• শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:১৭ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনাম
গাজীপুরে মেট্রিক্স গার্মেন্টসে আগুন, ৬৭ জনকে জীবিত উদ্ধার আটতলা ভবনের তৃতীয় তলায় অগ্নিকাণ্ড, আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৯টি ইউনিট যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের বড় ধাক্কা, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যশোরের বেনাপোলে মোটরসাইকেল মিছিল করেছেন স্থলবন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়ন ৯২৫ ও ৮৯১-এর নেতাকর্মীরা। ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক চেতনায় বেনাপোলকে আধুনিক সীমান্ত নগরী গড়ার প্রত্যয়, জনআস্থার রাজনীতিতে আবু তাহের ভারত এমপি মাজেদ বাবুর বিরুদ্ধে হত্যার ষড়যন্ত্র ও হলফনামায় জালিয়াতির অভিযোগ হাসিনার সেই ‘৪০০ কোটির পিয়ন’ জাহাঙ্গীর: অনুসন্ধান থেকে ১০০ কোটি টাকা পাচারের মামলা, দুই বছরে কতদূর তদন্ত? পরিচয় নিয়ে নতুন বিতর্ক, কোন পক্ষ কতটা যৌক্তিক? ১৭ বছর আওয়ামী লীগের এমপির ‘ছায়াতল’ ও লটারির নাটক: পঞ্চগড়ে চালের ডিলারশিপ বাগিয়ে নেওয়া হাইব্রিড বিএনপি নেতা একরামুল হক মুন্না যশোরে আওয়ামী লীগের নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগের প্রতিবাদে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হঠাৎ ‘স্যরি’ বলল প্রথম আলো, কেন এই ক্ষমা চাওয়া? সামনে এলো আসল কারণ কবিতা, কলম ও রাষ্ট্রচিন্তায় বহুমাত্রিক পথচলা: কবি অথই নূরুল আমিনের জীবন, সাহিত্যকর্ম ও মানবিক উদ্যোগের বিস্তৃত অধ্যায়

উলিপুরে ১৮ শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধ: বিএনপি নেতা ও সাবেক আওয়ামী লীগ জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে দখল ও হুমকির অভিযোগ

বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ ডেস্ক রিপোর্ট / ২২৬ Time View
Update : সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬

 

রেজিস্ট্রিকৃত দলিল, নামজারি ও দীর্ঘদিনের ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের নথি থাকার দাবি প্রকৌশলী আবু সাঈদের; ছয় মূল মালিকের সম্মতি, স্ট্যাম্পের তারিখ, সাক্ষীদের পরিচয় ও কথিত চুক্তিপত্রের আইনগত গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন

বিশেষ প্রতিনিধি | কুড়িগ্রাম

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার বজরা ইউনিয়নের বাবুরহাট বাজার এলাকায় ১৮ শতাংশ জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে বিরোধ ঘিরে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। জমি ক্রয়, রেজিস্ট্রিকৃত দলিল, নামজারি, ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ, কথিত অঙ্গীকারনামার স্বাক্ষর, স্ট্যাম্পের তারিখ এবং সাক্ষীদের পরিচয়,সব মিলিয়ে বিরোধটি এখন আইনি ও প্রশাসনিক গুরুত্ব পেয়েছে। জমির ক্রেতা হিসেবে দাবি করা সাবেক ছাত্রদল নেতা ও প্রকৌশলী মো. আবু সাঈদ (জনী) অভিযোগ করেছেন, তাঁর ক্রয় করা জমি নিয়ে বিরোধের মধ্যে কথিত পুরোনো তারিখের স্ট্যাম্পে তৈরি অঙ্গীকারনামা ব্যবহার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।

আবু সাঈদের ভাষ্য অনুযায়ী, জমিটির রেজিস্ট্রিকৃত বিক্রয়দলিল, নামজারি, খারিজ-সংক্রান্ত কাগজপত্র, হোল্ডিংয়ের তথ্য এবং দীর্ঘদিনের ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের রসিদ তাঁর কাছে রয়েছে। তাঁর দাবি, প্রায় ১৬ বছরের খাজনা পরিশোধের নথিও জমি নিয়ে তাঁর দাবির সমর্থনে রয়েছে। অন্যদিকে, জমিতে অবস্থানকারী ব্যক্তিদের কথিত অঙ্গীকারনামা ও তাঁদের দাবির আইনগত ভিত্তি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

অভিযোগকারীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিরোধপূর্ণ জমিটি উলিপুর উপজেলার বজরা ইউনিয়নের বাবুরহাট বাজারসংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত। উল্লেখিত খতিয়ান নম্বর ২০২৬-১০০০৩৮, দাগ নম্বর ৯৪৭ এবং জমির পরিমাণ ১৮ শতাংশ। তবে এসব তথ্যের সঙ্গে মূল দলিল, সরকারি ভূমি রেকর্ড এবং সংশ্লিষ্ট আদালতের নথির পূর্ণাঙ্গ মিল যাচাই করেই জমিটির সুনির্দিষ্ট পরিচয় ও মালিকানার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা সম্ভব।

দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ-এর অনুসন্ধানের মূল প্রশ্ন হলো—কথিত অঙ্গীকারনামাটি কখন, কার মাধ্যমে এবং কী উদ্দেশ্যে সম্পাদিত হয়েছিল; এতে ব্যবহৃত স্বাক্ষরগুলোর সত্যতা কী; সংশ্লিষ্ট সাক্ষীদের পরিচয় ও উপস্থিতির দাবির পক্ষে কী প্রমাণ রয়েছে; এবং জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে উভয় পক্ষের আইনগত অবস্থান কী।

১. বিরোধের কেন্দ্রে ১৮ শতাংশ জমি: দলিল ও দখল নিয়ে দ্বন্দ্ব

প্রকৌশলী মো. আবু সাঈদ (জনী) দাবি করেছেন, তিনি আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে জমিটি ক্রয় করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, জমির রেজিস্ট্রিকৃত বিক্রয়দলিলের পাশাপাশি নামজারি, খারিজ, হোল্ডিং-সংক্রান্ত তথ্য এবং ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের নথি রয়েছে। এসব কাগজপত্রের ভিত্তিতে তিনি জমির ওপর নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবি করছেন।

তাঁর অভিযোগ, জমিতে বর্তমানে অবস্থানকারী ব্যক্তিদের সঙ্গে পূর্ববর্তী মালিকদের সম্পর্ক ছিল ভাড়াটিয়া বা ব্যবসায়িক দখলদার হিসেবে। তাঁদের কেউ কেউ জমিতে দোকান বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন বলে দাবি করেছেন তিনি। আবু সাঈদের ভাষ্য, জমিটি কেনার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তাঁরা তা গ্রহণ করেননি। পরে জমি বিক্রির বিষয়টি জানাজানি হলে দখল নিয়ে বিরোধ তীব্র হয়।

তবে জমিতে দীর্ঘদিন ব্যবসা পরিচালনা করা, ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকা কিংবা অন্য কোনো চুক্তির ভিত্তিতে দখলে থাকার বিষয়গুলো আলাদাভাবে যাচাই করা। কোনো ব্যক্তি দীর্ঘদিন জমিতে ব্যবসা করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে জমির মালিক হয়ে যান না। একইভাবে, রেজিস্ট্রিকৃত দলিল থাকার দাবি করলেই অন্য পক্ষের সম্ভাব্য বৈধ চুক্তি বা আইনগত অধিকার উপেক্ষা করা যায়।

প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণে মূল মালিকদের স্বত্ব, জমির বিক্রয়দলিলের ধারাবাহিকতা, দলিলের তফসিল, জমির দখলের ইতিহাস এবং আদালতে দাখিল করা নথি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। নামজারি ও খাজনার রসিদ গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক নথি হলেও এগুলো এককভাবে চূড়ান্ত মালিকানার প্রমাণ।

২. কথিত অঙ্গীকারনামা নিয়ে প্রশ্ন: ছয় মালিকের সম্মতি কোথায়?

আবু সাঈদের অভিযোগ, জমির পূর্ববর্তী মালিক ছিলেন ছয়জন। কিন্তু প্রতিপক্ষের পক্ষ থেকে উপস্থাপিত কথিত অঙ্গীকারনামায় ছয়জনের সম্মতি বা স্বাক্ষর নেই; সেখানে মাত্র একজনের স্বাক্ষর রয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন। তাঁর প্রশ্ন, একজন ব্যক্তি কোন আইনগত ক্ষমতায় অন্য মালিকদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে অঙ্গীকার করেছিলেন এবং ওই নথির ভিত্তি কি?

