• শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:২২ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনাম
গাজীপুরে মেট্রিক্স গার্মেন্টসে আগুন, ৬৭ জনকে জীবিত উদ্ধার আটতলা ভবনের তৃতীয় তলায় অগ্নিকাণ্ড, আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৯টি ইউনিট যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের বড় ধাক্কা, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যশোরের বেনাপোলে মোটরসাইকেল মিছিল করেছেন স্থলবন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়ন ৯২৫ ও ৮৯১-এর নেতাকর্মীরা। ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক চেতনায় বেনাপোলকে আধুনিক সীমান্ত নগরী গড়ার প্রত্যয়, জনআস্থার রাজনীতিতে আবু তাহের ভারত এমপি মাজেদ বাবুর বিরুদ্ধে হত্যার ষড়যন্ত্র ও হলফনামায় জালিয়াতির অভিযোগ হাসিনার সেই ‘৪০০ কোটির পিয়ন’ জাহাঙ্গীর: অনুসন্ধান থেকে ১০০ কোটি টাকা পাচারের মামলা, দুই বছরে কতদূর তদন্ত? পরিচয় নিয়ে নতুন বিতর্ক, কোন পক্ষ কতটা যৌক্তিক? ১৭ বছর আওয়ামী লীগের এমপির ‘ছায়াতল’ ও লটারির নাটক: পঞ্চগড়ে চালের ডিলারশিপ বাগিয়ে নেওয়া হাইব্রিড বিএনপি নেতা একরামুল হক মুন্না যশোরে আওয়ামী লীগের নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগের প্রতিবাদে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হঠাৎ ‘স্যরি’ বলল প্রথম আলো, কেন এই ক্ষমা চাওয়া? সামনে এলো আসল কারণ কবিতা, কলম ও রাষ্ট্রচিন্তায় বহুমাত্রিক পথচলা: কবি অথই নূরুল আমিনের জীবন, সাহিত্যকর্ম ও মানবিক উদ্যোগের বিস্তৃত অধ্যায়

ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে কথিত ঘনিষ্ঠতা, রাজনৈতিক প্রভাব ও পারিবারিক অভিযোগ: আইরিন খানকে ঘিরে একাধিক প্রশ্ন

বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ ডেস্ক রিপোর্ট / ৯২ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬

 

২০২১ সালের হামলায় ছেলের পা ভাঙার দাবি, পাঁচ মাস রিহ্যাবে আটকে রাখার অভিযোগ ও সম্পত্তি-সংক্রান্ত বিরোধ; সম্পর্ক ও রাজনৈতিক প্রভাবের দাবিও তদন্তের আওতায় আনার আহ্বান

বিশেষ প্রতিবেদক | ঢাকা

সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে কথিত যোগাযোগের বিষয়কে কেন্দ্র করে আইরিন খানকে ঘিরে নতুন করে নানা প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগকারীদের বক্তব্যে তার বিরুদ্ধে পারিবারিক নির্যাতন, ২০২১ সালের হামলায় ছেলে কাজী ফাহাদ বিন আব্বাসের গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনা, দীর্ঘ সময় রিহ্যাবে অবস্থান এবং সম্পত্তি ও ব্যবসা-সংক্রান্ত বিরোধের অভিযোগ উঠে এসেছে।

এর পাশাপাশি আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে আইরিন খানের কথিত ঘনিষ্ঠতা নিয়েও বিভিন্ন তথ্য ও দাবি সামনে আসার কথা বলা হয়েছে। তবে এই সম্পর্কের প্রকৃতি, এর সময়কাল এবং রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক কোনো সুবিধা নেওয়ার সঙ্গে এর প্রত্যক্ষ যোগসূত্র ছিল কি না—এসব বিষয়ে স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ যাচাই করা প্রয়োজন।

দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ-এর অনুসন্ধানে কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে অপ্রমাণিত অভিযোগকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে উপস্থাপন না করে সংশ্লিষ্ট নথি, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য, ছবি-ভিডিওর উৎস, সরকারি রেকর্ড এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য যাচাইকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে কথিত ঘনিষ্ঠতার দাবি

অভিযোগের একটি অংশে দাবি করা হয়েছে, আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে আইরিন খানের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বা পরিচয় ছিল।

