• শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:১৭ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনাম
গাজীপুরে মেট্রিক্স গার্মেন্টসে আগুন, ৬৭ জনকে জীবিত উদ্ধার আটতলা ভবনের তৃতীয় তলায় অগ্নিকাণ্ড, আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৯টি ইউনিট যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের বড় ধাক্কা, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যশোরের বেনাপোলে মোটরসাইকেল মিছিল করেছেন স্থলবন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়ন ৯২৫ ও ৮৯১-এর নেতাকর্মীরা। ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক চেতনায় বেনাপোলকে আধুনিক সীমান্ত নগরী গড়ার প্রত্যয়, জনআস্থার রাজনীতিতে আবু তাহের ভারত এমপি মাজেদ বাবুর বিরুদ্ধে হত্যার ষড়যন্ত্র ও হলফনামায় জালিয়াতির অভিযোগ হাসিনার সেই ‘৪০০ কোটির পিয়ন’ জাহাঙ্গীর: অনুসন্ধান থেকে ১০০ কোটি টাকা পাচারের মামলা, দুই বছরে কতদূর তদন্ত? পরিচয় নিয়ে নতুন বিতর্ক, কোন পক্ষ কতটা যৌক্তিক? ১৭ বছর আওয়ামী লীগের এমপির ‘ছায়াতল’ ও লটারির নাটক: পঞ্চগড়ে চালের ডিলারশিপ বাগিয়ে নেওয়া হাইব্রিড বিএনপি নেতা একরামুল হক মুন্না যশোরে আওয়ামী লীগের নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগের প্রতিবাদে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হঠাৎ ‘স্যরি’ বলল প্রথম আলো, কেন এই ক্ষমা চাওয়া? সামনে এলো আসল কারণ কবিতা, কলম ও রাষ্ট্রচিন্তায় বহুমাত্রিক পথচলা: কবি অথই নূরুল আমিনের জীবন, সাহিত্যকর্ম ও মানবিক উদ্যোগের বিস্তৃত অধ্যায়

শারীরিক অসুস্থতায় অফিসে অনুপস্থিত ছিলেন দুর্গাপুরের খাদ্য নিয়ন্ত্রক, কক্ষ তালাবদ্ধ থাকা নিয়ে আলোচনা

বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ ডেস্ক রিপোর্ট / ১০২ Time View
Update : শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬

 

শারীরিক অসুস্থতায় অফিসে অনুপস্থিত ছিলেন দুর্গাপুরের খাদ্য নিয়ন্ত্রক, কক্ষ তালাবদ্ধ থাকা নিয়ে আলোচনা

ছুটি নেওয়ার দাবি মাহমুদা আক্তার মুন্নীর, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের বক্তব্যেও উঠে এসেছে অসুস্থতা ও পারিবারিক সমস্যার প্রসঙ্গ; বিষয়টি মানবিকভাবে বিবেচনার আহ্বান সিনিয়র সাংবাদিকের

বিশেষ প্রতিবেদক:

নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে কর্মকর্তার কক্ষ তালাবদ্ধ থাকা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার অনুপস্থিতিকে কেন্দ্র করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের ব্যাখ্যা এবং একজন সিনিয়র সাংবাদিকের মতামত থেকে জানা গেছে, দুর্গাপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (চলতি দায়িত্ব) মাহমুদা আক্তার মুন্নী গত বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, শারীরিক অসুস্থতার কারণে কার্যালয়ে উপস্থিত হতে পারেননি বলে জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে ফোন করে ছুটির বিষয়টি জানিয়েছিলেন।

কোনো সরকারি দপ্তরে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার অনুপস্থিতি, অফিসকক্ষ তালাবদ্ধ থাকা কিংবা নাগরিকদের সেবা গ্রহণে সম্ভাব্য অসুবিধার বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে কোনো কর্মকর্তা অসুস্থতার কারণে দায়িত্ব পালন করতে না পারলে তাঁর বক্তব্য, ছুটির প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বাস্তব পরিস্থিতিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে অভিযোগ বা একপক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য ও দাপ্তরিক তথ্য যাচাই করা জরুরি।

