শরীয়তপুরে যুবদল নেতা শামিম মাতুব্বরের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও ত্রাসের অভিযোগ: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে লিখিত আবেদন
বিশেষ প্রতিবেদক, শরীয়তপুর:
শরীয়তপুর জেলার গোসাইরহাট উপজেলার ইদিলপুর ইউনিয়নের সাবেক ছাত্রদল সভাপতি, বর্তমান ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি পদপ্রার্থী ও ইদিলপুর ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী শামিম মাতুব্বরের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, ভূমিদস্যুতা, অবৈধভাবে জমির মাটি কাটা, কিশোর গ্যাং লালন-পালন, সালিশ বাণিজ্য, চাঁদাবাজি এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
এসব অনিয়ম, অপকর্ম ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিকার চেয়ে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে গত ০১/১০/২০২৬ ইং তারিখে ভুক্তভোগী ও এলাকার সাধারণ মানুষের পক্ষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষী ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
ক্ষমতা ও রাজনৈতিক প্রভাবের অপব্যবহার: এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব
স্থানীয় সূত্রে ও সরেজমিনে তদন্ত চালিয়ে জানা গেছে, শামিম মাতুব্বর দীর্ঘদিন ধরে দলীয় পদ-পদবি ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় একছত্র আধিপত্য বিস্তার করে আসছেন। গোসাইরহাট ও ইদিলপুর ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের অভিযোগ, তার নির্দেশ ও ছত্রছায়ায় এলাকায় গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী অপরাধী বলয়।
মাফিয়া কায়দায় তিনি ইদিলপুর ইউনিয়নের কৃষি জমি থেকে অবৈধভাবে স্কেভেটর (ভেকু) ও ড্রেজার বসিয়ে মাটি কেটে বিক্রি করছেন। জমি মালিকরা বাঁধা দিলে বা প্রতিবাদ করলে তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, জীবননাশের হুমকি এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ রয়েছে।
কিশোর গ্যাং পরিচালনা, সালিশ বাণিজ্য ও চাঁদাবাজি
শরীয়তপুর থেকে প্রাপ্ত তথ্যে উঠে এসেছে, শামিম মাতুব্বর এলাকায় একদল বেপরোয়া তরুণ ও কিশোরদের নিয়ে ‘কিশোর গ্যাং’ গড়ে তুলেছেন। এই বাহিনীর মাধ্যমে এলাকায় চুরি, ছিনতাই, সাধারণ মানুষকে হুমকি প্রদান এবং স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করা হয়।
এ ছাড়া এলাকার ছোটখাটো সামাজিক বিরোধ নিষ্পত্তির নামে তিনি অনৈতিক ‘সালিশ বাণিজ্য’ পরিচালনা করেন। অন্যায্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়া এবং বিচার না মানলে ভুক্তভোগীদের মারধর ও এলাকাচ্যুত করার হুমকি দেওয়া নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
সাংবাদিকের ওপর হামলার চেষ্টা ও তথ্য সংগ্রহের বাধা
ইদিলপুর ইউনিয়ন ও আশেপাশের এলাকায় অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরির সময় এই প্রতিবেদকের সামনেই উন্মোচিত হয় শামিম মাতুব্বরের সন্ত্রাসী বাহিনীর ভয়াবহ চিত্র। তথ্য সংগ্রহ শেষ করে ফিরে আসার সময় ঘটনা জানতে পেরে শামিম মাতুব্বরের ক্যাডার বাহিনী সাংবাদিকদের ঘিরে ধরে, ভয়ভীতি দেখায় এবং প্রতিরোধ গড়ে তুলে শারীরিকভাবে আক্রমণ করার চেষ্টা করে। স্থানীয় সচেতন জনগণের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসলেও এলাকায় বর্তমানে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
আইনগত বিশ্লেষণ ও সম্ভাব্য শাস্তি
বাংলাদেশ আইন ও প্রচলিত বিধিবিধান অনুযায়ী, অভিযুক্ত শামিম মাতুব্বর ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি অপরাধের স্পষ্ট আলামত পাওয়া যায়:
১. অবৈধ মাটিকাটা ও পরিবেশ আইন: ‘বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০’ এর পরিপন্থী কাজ হিসেবে অবৈধভাবে জমির মাটি কাটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আইন ভঙ্গ করলে সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড বা লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রয়েছে।
২. চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন: বাংলাদেশ দণ্ডবিধি (Penal Code, 1860) এর ৩৮৩ ও ৩৮৪ ধারা অনুযায়ী বলপূর্বক অর্থ আদায় বা চাঁদাবাজি অপরাধমূলক কাজ, যার শাস্তি সর্বোচ্চ ৩ বছরের কারাদণ্ড বা জরিমানা।
৩. অনধিকার প্রবেশ ও হুমকি প্রদান: দণ্ডবিধির ৫০৬ ধারা অনুযায়ী প্রাণনাশের হুমকি বা ভয়ভীতি প্রদর্শনের জন্য সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
৪. মিথ্যা মামলা ও হয়রানি: দণ্ডবিধির ২১১ ধারা অনুযায়ী অন্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা মামলা দায়ের করলে আইনানুগ শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়।
জনসাধারণের আকুল আবেদন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান
ইদিলপুর ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ ও নিপীড়িত পরিবারগুলো এখন চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছে। ভুক্তভোগীদের একটাই দাবি—স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমাদানকৃত লিখিত অভিযোগের দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা হোক।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক না কেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত শামিম মাতুব্বর ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনবে এবং শরীয়তপুরের গোসাইরহাটে শান্তি ও সুশাসন ফিরিয়ে আনবে।