তবে ‘ঘনিষ্ঠতা’ বলতে ব্যক্তিগত পরিচয়, রাজনৈতিক যোগাযোগ, সামাজিক সম্পর্ক নাকি সাংগঠনিক যোগাযোগ—তা স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা প্রয়োজন। কারও সঙ্গে ছবি থাকা বা কোনো অনুষ্ঠানে পাশাপাশি অবস্থান করাই কোনো অনৈতিক সম্পর্ক বা ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রমাণ নয়।

এ কারণে এ বিষয়ে অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে—কোন সময়ে তাদের যোগাযোগ ছিল, কী ধরনের বৈঠক বা যোগাযোগ হয়েছে, কোনো সরকারি বা দলীয় সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ আছে কি না এবং সংশ্লিষ্ট দাবির পক্ষে কোনো নথি, বার্তা, সাক্ষ্য বা নির্ভরযোগ্য সংবাদ প্রতিবেদন রয়েছে কি না।

এসব প্রমাণ পাওয়া গেলে তা যাচাই করে পৃথকভাবে প্রকাশ করা যেতে পারে।

রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ

অভিযোগকারীদের বক্তব্যে আরও দাবি করা হয়েছে, তৎকালীন রাজনৈতিক পরিবেশে আইরিন খান রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব ব্যবহার করে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করেছিলেন।

তবে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকা বা কোনো নেতার সঙ্গে যোগাযোগ থাকা নিজেই অপরাধ নয়। অপরাধের অভিযোগ প্রতিষ্ঠার জন্য নির্দিষ্ট ঘটনা, তারিখ, স্থান, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় এবং প্রমাণ প্রয়োজন।

বিশেষ করে কোনো রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের ওপর প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি ও প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য দিয়ে তা যাচাই করা জরুরি।

২০২১ সালের হামলা নিয়ে ছেলের অভিযোগ

কাজী ফাহাদ বিন আব্বাসের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২১ সালে তার ওপর গুরুতর শারীরিক হামলা হয় এবং ওই ঘটনায় তার একটি পা ভেঙে যায়।

ফাহাদের দাবি, হামলাটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল এবং এর পেছনে তার মা আইরিন খানের নির্দেশ, উসকানি বা মদদ ছিল।

তবে এই অভিযোগের সত্যতা আদালত বা তদন্তকারী সংস্থার মাধ্যমে এখনো নির্ধারিত হয়েছে—এমন তথ্য প্রতিবেদনের কাছে নেই। ফলে হামলায় কারা অংশ নিয়েছিল, হামলার প্রকৃত কারণ কী ছিল এবং আইরিন খানের কোনো প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল কি না—এসব প্রশ্ন তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

চিকিৎসা নথি তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে

অভিযোগকারী জানিয়েছেন, হামলার পর তার চিকিৎসার এক্স-রে, হাসপাতালের কেস পেপার এবং অন্যান্য চিকিৎসা নথি সংরক্ষিত রয়েছে।

এসব নথি সত্যতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে চিকিৎসার তারিখ, আঘাতের ধরন, চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণ এবং আঘাত কীভাবে ঘটেছে সে বিষয়ে তৎকালীন কোনো লিখিত বিবরণ থাকলে তদন্তে তা সহায়ক হতে পারে।

অভিযোগকারীর দাবি অনুযায়ী, তদন্তকারী সংস্থা চাইলে এসব নথি তিনি উপস্থাপন করতে প্রস্তুত।

পাঁচ মাস রিহ্যাবে রাখার অভিযোগ

ফাহাদ আরও দাবি করেছেন, তাকে দীর্ঘ প্রায় পাঁচ মাস একটি রিহ্যাবিলিটেশন কেন্দ্রে রাখা হয়েছিল।

তার অভিযোগ, ওই সময় তার কাছ থেকে কয়েকটি সাদা স্ট্যাম্প পেপারে স্বাক্ষর ও টিপসই নেওয়া হয়। পরবর্তীতে এসব স্বাক্ষর ও টিপসই সম্পত্তি ও ব্যবসা-সংক্রান্ত নথিতে ব্যবহার করা হয়েছে বলে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে হলে রিহ্যাব সেন্টারের ভর্তি ও ছাড়পত্রের নথি, চিকিৎসা রেকর্ড, সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বক্তব্য এবং কথিত স্ট্যাম্প পেপার ও পরবর্তী দলিলের ফরেনসিক পরীক্ষা প্রয়োজন।