অসুস্থতার কারণে অফিসে যেতে পারেননি বলে দাবি কর্মকর্তার

দুর্গাপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (চলতি দায়িত্ব) মাহমুদা আক্তার মুন্নী জানান, গত বৃহস্পতিবার তিনি প্রচণ্ড শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। এ কারণে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এএসি ফুড হিসেবে উল্লেখ করা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে ফোন করে ছুটির বিষয়টি জানিয়েছিলেন বলে দাবি করেন।

নিজের শারীরিক অবস্থার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, মানুষ হিসেবে তাঁরও অসুস্থ হওয়ার স্বাভাবিক অধিকার রয়েছে। অসুস্থতার কারণে অফিসে উপস্থিত হতে না পারার বিষয়টি জানানোর পরও তাঁকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে বলে তিনি হতাশা প্রকাশ করেন।

মাহমুদা আক্তার মুন্নীর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি এমনিতেই কিছু প্রশাসনিক ও ব্যক্তিগত সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর বাড়ি জামালপুরে। দুর্গাপুরে বাসা ভাড়া নিয়ে তাঁকে দায়িত্ব পালন করতে হয়। এর পাশাপাশি দাপ্তরিক পরিস্থিতি নিয়েও তিনি মানসিক চাপে রয়েছেন বলে জানান।

তিনি আরও বলেন, অসুস্থতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিককে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য একাধিকবার অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু তাঁর অনুরোধের পরও প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তবে তাঁর বক্তব্যে ছুটি গ্রহণের বিষয়টি উঠে এলেও ছুটির আনুষ্ঠানিক অনুমোদন, সংশ্লিষ্ট দাপ্তরিক নথি কিংবা উপস্থিতি রেজিস্টারের তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে ছুটি অনুমোদিত হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলতে হলে সংশ্লিষ্ট নথি পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

অফিসকক্ষ তালাবদ্ধ থাকার পেছনে কী কারণ?

দুর্গাপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কক্ষ তালাবদ্ধ থাকার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হলেও কক্ষটি ঠিক কখন এবং কার সিদ্ধান্তে তালাবদ্ধ করা হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত দাপ্তরিক তথ্য পাওয়া যায়নি।

মাহমুদা আক্তার মুন্নী জানান, তাঁর কার্যালয়ে জনবল সীমিত। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কার্যালয়ে একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী রয়েছেন, যিনি সকালে এসে কক্ষ পরিষ্কার করে দুপুর ১২টার দিকে চলে যান। তবে কার্যালয়ের মোট অনুমোদিত জনবল, কর্মরত কর্মচারীর সংখ্যা এবং সংশ্লিষ্ট দিনে অন্য কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন।

সরকারি কার্যালয়ে কর্মকর্তা ও কর্মচারীর উপস্থিতি, দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা এবং সেবাপ্রার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। অন্যদিকে, কোনো কর্মকর্তা অসুস্থ হলে তাঁর অনুপস্থিতিতে বিকল্প দায়িত্ব পালনের ব্যবস্থা ছিল কি না, সেটিও প্রশাসনিক পর্যালোচনার বিষয়।

কক্ষ তালাবদ্ধ থাকার কারণে কোনো সেবাপ্রার্থী সরাসরি সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন কি না, এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো ভুক্তভোগীর বক্তব্য বা লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তাই এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জনসেবা ব্যাহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত তথ্য হিসেবে উল্লেখ করার সুযোগ নেই।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের বক্তব্য

নেত্রকোনা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. নাজমুল হক ভূঁইয়া এ বিষয়ে জানান, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তার মুন্নী মৌখিকভাবে পারিবারিক সমস্যা ও অসুস্থতার কথা জানিয়ে অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি তাঁকে অবহিত করেছিলেন।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার অনুপস্থিতির বিষয়ে ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে মৌখিকভাবে তথ্য দেওয়া হয়েছিল। তবে ছুটির আনুষ্ঠানিক অনুমোদন, অনুপস্থিতি নিয়ম অনুযায়ী নথিভুক্ত করা হয়েছিল কি না এবং বিকল্প দায়িত্ব পালনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না—এসব বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের দাপ্তরিক নথি, ছুটির আবেদন বা অনুমোদনসংক্রান্ত তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট দিনের উপস্থিতি রেজিস্টার পর্যালোচনা করা হলে প্রকৃত পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হতে পারে।