এ ক্ষেত্রে অঙ্গীকারনামার প্রকৃতি বোঝা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নথিটি কি একজনের নিজস্ব অংশসংক্রান্ত অঙ্গীকার, নাকি সব মালিকের পক্ষ থেকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি? স্বাক্ষরকারী ব্যক্তি অন্য মালিকদের পক্ষে কাজ করার বৈধ ক্ষমতা পেয়েছিলেন কি না, কিংবা অন্য মালিকেরা পরে কোনোভাবে সম্মতি দিয়েছিলেন কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর মূল নথি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য থেকে খুঁজতে হবে।

সব সহমালিকের স্বাক্ষর না থাকলেই প্রতিটি পরিস্থিতিতে কোনো দলিল স্বয়ংক্রিয়ভাবে জাল বা বাতিল হয়ে যায় না। তবে কারও অনুমতি ছাড়া তাঁর নামে স্বাক্ষর করা হয়ে থাকলে কিংবা অন্যের পরিচয় ব্যবহার করে মিথ্যা নথি তৈরি করা হয়ে থাকলে তা জালিয়াতির গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।

তাই কথিত অঙ্গীকারনামার মূল কপি, স্বাক্ষরকারীর পরিচয়, তাঁর ক্ষমতার ভিত্তি, সংশ্লিষ্ট মালিকদের বক্তব্য এবং প্রয়োজনে স্বাক্ষরের বিশেষজ্ঞ পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। এসব যাচাইয়ের ফল ছাড়া নথিটিকে চূড়ান্তভাবে জাল ঘোষণা করা সমীচীন।

৩. কথিত ব্যাকডেটেড স্ট্যাম্প: তারিখ ও উৎস নিয়ে তদন্তের দাবি

অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, কথিত অঙ্গীকারনামায় ব্যবহৃত স্ট্যাম্পটি উলিপুরের পরিবর্তে অন্য একটি উপজেলা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল। আবু সাঈদের সন্দেহ, নথিটিকে পুরোনো সময়ের চুক্তি হিসেবে উপস্থাপন করার উদ্দেশ্যে স্ট্যাম্পটি ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অন্য উপজেলা থেকে স্ট্যাম্প কেনা নিজে থেকে কোনো দলিলকে জাল প্রমাণ করে না। একইভাবে, কোনো নথিতে পুরোনো তারিখ লেখা থাকলেই সেটিকে জাল বলা যায় না। তবে নথিতে উল্লেখিত তারিখের সঙ্গে স্ট্যাম্পের প্রকৃত বিক্রয়তারিখ, স্ট্যাম্প বিক্রেতার রেজিস্টার, ক্রেতার পরিচয়, সাক্ষীদের বক্তব্য কিংবা অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্যের অসংগতি পাওয়া গেলে তা তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে।

এ কারণে কথিত অঙ্গীকারনামায় ব্যবহৃত স্ট্যাম্পের নম্বর, বিক্রয়ের তারিখ, বিক্রেতার রেকর্ড এবং নথিটি বাস্তবে কখন সম্পাদিত হয়েছিল—এসব তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নথির উৎস ও সত্যতা পরীক্ষা করা যেতে পারে।

অভিযোগকারী পক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, কথিত অঙ্গীকারনামাটি জমির বিক্রয় ও দখলসংক্রান্ত বিরোধে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। ফলে এর প্রকৃত তারিখ, সম্পাদনকারীদের পরিচয় এবং আইনগত প্রভাব নির্ধারণ করা বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে।

৪. স্ট্যাম্পে লেখা চুক্তি ও রেজিস্ট্রিকৃত বিক্রয়দলিল: আইনগত পার্থক্য

আবু সাঈদের প্রশ্ন, জমি বিক্রির অর্থ পরিশোধ বা বিক্রির বিষয়ে পূর্ববর্তী কোনো সমঝোতা হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট পক্ষ যথাযথ রেজিস্ট্রিকৃত দলিল সম্পাদন করেননি কেন। তাঁর দাবি, প্রতিপক্ষের কথিত অঙ্গীকারনামা তাঁর ক্রয় করা জমির ওপর অধিকার নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করছে।

