• সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:২৩ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনাম
গাজীপুরে মেট্রিক্স গার্মেন্টসে আগুন, ৬৭ জনকে জীবিত উদ্ধার আটতলা ভবনের তৃতীয় তলায় অগ্নিকাণ্ড, আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৯টি ইউনিট নারীর মেসেঞ্জারে পুরুষাঙ্গের ছবি পাঠানোর অভিযোগ মোঃ দিদারের বিরুদ্ধে, সাইবার আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি সাউদার্ন ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা, মালিকানা ও ট্রাস্ট নিয়ে পুরোনো বিরোধ: ২০১৪ সালের জেলা প্রশাসনের তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসে একাধিক গুরুতর অসংগতি ভবিষ্যতে ফ্যাসিবাদী শাসনের পথ বন্ধে সংবিধান সংশোধন প্রয়োজন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ মাদক-সন্ত্রাস, দখলবাজি ও চাঁদাবাজমুক্ত সমাজ গড়তে ফখরুল ইসলাম এমপির আহ্বান হাতিয়ায় জাতীয় যুব দিবস ২০২৬ উদযাপন: যুব র‍্যালি, ঋণের চেক বিতরণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত ৮ মামলার বাধা পেরিয়ে এবার ইলিয়টগঞ্জ উত্তর ইউপির চেয়ারম্যান হওয়ার প্রত্যাশায় দুলাল সরকার বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী নিয়ে উসকানিমূলক বক্তব্যের অভিযোগ, থোয়াইচিং মং শাককে সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের কারণ দর্শানোর নোটিশ মাদকের সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না: এমপি নূরুল ইসলাম নয়ন সাংবাদিক অরিত্র কুন্ডুকে কনডেম সেলে রাখার অভিযোগ: ২৪ ঘণ্টার আইনি আলটিমেটাম, অন্যথায় হাইকোর্টে রিট পুরোনো ভিডিও নতুন করে ছড়িয়ে বিজিবির বিরুদ্ধে অপপ্রচার, বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারে সতর্ক করল সীমান্তরক্ষী বাহিনী

স্বাস্থ্য খাতের সরকারি ক্রয়ে ফাইলের গতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন: রেনেটার জিএম কামরুল হাসান কেনেডিকে ঘিরে অভিযোগ, তদন্তের দাবি

বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ ডেস্ক রিপোর্ট / ৮৮ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬

 

স্বাস্থ্য খাতের সরকারি ক্রয়ে ফাইলের গতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন: রেনেটার জিএম কামরুল হাসান কেনেডিকে ঘিরে অভিযোগ, তদন্তের দাবি

পরিবার পরিকল্পনা সামগ্রী, জন্মনিয়ন্ত্রণ পণ্য ও ভিটামিন-এ ক্যাপসুল ক্রয়প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা যাচাইয়ের আহ্বান | একই সময়ে পাঠানো দরপত্রের নিষ্পত্তিতে বৈষম্য ছিল কি না, নথি পর্যালোচনার দাবি | সম্পদ ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ

নিজস্ব প্রতিবেদক | দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ

ঢাকা: স্বাস্থ্য খাতের সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, প্রতিযোগিতা, সমান সুযোগ এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের বিভিন্ন জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী, ওষুধ ও পুষ্টিসামগ্রী ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদন, দরপত্র নিষ্পত্তির সময়কাল এবং সংশ্লিষ্ট ফাইলের প্রশাসনিক অগ্রগতি নিয়ে একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। এসব অভিযোগের কেন্দ্রে রেনেটা ফার্মাসিউটিক্যালসের জেনারেল ম্যানেজার কামরুল হাসান কেনেডির নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়ায় কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক দ্রুততা এবং অন্য কিছু প্রস্তাবের ক্ষেত্রে বিলম্বের অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি, সরকারি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তার যোগাযোগ ও প্রভাবের পরিধি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট দরপত্রের মূল নথি, অনুমোদনের ক্রম, মূল্যায়ন কমিটির প্রতিবেদন, ফাইলের নড়াচড়ার রেকর্ড, সভার কার্যবিবরণী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই করা জরুরি। এ প্রতিবেদন তৈরির সময় উপস্থাপিত অভিযোগগুলোর পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা পূর্ণাঙ্গ নথি পাওয়া যায়নি। ফলে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে অনিয়ম, ঘুষ, অর্থ পাচার কিংবা সরকারি সিদ্ধান্তে অবৈধ হস্তক্ষেপের জন্য দায়ী হিসেবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার সুযোগ নেই।