সাংবাদিকের সঙ্গে কথোপকথন নিয়ে কর্মকর্তার ক্ষোভ

মাহমুদা আক্তার মুন্নীর বক্তব্য অনুযায়ী, শান্ত নামের এক সাংবাদিক তাঁকে ফোন করেছিলেন। কথোপকথনের সময় তিনি নিজের শারীরিক অসুস্থতার কথা জানিয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ করেন বলে দাবি করেন।

তিনি বলেন, অসুস্থতার কথা জানানোর পরও তাঁকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় তিনি কষ্ট পেয়েছেন। তাঁর মতে, একজন সরকারি কর্মকর্তা হওয়ার আগে তিনি একজন মানুষ; তাই অসুস্থতার মতো পরিস্থিতিতে তাঁর বক্তব্য ও বাস্তব অবস্থাও বিবেচনা করা প্রয়োজন ছিল।

এখানে সাংবাদিকতার দায়িত্ব ও মানবিক বিবেচনার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার প্রশ্ন সামনে আসে। সরকারি কর্মকর্তার অনুপস্থিতি কিংবা সরকারি দপ্তরের কার্যক্রম নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য গ্রহণ, অনুপস্থিতির কারণ যাচাই এবং প্রাপ্ত তথ্য যথাযথভাবে উপস্থাপন করাও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার অংশ।

অন্যদিকে, কোনো কর্মকর্তা অসুস্থতার কথা জানালেই জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রশ্ন অনুসন্ধান বন্ধ হয়ে যাবে—এমন সিদ্ধান্তও যথাযথ নয়। বরং অসুস্থতার বিষয়টি যাচাই করে, অপ্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত তথ্য এড়িয়ে এবং প্রাসঙ্গিক দাপ্তরিক তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ করাই হতে পারে ভারসাম্যপূর্ণ পদ্ধতি।

সাংবাদিক শান্তের বক্তব্য এ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছিল কি না, সেটিও নিশ্চিত নয়। ফলে তাঁর অবস্থান, সংবাদ প্রকাশের পেছনের তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনের ভিত্তি সম্পর্কে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে তাঁর বক্তব্য নেওয়া প্রয়োজন।

সিনিয়র সাংবাদিক সাহেব আলীর প্রতিক্রিয়া

বাংলাদেশ সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির (বিজেটিপিএফ) সহসভাপতি ও সিনিয়র সাংবাদিক সাহেব আলী বিষয়টি নিয়ে নিজের মতামত জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে সাংবাদিকের কথোপকথনের অডিও রেকর্ড শুনে তাঁর কাছে মনে হয়েছে, মাহমুদা আক্তার মুন্নী নিজের শারীরিক অসুস্থতার কথা জানিয়েছেন এবং কথোপকথনে তাঁর আচরণ উগ্র বা রূঢ় ছিল বলে তাঁর মনে হয়নি। বরং তিনি ভদ্রভাবে কথা বলেছেন এবং সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়েছেন বলে সাহেব আলী মন্তব্য করেন।

সাহেব আলীর মতে, কেউ অসুস্থতার কথা জানিয়ে বারবার অনুরোধ করলে বিষয়টি মানবিকভাবে বিবেচনা করা উচিত। তিনি মনে করেন, সংবাদ প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য ও পরিস্থিতি আরও গভীরভাবে বিবেচনা করা যেত।

তবে অডিও রেকর্ডের সম্পূর্ণতা, কথোপকথনের প্রেক্ষাপট এবং অন্য কোনো তথ্যের সঙ্গে এর সামঞ্জস্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা না হলে শুধু অডিও শুনে পুরো ঘটনার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। একইভাবে, কথোপকথনে ভদ্র আচরণ থাকা কিংবা অসুস্থতার কথা জানানো—এ দুটির কোনোটিই দাপ্তরিক দায়িত্ব বা জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রশ্নের স্বয়ংক্রিয় নিষ্পত্তি নয়।