আইনগতভাবে জমি বিক্রির চুক্তি এবং জমির মালিকানা হস্তান্তরের দলিল এক বিষয় নয়। কোনো স্ট্যাম্পে লেখা কাগজের আইনগত মূল্য নির্ভর করে তার ভাষা, সম্পাদনের সময়, প্রযোজ্য আইন, নিবন্ধনসংক্রান্ত শর্ত এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের অধিকার ও দায়বদ্ধতার ওপর।

সাধারণভাবে, কেবল নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে লেখা একটি কাগজকে রেজিস্ট্রিকৃত বিক্রয়দলিলের সমতুল্য ধরে নেওয়া যায় না। তবে এ ধরনের কাগজের কোনো আইনগত মূল্য নেই—এমন সিদ্ধান্তও সব ক্ষেত্রে সঠিক নয়। কোনো নথি চুক্তির প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য, তা থেকে কী অধিকার সৃষ্টি হয়েছে এবং তা অন্য কোনো দলিলের ওপর কী প্রভাব ফেলে—এসব প্রশ্ন আদালত প্রযোজ্য আইন ও প্রমাণের ভিত্তিতে নির্ধারণ করতে পারেন।

তাই কথিত অঙ্গীকারনামাটি ঠিক কী দাবি প্রতিষ্ঠার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটি জানা জরুরি। নথিটি জমির মালিকানা হস্তান্তরের দাবি করছে, নাকি পূর্ববর্তী কোনো চুক্তি, পাওনা, দখল বা অন্য কোনো অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য উপস্থাপন করা হচ্ছে—তা মূল নথি পরীক্ষা করে নির্ধারণ করতে হবে।

৫. সাক্ষীদের পরিচয়, বয়স ও উপস্থিতি নিয়ে অভিযোগ

কথিত অঙ্গীকারনামার সাক্ষীদের পরিচয় ও ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন আবু সাঈদ। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সাক্ষীদের মধ্যে ফয়জার মেম্বার ও আবু বক্করের স্থানীয় বাজারের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে। তৃতীয় সাক্ষী মাজেদুর রহমানের বিষয়ে তিনি দাবি করেছেন, সংশ্লিষ্ট সময়ে তিনি ঢাকায় কর্মরত ছিলেন এবং তাঁর জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য অনুযায়ী, নথি সম্পাদনের সময় তাঁর বয়স অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার কথা।

এসব দাবি যাচাইয়ের জন্য সাক্ষীদের পূর্ণ পরিচয়, জন্মতারিখ, নথি সম্পাদনের সময়কার অবস্থান, কর্মস্থলের তথ্য এবং অঙ্গীকারনামায় তাঁদের স্বাক্ষরের সত্যতা পরীক্ষা করা দরকার। সংশ্লিষ্ট সময়ে কেউ ঢাকায় ছিলেন কি না, তা কর্মস্থলের রেকর্ড, উপস্থিতির তথ্য, যোগাযোগের নথি কিংবা অন্যান্য নির্ভরযোগ্য প্রমাণের মাধ্যমে যাচাই করা যেতে পারে।

কোনো সাক্ষী বাজারে ব্যবসা করতেন বা রাজনৈতিকভাবে পরিচিত ছিলেন—এ কারণে তাঁর সাক্ষ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে অবিশ্বাস্য হয়ে যায় না। একইভাবে, জাতীয় পরিচয়পত্রে থাকা তথ্যের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট তারিখে কারও বয়স সম্পর্কে প্রশ্ন উঠলে মূল জন্মতথ্য ও নথির তারিখ মিলিয়ে দেখতে হবে।

অতএব, সাক্ষীদের পরিচয় ও উপস্থিতি নিয়ে অভিযোগগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে পরীক্ষা করা দরকার। তবে মূল নথি ও প্রমাণ যাচাই ছাড়া তাঁদের কাউকে জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত বলে চূড়ান্তভাবে চিহ্নিত করা যাবে না।

৬. জমি বিক্রির পর দেওয়ানি মামলা: বিরোধের সময়রেখা গুরুত্বপূর্ণ

আবু সাঈদের দাবি, জমির রেজিস্ট্রিকৃত বিক্রয় সম্পন্ন হওয়ার পর প্রতিপক্ষ দেওয়ানি আদালতে মামলা করেছে। তাঁর প্রশ্ন, জমির ওপর তাঁদের বৈধ দাবি থাকলে বিক্রয়ের আগে কেন তাঁরা আপত্তি জানাননি।