তবু অভিযোগগুলো যদি নথিপত্রে সমর্থিত হয়, তাহলে তা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক স্বার্থের প্রশ্ন নয়; বরং সরকারি অর্থের ব্যবহার, স্বাস্থ্যসামগ্রীর নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ এবং জনগণের প্রাপ্য সেবা নিশ্চিত করার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। এ কারণে বিষয়টির নিরপেক্ষ ও প্রমাণভিত্তিক অনুসন্ধান প্রয়োজন।

একই সময়ে জমা পড়া দরপত্রে ভিন্ন গতি? যাচাইয়ের কেন্দ্রে অনুমোদনের নথি

অভিযোগ অনুযায়ী, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর থেকে খাবার বড়ি বা Oral Pill, গর্ভনিরোধক ইনজেকশন, ইমপ্লান্ট ও কনডমসহ বিভিন্ন সামগ্রী ক্রয়ের একাধিক প্রস্তাব স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। এর মধ্যে রেনেটা লিমিটেডের Oral Pill (POP) সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব দ্রুত অগ্রসর হওয়ার বিপরীতে অন্য কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব দীর্ঘ সময় ধরে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

এখানে প্রধান প্রশ্ন হলো, সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবগুলোর যোগ্যতা, দরপত্রের শর্ত, মূল্যায়নের ফলাফল, নথি পাঠানোর তারিখ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর্যায় কি একই ছিল? যদি প্রস্তাবগুলোর প্রকৃতি ও প্রশাসনিক অবস্থা তুলনীয় হয়ে থাকে, তাহলে একটির নিষ্পত্তি দ্রুত এবং অন্যটির নিষ্পত্তি বিলম্বিত হওয়ার কারণ নথিভিত্তিকভাবে ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন।

সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়ায় প্রতিটি ফাইলের অগ্রগতির সময় এক রকম হবে, এমন কোনো সাধারণ নিয়ম নেই। কোনো প্রস্তাবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র অসম্পূর্ণ থাকতে পারে, কারিগরি মূল্যায়ন বাকি থাকতে পারে, বাজেট বা অনুমোদনসংক্রান্ত জটিলতা থাকতে পারে কিংবা আইনগত মতামতের প্রয়োজন হতে পারে। তাই শুধু দ্রুত বা ধীরগতির ভিত্তিতে অনিয়মের সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।

তবে কোনো প্রতিষ্ঠানকে অযৌক্তিক সুবিধা দেওয়া, প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব বিনা যৌক্তিকতায় আটকে রাখা কিংবা সিদ্ধান্ত গ্রহণে ব্যক্তিগত বা বাণিজ্যিক স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেলে তা গুরুতর প্রশাসনিক ও আইনগত প্রশ্ন তৈরি করবে।

এ কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাবগুলোর গ্রহণ, প্রেরণ, মূল্যায়ন, অনুমোদন ও নিষ্পত্তির তারিখ পাশাপাশি রেখে একটি তুলনামূলক পর্যালোচনার দাবি উঠেছে।

রেনেটার POP প্রস্তাব ও অন্য দরপত্র: সিদ্ধান্তের ভিত্তি প্রকাশের দাবি

অভিযোগে বলা হয়েছে, Oral Pill (POP) ক্রয়সংক্রান্ত একাধিক প্রস্তাবের মধ্যে রেনেটা-সংশ্লিষ্ট দুটি ফাইল দ্রুত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের কমিটির (CCGP) বিবেচনার জন্য উপস্থাপন করা হয়েছিল। একই সময়ে অন্য দুটি প্রস্তাব তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে ছিল বলেও দাবি করা হয়েছে।

