নিজস্ব প্রতিবেদক | দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ ডেস্ক
যশোরের সীমান্তবর্তী বেনাপোল পৌরসভা ও শার্শা উপজেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে যুবদলের নেতা ইমদাদুল হক ইমদাকে ঘিরে তৃণমূল পর্যায়ে আলোচনা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। স্থানীয় নেতাকর্মী, সমর্থক এবং একাংশের বাসিন্দাদের দাবি, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংগ্রাম, সাংগঠনিক দক্ষতা, মানবিক কর্মকাণ্ড এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগের কারণে তিনি বর্তমানে বেনাপোল সীমান্ত অঞ্চলের অন্যতম আলোচিত ও জনপ্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন।
বর্তমানে তিনি যশোর জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং শার্শা উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য, ছাত্রজীবন থেকেই তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। রাজনৈতিক প্রতিকূলতা, মামলা-হামলা এবং নানা চাপের মধ্যেও তিনি সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে গেছেন এবং তৃণমূলের নেতাকর্মীদের পাশে থেকেছেন বলে তাদের দাবি।
স্থানীয় নেতাকর্মীরা বলেন, রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি ইমদাদুল হক ইমদা সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডেও নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন। বিশেষ করে করোনাভাইরাস মহামারির সময় কর্মহীন, অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য এবং জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছিল বলে তারা উল্লেখ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের ভাষ্য, কোনো নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না হয়েও চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা, অসচ্ছল পরিবারের পাশে দাঁড়ানো, শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা, ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে সহায়তা এবং বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন। তাদের মতে, ব্যক্তিগত বা সামাজিক যেকোনো প্রয়োজনে সহজেই তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যায় এবং তিনি আন্তরিকভাবে সহযোগিতার চেষ্টা করেন।
তৃণমূল পর্যায়ের অনেক নেতাকর্মীর দাবি, রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে একজন মানবিক, সহজ-সরল ও জনবান্ধব ব্যক্তি হিসেবে ইমদাদুল হক ইমদা স্থানীয় মানুষের ভালোবাসা অর্জন করেছেন। মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকার মানসিকতা এবং নিয়মিত জনসম্পৃক্ততার কারণেই তার জনপ্রিয়তা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে তারা মনে করেন।
আসন্ন বেনাপোল পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে ইমদাদুল হক ইমদার নাম স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনায় রয়েছে। সমর্থকদের একটি অংশের বিশ্বাস, তিনি দলীয় মনোনয়ন পেলে শক্তিশালী অবস্থানে থাকবেন এবং নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পেলে পৌরসভার উন্নয়ন, আধুনিক নাগরিক সেবা নিশ্চিতকরণ, পরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণ, পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার উন্নয়ন, নিরাপদ সড়ক, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম জোরদার এবং যুবসমাজের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন।
স্থানীয়দের মতে, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দর বেনাপোলের গুরুত্ব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই এই পৌরসভার নেতৃত্বে এমন একজন জনপ্রতিনিধির প্রয়োজন, যিনি জনগণের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখবেন, ব্যবসায়ী, শ্রমিক, যুবসমাজ এবং সাধারণ নাগরিকদের সমস্যা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন এবং উন্নয়ন কার্যক্রমকে গতিশীল করবেন। সমর্থকদের ভাষ্য, ইমদাদুল হক ইমদা সেই প্রত্যাশা পূরণে সক্ষম হতে পারেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য প্রার্থীদের জনপ্রিয়তা নিয়ে আলোচনা রাজনীতির স্বাভাবিক অংশ। তবে জনপ্রিয়তা, দলীয় মনোনয়ন এবং নির্বাচনী ফলাফল—সবকিছুই নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের সিদ্ধান্ত, নির্বাচন কমিশনের তফসিল এবং শেষ পর্যন্ত ভোটারদের রায়ের ওপর।
উল্লেখ্য, ইমদাদুল হক ইমদাকে মেয়র হিসেবে দেখতে চাওয়ার বিষয়টি স্থানীয় সমর্থক ও একাংশের বাসিন্দাদের মতামত ও প্রত্যাশা। তার জনপ্রিয়তা সম্পর্কিত দাবিগুলোও তাদের বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপিত হয়েছে।