মামলা দায়েরের সময় বিরোধের ইতিহাস বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হতে পারে। তবে জমি বিক্রির আগে মামলা না করা বা আপত্তি না জানানো—এ কারণেই কোনো পক্ষের দাবি স্বয়ংক্রিয়ভাবে মিথ্যা হয়ে যায় না। বিরোধের প্রকৃতি, পক্ষগুলোর পূর্ববর্তী যোগাযোগ এবং জমির মালিকানা নিয়ে তাঁদের জ্ঞানের বিষয়গুলোও বিবেচনায় নিতে হবে।

এ ক্ষেত্রে আদালতে দায়ের করা মামলার আরজি, লিখিত জবাব, সংযুক্ত দলিল, মামলার নম্বর, দায়েরের তারিখ এবং আদালতের আদেশ পর্যালোচনা করা জরুরি। আদালত কোনো নিষেধাজ্ঞা বা স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়ে থাকলে তা উভয় পক্ষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আদালতের আদেশ অমান্য করা হয়েছে কি না, সেটিও প্রমাণের ভিত্তিতে নির্ধারণ করতে হবে।

মামলার পূর্ণাঙ্গ নথি ছাড়া কোনো পক্ষের উদ্দেশ্য সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া ঠিক হবে না। তবে জমির দলিল ও কথিত অঙ্গীকারনামার মধ্যে বিরোধ থাকলে আদালতের নথি থেকে উভয় পক্ষের দাবির প্রকৃতি স্পষ্ট হতে পারে।

৭. বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তরে লিখিত অভিযোগ: সাংগঠনিক ব্যবস্থা চেয়েছেন আবু সাঈদ

প্রকৌশলী আবু সাঈদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৩ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। অভিযোগপত্রের অনুলিপি বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আবদুল খালেক এবং কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেছেন।

অভিযোগে তবকপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. রেজাউল করিম মণ্ডল (রাজা) এবং বজরা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য মো. ফয়েজ আহমেদ (ফয়জার)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে বলে আবু সাঈদ জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, জমি নিয়ে বিরোধে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা প্রভাব বিস্তার করছেন। সালিশের নামে চাঁদাবাজি ও জমি দখলের অভিযোগের সঙ্গেও তাঁদের নাম জড়িয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন।

অভিযোগকারীর বক্তব্য, এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তবে কোনো রাজনৈতিক পদে থাকা কিংবা অভিযোগে নাম আসার ভিত্তিতে কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা যায়। চাঁদাবাজি, জবরদখল বা রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহারের মতো গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে লিখিত অভিযোগ, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য, অর্থ লেনদেনের প্রমাণ, প্রশাসনিক নথি এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আবু সাঈদের অভিযোগপত্র বিএনপির সংশ্লিষ্ট দপ্তরে গ্রহণ করা হয়েছে কি না, এ বিষয়ে কোনো তদন্ত বা সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না—তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের মাধ্যমে নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযোগে নাম আসা ব্যক্তিদের বক্তব্য নেওয়াও জরুরি।

এ প্রতিবেদনে উল্লিখিত রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়গুলো অভিযোগকারীর বক্তব্য হিসেবে উপস্থাপিত হচ্ছে। স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণসহ এগুলোকে প্রতিষ্ঠিত ঘটনা হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে ।

৮. প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ: পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

প্রকৌশলী মো. আবু সাঈদ (জনী) অভিযোগ করেছেন, জমি নিয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পর তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তাঁর দাবি, বাড়িতে এসে গালিগালাজ করা হচ্ছে এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হচ্ছে।

নিজের বক্তব্যে আবু সাঈদ বলেন, “আমি জোরপূর্বক কাউকে তুলে দিতে চাই না। আমি কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে বৈধভাবে জমি কিনেছি এবং জমির সমস্ত আইনি কাগজপত্র আমার নামে হালনাগাদ রয়েছে। আমি ন্যায়বিচারের জন্য আদালতের আশ্রয় নিয়েছি এবং আদালতের চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষায় থাকব। কিন্তু আমি আইনি পথে হাঁটছি বলেই প্রতিপক্ষ আমাকে ও আমার পরিবারকে অনবরত প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে, বাড়িতে এসে গালিগালাজ করছে এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখাচ্ছে।”

তিনি আরও দাবি করেছেন, কোনো ব্যক্তি বা ওয়ারিশের বৈধ অধিকার থাকলে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র নিয়ে আদালতে তা প্রতিষ্ঠা করা উচিত।