এ দাবির সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট চারটি দরপত্রের পরিচিতি, দরপত্র আহ্বানের তারিখ, দরপত্রদাতাদের যোগ্যতা, মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশ, মন্ত্রণালয়ে ফাইল পাঠানোর সময় এবং CCGP-তে উপস্থাপনের তারিখ যাচাই করা প্রয়োজন।

প্রশ্ন উঠছে, প্রস্তাবগুলো কি একই ক্রয়পর্বের ছিল? সব প্রতিষ্ঠানের পণ্য কি একই কারিগরি শর্ত পূরণ করেছিল? কোনো প্রস্তাবের সঙ্গে অতিরিক্ত ব্যাখ্যা, সংশোধিত নথি কিংবা আইনগত জটিলতা যুক্ত ছিল কি না? অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের লিখিত কারণ কী ছিল?

এসব প্রশ্নের উত্তর ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। একইভাবে, অভিযোগ উড়িয়ে দেওয়ার জন্যও কেবল মৌখিক ব্যাখ্যা যথেষ্ট হবে না। সিদ্ধান্তের পক্ষে প্রাসঙ্গিক সরকারি নথি এবং অনুসরণ করা ক্রয়পদ্ধতির ব্যাখ্যা থাকা প্রয়োজন।

দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদের অনুসন্ধানের পরবর্তী ধাপে সংশ্লিষ্ট দরপত্রগুলোর অনুমোদনসংক্রান্ত নথি, মূল্যায়ন প্রতিবেদন এবং ফাইলের গতিপথ সংগ্রহ করে অভিযোগের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।

EDCL থেকে DPM পদ্ধতিতে কনডম ক্রয়ের প্রস্তাব: বিলম্বের কারণ কী?

অভিযোগের আরেকটি অংশে এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেডের (EDCL) মাধ্যমে Direct Procurement Method (DPM) ব্যবহার করে কনডম ক্রয়ের একটি প্রস্তাব নিষ্পত্তিতে বিলম্বের কথা বলা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রস্তাবটি দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব হলেও তা অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছিল।

কিন্তু DPM ব্যবহারের সুযোগ থাকলেই কোনো প্রস্তাব স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুমোদনযোগ্য হয়ে যায় না। সংশ্লিষ্ট ক্রয়পদ্ধতির আইনগত শর্ত, অনুমোদিত ব্যতিক্রম, প্রয়োজনীয় নথি, পণ্যের জরুরিতা, সরবরাহ সক্ষমতা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন বিবেচনা করতে হয়।

এ কারণে যাচাই করা প্রয়োজন, প্রস্তাবটি কোন তারিখে উত্থাপিত হয়েছিল, কোন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছিল, কী কী নথি সংযুক্ত ছিল এবং নিষ্পত্তির পথে কোনো লিখিত আপত্তি বা ঘাটতি চিহ্নিত হয়েছিল কি না।

যদি নথিতে দেখা যায়, প্রয়োজনীয় সব শর্ত পূরণ হওয়া সত্ত্বেও কোনো যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া প্রস্তাবটি দীর্ঘ সময় আটকে ছিল, তাহলে বিলম্বের জন্য দায়ী প্রশাসনিক পর্যায় চিহ্নিত করা প্রয়োজন। আর যদি প্রক্রিয়াগত ঘাটতি থাকে, তাহলে সেই ঘাটতির বিবরণও জনস্বার্থে স্পষ্ট করা উচিত।

এ ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষার উদ্দেশ্যে সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়া বিলম্বিত করা হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্তযোগ্য প্রশ্ন হতে পারে—তবে এ ধরনের উদ্দেশ্য প্রতিষ্ঠার জন্য নির্ভরযোগ্য প্রমাণ অপরিহার্য।