সাহেব আলী আরও বলেন, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার, নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক এবং জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের প্রতি তাঁর আহ্বান—মাহমুদা আক্তার মুন্নীর বিষয়টি মানবিক ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে বিবেচনা করা হোক। তাঁর মতে, একজন কর্মকর্তা অসুস্থ হলে পরিস্থিতি যাচাই করে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও ন্যায়সংগত আচরণ নিশ্চিত করা উচিত।

সরকারি দায়িত্ব ও মানবিকতার মধ্যে ভারসাম্য জরুরি

সরকারি দপ্তরে দায়িত্ব পালন এবং জনসেবা নিশ্চিত করা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি কর্মরত ব্যক্তিদের শারীরিক অসুস্থতা ও জরুরি পরিস্থিতির বিষয়টিও উপেক্ষা করা যায় না। সরকারি চাকরিতে ছুটি গ্রহণের নির্ধারিত বিধান রয়েছে। তাই অসুস্থতার কারণে কোনো কর্মকর্তা অনুপস্থিত থাকলে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বিধি, ছুটির অনুমোদন এবং দাপ্তরিক নথির আলোকে বিবেচনা করাই যুক্তিযুক্ত।

এ ক্ষেত্রে তিনটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, মাহমুদা আক্তার মুন্নী অসুস্থতার কারণে অনুপস্থিত ছিলেন কি না এবং ছুটির বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছিলেন কি না, তা দাপ্তরিকভাবে যাচাই করা। দ্বিতীয়ত, তাঁর অনুপস্থিতিতে কার্যালয়ের কার্যক্রম সচল রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা। তৃতীয়ত, সাংবাদিকের প্রকাশিত প্রতিবেদন কোন তথ্য ও নথির ভিত্তিতে তৈরি হয়েছিল এবং তাতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়েছিল কি না, তা পর্যালোচনা করা।

এই তিনটি প্রশ্নের উত্তর পাওয়া গেলে ঘটনাটি নিয়ে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি অনেকাংশে দূর হতে পারে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, সাংবাদিক এবং প্রশাসনের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও দায়িত্বশীলতার পরিবেশ বজায় রাখাও সম্ভব হবে।

প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ

মাহমুদা আক্তার মুন্নীর বক্তব্য এবং জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের দেওয়া তথ্য বিবেচনায় নিয়ে বিষয়টি মানবিকভাবে পর্যালোচনার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সিনিয়র সাংবাদিক সাহেব আলী।

তবে মানবিক বিবেচনার পাশাপাশি দাপ্তরিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাও জরুরি। ছুটির নিয়ম, উপস্থিতির নথি, কার্যালয়ের জনবল এবং বিকল্প দায়িত্ব পালনের ব্যবস্থা যাচাই করে প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকের বক্তব্য গ্রহণ করে সংবাদ প্রকাশের প্রেক্ষাপটও স্পষ্ট করা প্রয়োজন।

এ ঘটনায় কাউকে আগাম দায়ী করা কিংবা কারও বিরুদ্ধে প্রমাণ ছাড়া অভিযোগ তোলার পরিবর্তে তথ্য যাচাই, উভয় পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ এবং ন্যায়সংগত মূল্যায়নই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য।

দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ মনে করে, সাংবাদিকতার স্বাধীনতা, সরকারি দপ্তরের জবাবদিহি এবং একজন মানুষের ব্যক্তিগত অসুস্থতার প্রতি মানবিক বিবেচনা—এই তিনটি বিষয় পরস্পরের বিরোধী নয়। দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা মানে শুধু ঘটনা প্রকাশ করা নয়; বরং ঘটনার পেছনের বাস্তবতা অনুসন্ধান করা, সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্যকে গুরুত্ব দেওয়া এবং যাচাই করা তথ্যের ভিত্তিতে পাঠকের সামনে সত্য তুলে ধরা।

সম্পাদনা নোট: মাহমুদা আক্তার মুন্নীর ছুটির আনুষ্ঠানিক অনুমোদন, উপস্থিতি রেজিস্টার, সংশ্লিষ্ট দিনের কার্যালয়ের কার্যক্রম এবং সাংবাদিক শান্তের বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি প্রয়োজন অনুযায়ী হালনাগাদ করা হবে। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য প্রকাশের সুযোগ থাকবে।

 


More News Of This Category
bdit.com.bd