তবে কথিত হুমকির ঘটনা কখন, কোথায় এবং কার মাধ্যমে ঘটেছে, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা দরকার। এ বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি বা লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে , কোনো প্রত্যক্ষদর্শী আছেন কি না, ফোনকল, বার্তা, অডিও-ভিডিও বা অন্য কোনো প্রমাণ রয়েছে কি না—এসব তথ্য তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ থাকলেও কোনো পক্ষেরই হুমকি, ভয়ভীতি বা বেআইনি চাপ সৃষ্টি করার অধিকার নেই। বাস্তব নিরাপত্তাঝুঁকি থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানানো এবং আইনগত সুরক্ষা চাওয়া জরুরি।

৯. ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩: কোন বিধান প্রাসঙ্গিক হতে পারে?

বাংলাদেশের ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩-এর কিছু বিধান জমি নিয়ে প্রতারণা, বেআইনি দখল এবং দখল পুনরুদ্ধারের প্রশ্নে প্রাসঙ্গিক হতে পারে। তবে নির্দিষ্ট ধারার প্রয়োগ নির্ভর করে ঘটনার প্রকৃতি, জমির স্বত্ব ও দখলের অবস্থা এবং আইনের শর্ত পূরণ হয়েছে কি না, তার ওপর।

ধারা ৪—ভূমি প্রতারণাসংক্রান্ত অপরাধ: অন্যের জমি নিজের বলে প্রচার, আইনগত ক্ষমতা ছাড়া অন্যের জমি হস্তান্তর কিংবা নির্দিষ্ট ধরনের মিথ্যা তথ্য বা দলিলের মাধ্যমে প্রতারণার অভিযোগ প্রমাণিত হলে এ ধারার প্রাসঙ্গিকতা বিবেচিত হতে পারে। আইনে এ ধারার অধীন অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে কোনো নথিতে অসংগতি পাওয়া গেলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে এ ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হয় না।

ধারা ৭—ভূমির দখলসংক্রান্ত অপরাধ:আইনগত অধিকার বা অনুমোদিত ভিত্তি ছাড়া জমি দখলে রাখার অভিযোগের ক্ষেত্রে এ ধারার প্রাসঙ্গিকতা পরীক্ষা করা যেতে পারে। নির্দিষ্ট আইনগত শর্ত পূরণ হলে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান প্রযোজ্য হতে পারে। তবে এ ধারার ব্যতিক্রম ও প্রযোজ্য শর্তও বিবেচনায় নিতে হবে। জমির স্বত্ব নিয়ে দেওয়ানি মামলা চলমান থাকলেই এক পক্ষ স্বয়ংক্রিয়ভাবে অপরাধী হয়ে যায় না।

ধারা ৮—দখল পুনরুদ্ধারের প্রতিকার:নির্দিষ্ট শর্তে আইনসম্মত দখল থেকে বেআইনিভাবে উচ্ছেদ বা দখলচ্যুত হওয়ার অভিযোগে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় দখল পুনরুদ্ধারের আবেদন করা যেতে পারে। এ প্রতিকার প্রযোজ্য হবে কি না, তা সংশ্লিষ্ট ঘটনা, দখলের ইতিহাস এবং আইনের শর্ত যাচাই করে নির্ধারণ করতে হবে।

অতএব, বর্তমান বিরোধে কোন পক্ষের স্বত্ব বা দখলের অধিকার রয়েছে এবং কোনো নির্দিষ্ট অপরাধ সংঘটিত হয়েছে কি না, তা তদন্ত ও প্রমাণের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

১০. দণ্ডবিধিতে জালিয়াতি ও জাল দলিল ব্যবহারের শাস্তি

জমি-সংক্রান্ত নথিতে স্বাক্ষর জাল করা, মিথ্যা দলিল তৈরি বা জাল দলিলকে আসল হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগের ক্ষেত্রে দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর সংশ্লিষ্ট বিধান প্রাসঙ্গিক হতে পারে।

ধারা ৪৬৫—জালিয়াতির শাস্তি:জালিয়াতির অপরাধ প্রমাণিত হলে এ ধারায় সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।

ধারা ৪৬৮—প্রতারণার উদ্দেশ্যে জালিয়াতি: প্রতারণার উদ্দেশ্যে জাল দলিল তৈরির অপরাধ প্রমাণিত হলে এ ধারায় সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড হতে পারে।