সচিবালয় ও মন্ত্রীর বাসভবনে যাতায়াতের অভিযোগ: যোগাযোগের প্রকৃতি যাচাই জরুরি

কামরুল হাসান কেনেডিকে ঘিরে উত্থাপিত অভিযোগের আরেকটি অংশে বলা হয়েছে, তিনি সচিবালয়ের বিভিন্ন দপ্তরে যাতায়াত করেছেন এবং সন্ধ্যার পর প্রভাবশালী মন্ত্রীদের বাসভবনেও উপস্থিত ছিলেন। অভিযোগকারীরা এ ধরনের যোগাযোগের প্রকৃতি ও সরকারি সিদ্ধান্তের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন।

তবে কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা সরকারি দপ্তরে যাতায়াত করলেই তা বেআইনি প্রভাব বিস্তারের প্রমাণ হয়ে যায় না। সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত বিষয়ে দরদাতা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ, সভা, ব্যাখ্যা প্রদান বা নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় নথি জমা দেওয়ার সুযোগ থাকতে পারে।

প্রশ্ন হলো, যোগাযোগগুলো কি অনুমোদিত ও নথিভুক্ত ছিল? সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের উদ্দেশ্য কী ছিল? কোনো দরপত্রের মূল্যায়ন বা অনুমোদন প্রক্রিয়া চলাকালে অননুমোদিত যোগাযোগ হয়েছিল কি না? কোনো কর্মকর্তা বা ক্রয় কমিটির সদস্যের ওপর চাপ প্রয়োগ কিংবা ব্যক্তিগত সুবিধা দেওয়ার প্রমাণ আছে কি না?

এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমোদিত প্রবেশ-রেজিস্টার, প্রাসঙ্গিক সরকারি নথি, বৈঠকের কার্যবিবরণী এবং আইনসম্মতভাবে সংরক্ষিত অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা যেতে পারে।

সিসিটিভি ফুটেজ বা নিরাপত্তা রেজিস্টার পরীক্ষা করার প্রয়োজন হলে তা প্রযোজ্য আইন, নিরাপত্তাবিধি ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার শর্ত মেনে করতে হবে। একইভাবে, কল ডিটেইলস রেকর্ড বা অন্যান্য ব্যক্তিগত যোগাযোগের তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রেও যথাযথ আইনগত অনুমোদন ও প্রয়োজনীয়তা নিশ্চিত করতে হবে।

তদন্তের লক্ষ্য হওয়া উচিত যোগাযোগের অস্তিত্বকে অপরাধের প্রমাণ হিসেবে ধরে নেওয়া নয়; বরং সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণে কোনো অননুমোদিত প্রভাব পড়েছিল কি না, তা নিরপেক্ষভাবে নির্ধারণ করা।

৪৫ মিলিয়ন সাইকেল জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ির দরপত্র বাতিল: পুরোনো নথি সামনে আনার দাবি

অভিযোগে অতীতের একটি বড় ক্রয়প্রক্রিয়ার প্রসঙ্গও তোলা হয়েছে। দাবি করা হয়েছে, বিগত সরকারের আমলে ৪৫ মিলিয়ন সাইকেল Oral Contraceptive Pill বা জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি ক্রয়ের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, রেনেটা এবং বেক্সিমকো-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান নাভিস্থ ফার্মা কাজ না পাওয়ার পর দরপত্রটি বাতিলের ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় তৎকালীন পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়েও অভিযোগ করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ, তাঁদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রকৃত ভূমিকা এবং দরপত্র বাতিলের কারণ স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

দরপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত নিজে থেকেই দুর্নীতির প্রমাণ নয়। ক্রয়বিধি লঙ্ঘন, পর্যাপ্ত প্রতিযোগিতার অভাব, কারিগরি ত্রুটি, অগ্রহণযোগ্য দর, বাজেটসংক্রান্ত সমস্যা অথবা অন্য কোনো আইনসম্মত কারণেও দরপত্র বাতিল হতে পারে। আবার বাতিলের ক্ষমতা যদি কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দিতে অপব্যবহার করা হয়ে থাকে, তাহলে সেটিও গুরুতর অনিয়মের বিষয় হতে পারে।

