলাইন মিডিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ রিপোর্ট প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে বেনাপোল ও আশপাশের অঞ্চলের ২৪ ঘণ্টার হালনাগাদ খবর নিয়ে তিনি নিয়মিত রিপোর্ট করছেন “আজকের কথা” নামক স্থানীয় অনলাইন নিউজ পোর্টালে—যা ইতোমধ্যেই সীমান্ত সাংবাদিকতায় একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে।
স্থানীয়দের চোখে একমাত্র সাহসী কণ্ঠ
আজিজুল হককে নিয়ে স্থানীয়দের মূল্যায়ন অনেকটাই এক বাক্যে স্পষ্ট—
> “আজিজুল হকের মতো সাহসী সাংবাদিক এখন আর বেনাপোলে নেই।”
তিনি সত্য তুলে ধরতে গিয়ে কোনো রাজনৈতিক বা বাহিনীকেন্দ্রিক চাপকে পরোয়া করেন না। একাধিকবার হুমকি, চাপ ও অপবাদ সহ্য করেও যিনি আজও কলম চালিয়ে যাচ্ছেন—তিনি সাংবাদিকতা জগতের এক বিরল চরিত্র।
ফেসবুকে তোলা এক পোস্ট, কেঁপে উঠল সাংবাদিকতা জগৎ
সম্প্রতি এক স্ট্যাটাসে আজিজুল তুলে ধরেন সাংবাদিকতার অন্তঃসারশূন্যতা ও চোখ বুজে প্রচারের বাস্তবতা। তার ভাষায়:
> “বাহিনীর সদস্যরা যেখানে নেই, সেই জায়গাকে অভিযানের স্থান বানিয়ে আমাদের অনেক সহকর্মী সংবাদ তৈরি করছেন। যাচাই নেই, চোখ নেই, বিবেকও নেই—শুধু অনুমোদনের অপেক্ষায় প্রেস ব্রিফিং!”
এই বক্তব্য শুধু একটি পোস্ট নয়, গোটা পেশাকে একটি আয়নার সামনে দাঁড় করানো—যেখানে আমরা নিজেরাই নিজেদের চেহারায় লজ্জা পাই।
২০১৪ সালের ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা—কিন্তু থেমে থাকেননি
২০১৪ সালে এক বিশেষ বাহিনীর গোপন অপারেশন সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করায় আজিজুল হক নির্মমভাবে মারধরের শিকার হন। তাকে বেধড়ক পেটানো হয়, হুমকি দেওয়া হয়—তবুও তিনি কলম থামাননি। বরং সেই আঘাত তাকে আরও বলিষ্ঠ করেছে।
এই ঘটনাই তাকে পরিণত করেছে দক্ষিণাঞ্চলের সাহসী রিপোর্টারদের এক ‘প্রতীক’তে।
আজও মাঠে, আজও প্রতিবাদে—সত্যের পক্ষে অটল
সময় টিভির পাশাপাশি আজিজুল হক কাজ করছেন আরও কয়েকটি জাতীয় গণমাধ্যমে এবং আজকের কথা-তে বেনাপোল অঞ্চলের প্রতিটি প্রান্তের আপডেট তুলে ধরছেন। রাত-বিরাতে ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে রিপোর্ট করছেন, ভিডিও করছেন, জনগণের কণ্ঠ তুলে ধরছেন—এভাবেই একজন সাংবাদিক হয়ে উঠেছেন সমাজের চোখ।
স্থানীয়রা বলেন:
> “কেউ যদি সত্য জানাতে চায়, অথচ ভয় পায়—তারা আজিজুল হকের কাছে যান। কারণ, সে ভয় পায় না।”
এক প্রজন্মের অনুপ্রেরণা, সাহসের মুখ
আজিজুল হক নিজেই বলেন:
> “এই প্রজন্মের অনেকেই সাহসী হওয়ার সুযোগ রাখে। কিন্তু কেউ স্বার্থে, কেউ মৃত্যু ভয়ে, কেউ নিরাপত্তাহীনতায় মুখ বন্ধ করে রাখছে।”
তার এই কথায় ফুটে ওঠে এক বাস্তবচিত্র—সাংবাদিকতা কেবল পেশা নয়, এটি দায়িত্ব, যা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হলেও পালন করতে হয়।
আজিজুল হক এখন শুধুই একজন সংবাদকর্মী নন—তিনি দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্ত অঞ্চলের একটি প্রতিবাদী নাম। বেনাপোল বড় আঁচড়া থেকে উঠে আসা এই কণ্ঠস্বর আজ সাংবাদিকতা পেশায় সততা, সাহস এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রতীক।
প্রতিবেদক: ডেইলি বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ জনতার কন্ঠস্বর ডেস্ক
স্থান: বেনাপোল বড় আঁচড়া-যশোর | সীমান্ত সাংবাদিকতা বিশেষ প্রতিবেদন