ধারা ৪৭১—জাল দলিলকে আসল হিসেবে ব্যবহার:কোনো ব্যক্তি জাল দলিলকে আসল হিসেবে অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেন এবং দলিলটি জাল বলে জানেন বা বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ থাকা সত্ত্বেও ব্যবহার করেন—এমন পরিস্থিতিতে এ ধারা প্রযোজ্য হতে পারে। এ ধারায় শাস্তি নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট জালিয়াতির ধরন অনুযায়ী আইনের বিধান বিবেচনা করা হয়।

এসব বিধানের প্রয়োগের আগে কথিত অঙ্গীকারনামার সত্যতা, স্বাক্ষরকারীর পরিচয়, নথি তৈরির উদ্দেশ্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা প্রমাণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে বলেই তাঁর বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে—এমন বলা যায় না।

১১. প্রাণনাশের হুমকি: দণ্ডবিধির ৫০৩ ও ৫০৬ ধারা

দণ্ডবিধির ৫০৩ ধারায় ফৌজদারি ভয়ভীতি প্রদর্শনের সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। কারও ব্যক্তি, সুনাম বা সম্পত্তির ক্ষতির হুমকি দিয়ে তাঁকে আতঙ্কিত করা কিংবা আইনগতভাবে তাঁর অধিকারভুক্ত কোনো কাজ থেকে বিরত রাখতে বাধ্য করার উদ্দেশ্য থাকলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এ ধারার প্রশ্ন উঠতে পারে।

দণ্ডবিধির ৫০৬ ধারায় এ অপরাধের শাস্তির বিধান রয়েছে। সাধারণ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে। মৃত্যুর বা গুরুতর আঘাতের হুমকিসহ আইনে উল্লেখিত গুরুতর পরিস্থিতিতে সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে।

প্রকৌশলী আবু সাঈদ ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ সত্য হলে ঘটনার ধরন, হুমকির ভাষা, উদ্দেশ্য, সাক্ষ্য ও অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রশ্ন উঠতে পারে। তবে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রযোজ্য আইন অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।

১২. নিরপেক্ষ তদন্তে যেসব নথি ও তথ্য গুরুত্বপূর্ণ

বাবুরহাট বাজারের ১৮ শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য আবেগ, রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা ব্যক্তিগত প্রভাবের পরিবর্তে প্রমাণনির্ভর তদন্ত প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

প্রথমত, প্রকৌশলী আবু সাঈদের নামে সম্পাদিত রেজিস্ট্রিকৃত বিক্রয়দলিলের মূল বা প্রত্যয়িত অনুলিপি এবং দলিলের তফসিল পরীক্ষা করতে হবে।

দ্বিতীয়ত, পূর্ববর্তী মালিকদের স্বত্বের ধারাবাহিকতা, ছয় মালিকের অংশ, সংশ্লিষ্ট খতিয়ান, দাগ, মৌজা ও জমির পরিমাণ সরকারি রেকর্ডের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে হবে।

তৃতীয়ত, নামজারি, খারিজ, ভূমি উন্নয়ন করের রসিদ এবং সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের নথি যাচাই করা প্রয়োজন।

চতুর্থত, প্রতিপক্ষের কথিত অঙ্গীকারনামার মূল কপি, স্ট্যাম্পের নম্বর ও ক্রয়সংক্রান্ত রেকর্ড, নথির তারিখ, স্বাক্ষর এবং সাক্ষীদের পরিচয় পরীক্ষা করতে হবে।

পঞ্চমত, দেওয়ানি মামলার আরজি, লিখিত জবাব, সংযুক্ত দলিল, মামলার নম্বর, আদালতের অন্তর্বর্তী আদেশ এবং মামলার বর্তমান অবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

ষষ্ঠত, কথিত প্রাণনাশের হুমকি, চাঁদাবাজি বা বেআইনি চাপ সৃষ্টির অভিযোগের পক্ষে কোনো লিখিত অভিযোগ, জিডি, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য কিংবা অন্যান্য প্রমাণ থাকলে তা আলাদাভাবে যাচাই করতে হবে।