এ কারণে সংশ্লিষ্ট দরপত্রের মূল বিজ্ঞপ্তি, দরপত্র মূল্যায়ন প্রতিবেদন, বাতিলের লিখিত সিদ্ধান্ত, অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষের নথি, পরবর্তী ক্রয়প্রক্রিয়া এবং এ বিষয়ে কোনো বিভাগীয় তদন্ত হয়ে থাকলে তার প্রতিবেদন সংগ্রহ করা জরুরি।

অভিযোগে একটি বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কমিটিটি কবে গঠিত হয়েছিল, এর কার্যপরিধি কী ছিল, প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছিল কি না এবং জমা দেওয়া হয়ে থাকলে তার সুপারিশের পর কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল—এসব তথ্য সরকারি নথি দিয়ে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

যদি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী তা প্রকাশযোগ্য কি না, অথবা তার ভিত্তিতে কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তা জানতে চাওয়া যেতে পারে।

ভিটামিন-এ ক্যাপসুল ক্রয় নিয়ে অভিযোগ: শিশুস্বাস্থ্যের স্বার্থে সিদ্ধান্তের কারণ স্পষ্ট করা প্রয়োজন

শিশুদের পুষ্টি ও জনস্বাস্থ্য কর্মসূচিতে ভিটামিন-এ ক্যাপসুল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ ধরনের পণ্য ক্রয়ের সিদ্ধান্তে কারিগরি মান, কার্যকারিতা, গুণগত মান নিশ্চিতকরণ, সরবরাহের সময়সীমা এবং প্রযোজ্য স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করা অপরিহার্য।

অভিযোগে বলা হয়েছে, একটি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানের ভিটামিন-এ ক্যাপসুল সরবরাহের প্রস্তাব বাতিল বা স্থগিত হওয়ার পেছনে অনুচিত প্রভাব কাজ করে থাকতে পারে। তবে প্রস্তাবটি কোন প্রতিষ্ঠানের ছিল, কোন ক্রয়প্রক্রিয়ার অধীনে জমা দেওয়া হয়েছিল, কী কারণে বাতিল বা স্থগিত হয়েছিল এবং সিদ্ধান্তের সঙ্গে কামরুল হাসান কেনেডি বা অন্য কারও সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ কী—এসব তথ্য এখনো নথিভিত্তিক যাচাই দাবি করে।

প্রস্তাব বাতিলের ক্ষেত্রে কারিগরি মূল্যায়ন, পণ্যের নিবন্ধন, গুণগত মান পরীক্ষার ফল, দরপত্রের শর্ত, সরবরাহকারীর সক্ষমতা এবং অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষের লিখিত যুক্তি পর্যালোচনা করা উচিত।

যদি কোনো প্রস্তাব যথাযথ কারণ ছাড়া বাতিল হয়ে থাকে, তাহলে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া ও দায় নির্ধারণ করা প্রয়োজন। অন্যদিকে, জনস্বাস্থ্যের নিরাপত্তার জন্য কোনো পণ্য অযোগ্য বিবেচিত হয়ে থাকলে সেই সিদ্ধান্তের পক্ষে প্রাসঙ্গিক কারিগরি নথি থাকা উচিত।

এখানে মূল বিবেচ্য কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক স্বার্থ নয়; বরং মানসম্মত পণ্য সংগ্রহ, সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার এবং জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা।

সম্পদের উৎস ও অর্থ পাচারের অভিযোগ: নথি ছাড়া চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়

কামরুল হাসান কেনেডির সম্পদ ও আর্থিক লেনদেন নিয়েও অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, তাঁর জীবনযাপন, একাধিক বিলাসবহুল গাড়ি, বাড়ি ও ফ্ল্যাটের মালিকানা এবং পরিবারের বিদেশে শিক্ষাব্যয়ের সঙ্গে তাঁর ঘোষিত আয়ের সামঞ্জস্য যাচাই করা প্রয়োজন।