ব্যবসা ও সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ

অভিযোগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো কাজী ফরহাদ আব্বাস প্রিন্সের ব্যবসা ও সম্পত্তি নিয়ে পারিবারিক বিরোধ।

ফাহাদের দাবি, তার বাবার একক মালিকানাধীন ব্যবসা ও সম্পত্তির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।

তবে কোনো সম্পত্তির প্রকৃত মালিকানা, পাওয়ার অব অ্যাটর্নির বৈধতা কিংবা দলিল তৈরির সময় কোনো ধরনের জবরদস্তি হয়েছিল কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রি অফিসের রেকর্ড, দলিল, স্বাক্ষর-টিপসই পরীক্ষা এবং আদালতের কার্যক্রমের মাধ্যমে নির্ধারণ করতে হবে।

চাকরি দেওয়ার নামে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ

আইরিন খানের বিরুদ্ধে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অর্থ নেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়েছে।

তবে এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীর নাম, অর্থ প্রদানের তারিখ, ব্যাংক বা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের লেনদেন, রসিদ, কথোপকথন এবং চাকরির প্রতিশ্রুতির প্রমাণ গুরুত্বপূর্ণ।

নির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগকে প্রতিষ্ঠিত ঘটনা হিসেবে প্রকাশ করা সমীচীন নয়।

এখন প্রয়োজন নথিভিত্তিক অনুসন্ধান

আইরিন খানকে ঘিরে উত্থাপিত অভিযোগগুলো একই সঙ্গে কয়েকটি আলাদা বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত—রাজনৈতিক যোগাযোগ, কথিত প্রভাব, পারিবারিক বিরোধ, শারীরিক হামলা, রিহ্যাবে অবস্থান এবং সম্পত্তি-সংক্রান্ত নথি।

তাই সব অভিযোগকে একসঙ্গে বিচার না করে প্রতিটি ঘটনার পৃথক নথি ও সাক্ষ্য যাচাই প্রয়োজন।

বিশেষ করে ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে কথিত ঘনিষ্ঠতার দাবি যাচাইয়ের ক্ষেত্রে ছবি বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টের পাশাপাশি ছবির তারিখ, স্থান, অনুষ্ঠান, মূল উৎস এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য সংগ্রহ করা জরুরি।

অভিযুক্ত ও সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ

আইরিন খানের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য, লিখিত জবাব বা আইনজীবীর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পূর্ণাঙ্গভাবে প্রকাশের সুযোগ থাকবে।

একইভাবে ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে তার কথিত সম্পর্ক বা যোগাযোগ নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্যও নেওয়া প্রয়োজন।

দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ মনে করে, রাজনৈতিক পরিচয় বা পারিবারিক সম্পর্ক কোনো ব্যক্তিকে আইনের ঊর্ধ্বে রাখে না। আবার অভিযোগ ওঠা মাত্র কাউকে অপরাধী হিসেবেও চিহ্নিত করা যায় না। অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ যেমন যাচাই করতে হবে, তেমনি অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য ও আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকারও নিশ্চিত করতে হবে।

তদন্তে যে প্রশ্নগুলোর উত্তর প্রয়োজন

২০২১ সালের হামলার সঙ্গে কারা জড়িত ছিলেন?

ফাহাদের চিকিৎসা নথিতে কী ধরনের আঘাতের তথ্য রয়েছে?

তিনি সত্যিই কতদিন রিহ্যাব সেন্টারে ছিলেন এবং কী কারণে ভর্তি করা হয়েছিল?

সাদা স্ট্যাম্প পেপারে স্বাক্ষর বা টিপসই নেওয়ার অভিযোগের কোনো প্রমাণ আছে কি না?

পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বা সম্পত্তি-সংক্রান্ত দলিল কীভাবে তৈরি হয়েছিল?

চাকরি দেওয়ার নামে অর্থ নেওয়ার অভিযোগের পক্ষে কোনো আর্থিক প্রমাণ রয়েছে কি না?

এবং সর্বোপরি, ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে আইরিন খানের কথিত ঘনিষ্ঠতার প্রকৃতি কী ছিল এবং সেটির সঙ্গে অভিযোগে বর্ণিত কোনো কর্মকাণ্ডের প্রত্যক্ষ যোগসূত্র ছিল কি না?

এসব প্রশ্নের উত্তর নথি, সাক্ষ্য ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই বেরিয়ে আসতে পারে।


More News Of This Category
bdit.com.bd