সংশ্লিষ্ট পূর্ববর্তী মালিকদের বক্তব্য সংগ্রহ করাও গুরুত্বপূর্ণ। তাঁরা জমি বিক্রির সময় কী শর্তে সম্মত হয়েছিলেন, কথিত অঙ্গীকারনামা সম্পর্কে জানেন কি না এবং কেউ অন্যের পক্ষে স্বাক্ষর করার অনুমতি দিয়েছিলেন কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর বিরোধের প্রকৃতি বুঝতে সহায়তা করবে।

১৩. অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য ও জবাবের অধিকার

একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের বিশ্বাসযোগ্যতা নির্ভর করে অভিযোগের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য যথাযথভাবে তুলে ধরার ওপর। এ প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলোর প্রধান উৎস প্রকৌশলী আবু সাঈদের দেওয়া তথ্য ও তাঁর দাবির বিবরণ।

প্রতিপক্ষের কথিত অঙ্গীকারনামা, জমিতে তাঁদের অবস্থানের আইনগত ভিত্তি, পূর্ববর্তী মালিকদের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক এবং দেওয়ানি মামলা দায়েরের কারণ সম্পর্কে তাঁদের বক্তব্য সংগ্রহ করা প্রয়োজন। একইভাবে, অভিযোগে নাম আসা রাজনৈতিক ব্যক্তিদের কাছ থেকেও অভিযোগগুলোর বিষয়ে ব্যাখ্যা নেওয়া জরুরি।

বিএনপির সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগপত্র পৌঁছেছে কি না এবং এ বিষয়ে কোনো সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি  সেটিও নিশ্চিত করা দরকার।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে। তাঁদের দেওয়া কোনো নথি বা বক্তব্যের সঙ্গে প্রতিবেদনের তথ্যের গুরুত্বপূর্ণ অসংগতি থাকলে তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় সংশোধন বা হালনাগাদ করা হবে,কিন্তু একধিকবার ফোন দেয়ার পর আওয়ামী লীগের সাবেক মেম্বার রিসিভ করে বলেন, আমি এসব বিষয় কিছু জানিনা দল পাওয়ার যসদের তারা ভালো বলতে পারবে, এসব নিয়ে আমি কিছু বললে বিএনপির সভাপতি আমাকে মেরে ফেলবে।

জমির বিরোধে প্রভাব নয়, নথি ও আইনই হোক সিদ্ধান্তের ভিত্তি

উলিপুরের বজরা ইউনিয়নের বাবুরহাট বাজার এলাকার ১৮ শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধটি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে। প্রকৌশলী মো. আবু সাঈদ রেজিস্ট্রিকৃত দলিল, নামজারি ও দীর্ঘদিনের ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের নথির ভিত্তিতে মালিকানা দাবি করছেন। অন্যদিকে, জমিতে অবস্থানকারী ব্যক্তিদের দাবির আইনগত ভিত্তি এবং তাঁদের ব্যবহৃত কথিত অঙ্গীকারনামার প্রকৃত অবস্থা নির্ধারণ করা জরুরি।

কথিত স্বাক্ষর জালিয়াতি, পুরোনো তারিখের স্ট্যাম্পে নথি তৈরির অভিযোগ, সাক্ষীদের পরিচয় ও উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের দাবি এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ—প্রতিটি বিষয়ই গুরুত্ব দিয়ে যাচাই করা প্রয়োজন। এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে মূল নথি, নির্ভরযোগ্য সাক্ষ্য, সরকারি রেকর্ড এবং নিরপেক্ষ তদন্তের বিকল্প নেই।

যদি কোনো দলিল জাল করা, প্রতারণা, বেআইনি দখল বা ফৌজদারি ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে প্রযোজ্য আইনের অধীনে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। একইভাবে, প্রতিপক্ষের কোনো বৈধ চুক্তি, স্বত্ব বা দখলের অধিকার থাকলে সেটিও আইন অনুযায়ী বিবেচনা করতে হবে।

জমির প্রকৃত মালিকানা ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের অধিকার নির্ধারণের দায়িত্ব আদালত ও আইনগত প্রক্রিয়ার। রাজনৈতিক পরিচয়, সামাজিক প্রভাব বা ব্যক্তিগত শক্তির ভিত্তিতে কারও অধিকার প্রতিষ্ঠা কিংবা বাতিল করা যায় না। প্রয়োজন সব পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ, মূল নথি পরীক্ষা, কথিত অঙ্গীকারনামার সত্যতা নিরূপণ এবং আইনসম্মত সিদ্ধান্ত।


More News Of This Category
bdit.com.bd