এ ছাড়া তাঁর সন্তানদের বিদেশে পড়াশোনার ব্যয়সংক্রান্ত বৈদেশিক অর্থপ্রবাহ নিয়েও অর্থ পাচারের অভিযোগ তোলা হয়েছে। তবে এসব দাবির পক্ষে যাচাইকৃত সম্পদ বিবরণী, মালিকানার নথি, ব্যাংক লেনদেনের তথ্য, বৈধ অর্থ প্রেরণের কাগজপত্র বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের ফল এ প্রতিবেদনের জন্য সরবরাহ করা হয়নি।

বিদেশে সন্তানদের পড়াশোনা, গাড়ি বা সম্পত্তির মালিকানা—কোনোটিই এককভাবে অবৈধ সম্পদ অর্জন কিংবা অর্থ পাচারের প্রমাণ নয়। সম্পদের প্রকৃত মালিকানা, ক্রয়ের সময়, অর্থের উৎস, ঋণ বা বৈধ অর্থায়ন, আয়কর নথি এবং সংশ্লিষ্ট লেনদেনের ধারাবাহিকতা যাচাই করে সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হবে।

তবে নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে আয়ের সঙ্গে সম্পদের অসামঞ্জস্য কিংবা সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের যুক্তিসংগত প্রশ্ন দেখা দিলে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের আইনসম্মত অনুসন্ধান প্রয়োজন হতে পারে।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলো নিজ নিজ আইনগত এখতিয়ার অনুযায়ী অভিযোগ মূল্যায়ন করতে পারে। কোনো অভিযোগের ভিত্তিতে অনুসন্ধান শুরু হওয়া, মামলা হওয়া এবং আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হওয়া পৃথক বিষয়। এ পার্থক্য সংবাদ পরিবেশনেও স্পষ্ট রাখা জরুরি।

সরকারি ক্রয় আইন ও বিধিমালা: অভিযোগ যাচাইয়ে কোন বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ

সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে প্রযোজ্য আইন, বিধিমালা, দরপত্রের শর্ত এবং অনুমোদিত পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়। এ ক্ষেত্রে সরকারি ক্রয় আইন, ২০০৬ এবং সরকারি ক্রয় বিধিমালা, ২০০৮-এর প্রাসঙ্গিক বিধান, পরবর্তী সংশোধন এবং সংশ্লিষ্ট ক্রয়প্রক্রিয়ায় কার্যকর বিধি যাচাই করা প্রয়োজন।

কোনো প্রতিষ্ঠানকে অযৌক্তিক সুবিধা দেওয়া, প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়া প্রভাবিত করা, দরপত্র মূল্যায়নে পক্ষপাত করা কিংবা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অনুচিতভাবে প্রভাবিত করার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার প্রশ্ন উঠতে পারে।

তবে কোনো নির্দিষ্ট আইনের ধারা প্রয়োগের আগে অভিযোগের প্রকৃতি, অভিযুক্ত ব্যক্তির ভূমিকা, সংশ্লিষ্ট ক্রয়পদ্ধতি এবং ঘটনার সময় কার্যকর আইনি বিধান নির্ধারণ করতে হবে। শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব দ্রুত অনুমোদিত হয়েছে কিংবা অন্য প্রস্তাব দেরিতে নিষ্পত্তি হয়েছে—এ তথ্য দিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অপরাধের নির্দিষ্ট ধারা প্রযোজ্য বলে সিদ্ধান্ত দেওয়া যায় না।

তদন্তে বিশেষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন:

প্রথমত, প্রতিটি প্রস্তাবের নথি গ্রহণ থেকে নিষ্পত্তি পর্যন্ত সময়ের হিসাব এবং বিলম্বের লিখিত কারণ।

দ্বিতীয়ত, দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশ, কারিগরি যোগ্যতা, দরপত্রের শর্ত এবং অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত।

তৃতীয়ত, কোনো অননুমোদিত যোগাযোগ, স্বার্থের সংঘাত, ঘুষের প্রস্তাব বা আর্থিক সুবিধা প্রদানের নির্ভরযোগ্য প্রমাণ আছে কি না।

