প্রকৌশলীর বক্তব্য নিতে গিয়ে বাধার অভিযোগ; নাইটগার্ডের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন, তদন্তের দাবি
নওগাঁ প্রতিনিধি: মোঃ রিমন আহমেদ
তারিখ: ৫ অক্টোবর ২০২৬
নওগাঁর মান্দা উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কার্যালয়ে বিভিন্ন সড়ক নির্মাণ ও উন্নয়নকাজে অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীর বক্তব্য নিতে গিয়ে সাংবাদিকদের বাধার মুখে পড়ার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে অশোভন আচরণ, ক্যামেরার বুম বা গণমাধ্যমের লোগো সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার পরিবর্তে একজন নাইটগার্ডকে সামনে পাঠানোর অভিযোগও করেছেন উপস্থিত সাংবাদিকরা।
ঘটনার অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন মান্দা উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল কাদের এবং কার্যালয়ে কর্মরত নাইটগার্ড রেজাউল ইসলাম। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ও প্রশাসনিক তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা।
সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে আনন্দ টেলিভিশন, মোহনা টেলিভিশন, গ্লোবাল টেলিভিশন, দেশ বর্তমানসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা মান্দা উপজেলা এলজিইডি কার্যালয়ে যান। বিভিন্ন সড়ক ও উন্নয়নকাজ সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ এবং উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল কাদেরের বক্তব্য নেওয়াই ছিল তাদের উদ্দেশ্য বলে জানান উপস্থিত সাংবাদিকরা।
সাংবাদিকদের অভিযোগ, প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল কাদের সরাসরি তাদের সঙ্গে কথা না বলে রেজাউল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে সামনে পাঠান। রেজাউল ইসলাম নিজেকে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে পরিচয় দেন বলে সাংবাদিকরা জানান। একপর্যায়ে তিনি সাংবাদিকদের ক্যামেরার বুম বা গণমাধ্যমের সরঞ্জাম সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।
অফিস সূত্রে রেজাউল ইসলামকে নাইটগার্ড হিসেবে কর্মরত বলে জানা গেছে। এ অবস্থায় দিনের বেলায় তাঁর দায়িত্ব কী এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলা বা তাদের তথ্য সংগ্রহে হস্তক্ষেপ করার মতো কোনো দাপ্তরিক দায়িত্ব তাঁর রয়েছে কি না—এ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন জনপ্রতিনিধি ও সাংবাদিকের ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারি কোনো দপ্তরে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও একজন নাইটগার্ডকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার জন্য সামনে পাঠানো হয়ে থাকলে বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে রেজাউল ইসলামকে কোনো লিখিত বা মৌখিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল কি না, সেটিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্পষ্ট করার দাবি উঠেছে।
এদিকে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল কাদের দাপ্তরিক কার্যক্রমের কিছু দায়িত্ব নিজে পালন না করে রেজাউল ইসলামের মাধ্যমে পরিচালনা করছেন। তবে এ অভিযোগের পক্ষে কোনো দাপ্তরিক নথি বা লিখিত প্রমাণ এ প্রতিবেদকের হাতে পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি যাচাই ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলার সুযোগ নেই।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকদের ভাষ্য, তারা প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল কাদেরের কাছে বিভিন্ন উন্নয়নকাজ ও রাস্তা নির্মাণসংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি সরাসরি বক্তব্য না দিয়ে রেজাউল ইসলামকে সামনে পাঠান। একই সময়ে প্রকৌশলী মোবাইল ফোনে ঘটনাটি ভিডিও ধারণ করছিলেন বলেও সাংবাদিকরা অভিযোগ করেন।
সাংবাদিকদের মতে, কোনো সরকারি কর্মকর্তা কোনো বিষয়ে তাৎক্ষণিক বক্তব্য দিতে না চাইলে তিনি তা স্পষ্টভাবে জানাতে পারেন অথবা লিখিত বক্তব্য দেওয়ার সময় চাইতে পারেন। তবে তথ্য সংগ্রহের সময় সাংবাদিকদের পেশাগত কাজে বাধা দেওয়া কিংবা ক্যামেরা বা গণমাধ্যমের সরঞ্জামে হাত দেওয়ার অভিযোগ থাকলে সেটি আলাদাভাবে তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।
ঘটনার পর সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে কয়েকটি বিষয়ে স্পষ্টতা চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—রেজাউল ইসলামের সরকারি পদ ও নির্ধারিত দায়িত্ব কী, দিনের বেলায় তিনি কী দায়িত্ব পালন করেন, সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার জন্য তাঁকে কে দায়িত্ব দিয়েছিলেন এবং ক্যামেরার বুম বা গণমাধ্যমের সরঞ্জাম সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে থাকলে তিনি কারও নির্দেশে তা করেছিলেন কি না।
এ বিষয়ে নওগাঁ জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী বদরুদ্দোজা বলেন, “বিষয়টি নিয়ে আমি কথা বলছি। সাংবাদিকরা তাদের বক্তব্য নেবে—এটাই স্বাভাবিক।”
জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর এ বক্তব্য থেকে বিষয়টি নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হওয়ার কথা জানা গেলেও অভিযোগগুলোর বিস্তারিত প্রশাসনিক তদন্ত বা সিদ্ধান্তের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
সাংবাদিকদের দাবি, সরকারি উন্নয়নকাজ নিয়ে অনিয়ম বা অভিযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা গণমাধ্যমের স্বাভাবিক পেশাগত দায়িত্বের অংশ। একই সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও নিজেদের দায়িত্ব ও আচরণবিধি অনুযায়ী কাজ করার প্রত্যাশা থাকে। তাই সাংবাদিকদের সঙ্গে আচরণ, দায়িত্ব বণ্টন এবং কার্যালয়ে কর্মরত কর্মচারীদের দায়িত্বের সীমা—সবকিছুই প্রশাসনিকভাবে স্পষ্ট করা প্রয়োজন।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকরা নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তদন্তে যদি সাংবাদিকদের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সরকারি দপ্তরে সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহের সুযোগ ও পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
তবে দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ মনে করে, অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল কাদের, নাইটগার্ড রেজাউল ইসলাম এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বক্তব্যও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে। একইভাবে তদন্ত বা পরবর্তী সময়ে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনে প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধন, সংযোজন বা হালনাগাদ করা হবে।