সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে জিডি: বাংলাদেশ সাংবাদিক লেখক ঐক্য ফোরামের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ
মীরবাগ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে জিডির অভিযোগ; পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার আশঙ্কা সংগঠনটির, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
নিজস্ব প্রতিবেদক
রংপুরের কাউনিয়ায় মীরবাগ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের কথিত অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে কাউনিয়া প্রেসক্লাবের তিন সাংবাদিকসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৬ জনের বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ সাংবাদিক লেখক ঐক্য ফোরাম।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সংবাদ প্রকাশের পর সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে করা এই জিডি হয়রানিমূলক। একই সঙ্গে ঘটনাটিকে স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমকর্মীদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি বিষয় হিসেবে দেখছে সংগঠনটি।
জিডির ঘটনায় ভুক্তভোগী হিসেবে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তারা হলেন—কাউনিয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও গ্রিন টিভির প্রতিনিধি মো. সাইফুল ইসলাম, কাউনিয়া প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক ও দৈনিক দেশের কণ্ঠের প্রতিনিধি মঞ্জুরুল আহসান শামীম এবং এনটিভি মাল্টিমিডিয়ার রিপোর্টার মনোয়ার হোসেন সুজন।
বাংলাদেশ সাংবাদিক লেখক ঐক্য ফোরামের সভাপতি মো. কুতুব উদ্দিন এক বিবৃতিতে এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের কলম থামিয়ে সত্যকে আড়াল করা যায় না। কোনো সংবাদে কারও আপত্তি থাকলে প্রচলিত আইন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ বা প্রতিবাদ জানানোর সুযোগ রয়েছে। কিন্তু সংবাদ প্রকাশের পর সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে থানায় জিডি করার ঘটনায় পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা বা ভয়ভীতি প্রদর্শনের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদে ভুল বা অসত্য তথ্য থাকলে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য প্রকাশের সুযোগ থাকা উচিত। একই সঙ্গে সংবাদে উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে প্রয়োজন হলে প্রশাসনিক বা আইনগত তদন্ত হতে পারে। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধেও কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে সেটিও যথাযথ প্রক্রিয়ায় তদন্ত করা যেতে পারে।
বাংলাদেশ সাংবাদিক লেখক ঐক্য ফোরামের সভাপতি আরও দাবি করেন, মীরবাগ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে সংবাদে যে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠে এসেছে, সেগুলোও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং অভিযোগ প্রমাণিত না হলে সংশ্লিষ্টদের অবস্থান পরিষ্কার করার আহ্বান জানান তিনি।
কুতুব উদ্দিন বলেন, “সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে সেটিরও আইনগতভাবে তদন্ত হোক। একই সঙ্গে সাংবাদিকরা যে অনিয়মের তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ করেছেন, সেসব অভিযোগও নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। একপক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি নিষ্পত্তি না করে সব পক্ষের বক্তব্য ও প্রমাণ বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।”
তিনি অবিলম্বে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে করা কথিত হয়রানিমূলক জিডি প্রত্যাহারের দাবি জানান। পাশাপাশি মীরবাগ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, পেশাগত মর্যাদা ও স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে আইনগত প্রক্রিয়ায় তার নিষ্পত্তি হওয়া উচিত বলেও সংগঠনটি উল্লেখ করেছে।
তবে এ ঘটনায় থানায় করা জিডির বিষয়বস্তু, অভিযোগকারীর বক্তব্য এবং মীরবাগ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সুনির্দিষ্ট বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে জিডিতে উত্থাপিত অভিযোগ কিংবা বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে সংবাদে প্রকাশিত অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ—কোনোটিকেই এই প্রতিবেদনে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে না।
বাংলাদেশ সাংবাদিক লেখক ঐক্য ফোরামের সভাপতি কুতুব উদ্দিন বলেন, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় প্রয়োজন হলে দেশের অন্যান্য সাংবাদিক সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয় করে কর্মসূচি দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
এদিকে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও মীরবাগ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।