চতুর্থত, সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত ইলেকট্রনিক সিস্টেমে সংরক্ষিত তথ্য, প্রাসঙ্গিক ডিজিটাল লগ এবং ম্যানুয়াল ফাইলের নথির মধ্যে কোনো অসংগতি আছে কি না।

পঞ্চমত, দরপত্র বাতিল, পুনঃদরপত্র আহ্বান, সরবরাহে বিলম্ব এবং জরুরি ক্রয়ের সিদ্ধান্তগুলো যথাযথভাবে নথিভুক্ত হয়েছিল কি না।

এসব তথ্যের সমন্বিত বিশ্লেষণ ছাড়া অনিয়মের প্রকৃতি, দায়ী ব্যক্তি কিংবা সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ নির্ভরযোগ্যভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব

অভিযোগে স্বাস্থ্য খাতের ক্রয়প্রক্রিয়া ও পরিবার পরিকল্পনা সামগ্রীর সরবরাহ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার প্রসঙ্গও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট পরিদর্শন, নির্দেশনার তারিখ, বক্তব্যের পূর্ণ বিবরণ এবং সরকারি নথি স্বাধীনভাবে যাচাই না হওয়ায় এ বিষয়ে নির্দিষ্ট বক্তব্য বা নির্দেশনাকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে উপস্থাপন করা যাচ্ছে না।

প্রাসঙ্গিক নির্দেশনা বা সভার কার্যবিবরণী পাওয়া গেলে তা পর্যালোচনা করে সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়গুলো চিহ্নিত করা যেতে পারে।

সরকারের নীতিগত নির্দেশনা যাই থাকুক, ক্রয়প্রক্রিয়ার প্রতিটি সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট আইন, বিধিমালা এবং অনুমোদিত দায়িত্ববণ্টন অনুসারে গ্রহণ করতে হয়। কোনো নির্দেশনার ভুল ব্যাখ্যা, প্রশাসনিক বিলম্ব বা ব্যক্তিগত প্রভাবের কারণে জরুরি স্বাস্থ্যসামগ্রীর সরবরাহ ব্যাহত হয়ে থাকলে তার কারণ ও দায় নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট ক্রয়কারী সংস্থাগুলোর দায়িত্ব হলো প্রয়োজনীয় সামগ্রীর চাহিদা নিরূপণ, যথাসময়ে ক্রয়, মান নিশ্চিতকরণ এবং সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখা। অভিযোগের কারণে কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আগাম সিদ্ধান্ত নেওয়া যেমন অনুচিত, তেমনি নথিতে গুরুতর অসংগতি থাকলে তা উপেক্ষা করাও জনস্বার্থের পরিপন্থী।

দুদক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুসন্ধানের দাবি

অভিযোগগুলোর গুরুত্ব বিবেচনায় উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে নিরপেক্ষভাবে বিষয়টি যাচাইয়ের দাবি উঠেছে। তবে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে না গিয়ে অনুসন্ধানের ক্ষেত্রগুলো স্পষ্ট করা প্রয়োজন।

দুর্নীতি দমন কমিশন অভিযোগের আওতাভুক্ত বিষয়গুলো তার এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে কি না, তা যাচাই করে আইনানুগ পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ করতে পারে। সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ দরপত্রের নথি, মূল্যায়ন প্রতিবেদন এবং অনুমোদনের ধারাবাহিকতা পরীক্ষা করতে পারে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী বা আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা তাদের আইনগত ক্ষমতা ও অনুমোদনের আওতায় তথ্য যাচাই করতে পারে।

অনুসন্ধানের সময় কামরুল হাসান কেনেডি, রেনেটা ফার্মাসিউটিক্যালস এবং অভিযোগে উল্লেখিত সরকারি কর্মকর্তাদের বক্তব্য গ্রহণ করা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে অভিযোগকারীদের কাছ থেকেও নথি, তারিখ, সংশ্লিষ্ট দরপত্রের পরিচিতি এবং প্রত্যক্ষ তথ্যের উৎস সংগ্রহ করা প্রয়োজন।

অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। অভিযোগের সমর্থনে পর্যাপ্ত প্রমাণ না পাওয়া গেলে সেই ফলাফলও যথাযথভাবে নথিভুক্ত হওয়া উচিত। তদন্তের উদ্দেশ্য কোনো ব্যক্তিকে আগাম অপরাধী সাব্যস্ত করা নয়; বরং সত্য উদ্‌ঘাটন, সরকারি অর্থের সুরক্ষা এবং প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করা।

রেনেটা ফার্মাসিউটিক্যালস ও কামরুল হাসান কেনেডির বক্তব্য প্রয়োজন

প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে কামরুল হাসান কেনেডি এবং রেনেটা ফার্মাসিউটিক্যালসের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা প্রয়োজন। বিশেষ করে সংশ্লিষ্ট দরপত্রে প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ, প্রস্তাব অনুমোদনের সময়কাল, সরকারি দপ্তরে যোগাযোগের প্রকৃতি এবং সম্পদসংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে তাঁদের ব্যাখ্যা অভিযোগ যাচাইয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

একইভাবে, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, EDCL এবং সংশ্লিষ্ট ক্রয়কারী কর্তৃপক্ষের বক্তব্য প্রয়োজন। পুরোনো দরপত্র বাতিল ও বিভাগীয় তদন্তের বিষয়ে অভিযোগে যেসব কর্মকর্তার নাম এসেছে, তাঁদের বক্তব্যও প্রাসঙ্গিক নথির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা উচিত।

প্রতিবেদন প্রকাশের আগে বা পরবর্তী হালনাগাদে সংশ্লিষ্ট পক্ষের জবাব যুক্ত করা হলে পাঠক অভিযোগ, ব্যাখ্যা ও যাচাইকৃত তথ্যের মধ্যে পার্থক্য বুঝতে পারবেন। কোনো পক্ষের বক্তব্য পাওয়া না গেলে যোগাযোগের চেষ্টা ও বক্তব্য না পাওয়ার বিষয়টি সঠিকভাবে উল্লেখ করা যেতে পারে।

দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য, প্রাসঙ্গিক নথি ও যাচাইকৃত তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করার সুযোগ রাখবে।

উপসংহার: অভিযোগ নয়, নথি ও প্রমাণই হোক চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ভিত্তি

স্বাস্থ্য খাতের সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের পক্ষপাত, অনিয়ম কিংবা অনুচিত প্রভাবের অভিযোগ উঠলে তার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী, জরুরি ওষুধ এবং শিশুস্বাস্থ্য কর্মসূচির পণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বচ্ছতা ও সময়ানুবর্তিতা জনস্বার্থের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

কামরুল হাসান কেনেডিকে ঘিরে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে দরপত্রের মূল নথি, ফাইলের গতিপথ, অনুমোদনের কারণ, প্রাসঙ্গিক আর্থিক তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পরীক্ষা করা জরুরি। কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অভিযোগ প্রমাণিত না হলে তা স্পষ্টভাবে জানানো—দুই ক্ষেত্রেই প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হবে।

সরকারি ক্রয়ে সমান সুযোগ, জবাবদিহি ও জনস্বার্থ নিশ্চিত করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। একই সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের দায়িত্ব হলো অভিযোগের গুরুত্ব তুলে ধরা, প্রমাণ সংগ্রহ করা, সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য নেওয়া এবং যাচাই ছাড়া কাউকে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন না করা।

দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ বিষয়টির নথিভিত্তিক অনুসন্ধান, সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য সংগ্রহ এবং নতুন যাচাইকৃত তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংশোধন ও হালনাগাদ প্রকাশের নীতি অনুসরণ করবে।

সম্পাদনা ও যাচাই-সংক্রান্ত নোট: এ প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলোর পূর্ণাঙ্গ স্বাধীন যাচাই এখনো সম্পন্ন হয়নি। মূল দরপত্র, অনুমোদনসংক্রান্ত নথি, তদন্ত প্রতিবেদন এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তথ্যগুলো পুনরায় যাচাই করে প্রতিবেদন হালনাগাদ করা হবে।

 


More News Of This Category
bdit.com.bd