যশোরে আওয়ামী লীগের নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগের প্রতিবাদে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ
নাশকতা ও নৈরাজ্যের অপচেষ্টার অভিযোগ তুলে রাজপথে তিন সংগঠনের নেতাকর্মীরা; দেশের স্থিতিশীলতা ও জননিরাপত্তা রক্ষার আহ্বান
নিজস্ব প্রতিবেদক | যশোর
তারিখ: ০৩ নভেম্বর ২০২৬ ইং।
যশোরে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে নাশকতার পরিকল্পনা এবং নৈরাজ্য সৃষ্টির মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জেলা যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) তিনটি সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে দলীয় নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, জননিরাপত্তা ও স্বাভাবিক পরিস্থিতি বজায় রাখার দাবি সামনে রেখে এ প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নামে নাশকতার পরিকল্পনা ও বিভিন্ন ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা চলছে। এ ধরনের তৎপরতা প্রতিহত করতে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়।
চারখাম্বা মোড় থেকে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ—প্রায় ৪০০ নেতাকর্মীর অংশগ্রহণ
প্রাপ্ত সংবাদ অনুযায়ী, মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে যশোর শহরের চারখাম্বা মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। জেলা যুবদলের আহ্বায়ক এম তমাল আহমেদের নেতৃত্বে মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের দিকে যায়। পরে বকুলতলায় অবস্থিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
মিছিলে প্রায় ৩৫০ থেকে ৪০০ নেতাকর্মী অংশ নেন বলে একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নেতৃত্বে ছিলেন তিন সংগঠনের শীর্ষ নেতারা
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা যুবদলের আহ্বায়ক এম তমাল আহমেদ, সদস্যসচিব আনসারুল হক রানা, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোস্তফা আমির ফয়সাল, সদস্যসচিব রাজিদুর রহমান সাগর, জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কামরুজ্জামান বাপ্পি এবং সদস্যসচিব শাহ নেওয়াজ ইমরানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
সমাবেশে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোস্তফা আমির ফয়সাল ও জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কামরুজ্জামান বাপ্পিসহ নেতারা বক্তব্য দেন। তাঁদের বক্তব্যে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং নাশকতার অভিযোগে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠে আসে।
বক্তারা বলেন, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যেন সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ কিংবা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। একই সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মীদের শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানানো হয়।
জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও আলোচনায়
সমাবেশে যশোরের বকুলতলায় অবস্থিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগের সাম্প্রতিক ঘটনাটিও আলোচনায় আসে। এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বক্তারা জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১ নভেম্বর দিবাগত রাতে স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। এসব ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি
সমাবেশ থেকে দেশের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যেকোনো ধরনের নাশকতা ও সহিংসতার ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা, জানমালের সুরক্ষা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।
মিছিল ও সমাবেশের মধ্য দিয়ে তিন সংগঠনের এ কর্মসূচি শেষ হয়।