বেনাপোলে তরিকুল স্টোরের হুন্ডি ব্যবসা: ১৭ লাখ টাকা সহ দুই ভারতীয় নাগরিক আটক
যশোর প্রতিদিন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৫
বেনাপোল চেকপোস্টে কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা দুই ভারতীয় নাগরিককে আটক করেছে, যাদের কাছ থেকে প্রায় সতের লক্ষ টাকা হুন্ডি মাধ্যমে বাংলাদেশে আনা হচ্ছিল। আটককৃতরা হলেন ভারতের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁ থানার রায়পুর গ্রামের আনন্দ বৈদ্ধার মিস্ত্রি রিনা বৈদ্য (৩৭) এবং একই জেলার মৃত সানোয়ার সাহাজির স্ত্রী মুক্তি শাহাজি (৫৪)।
রোববার বিকেলে তারা টুরিস্ট ভিসায় বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করলে বেনাপোল ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাদের ব্যাগ তল্লাশি করে বিপুল অর্থ উদ্ধার করেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা জানিয়েছেন, এক হাজার টাকার বিনিময়ে এই টাকা বাংলাদেশে নিয়ে আসার পরিকল্পনা ছিল।
তরিকুল স্টোর: হুন্ডি ব্যবসার কেন্দ্রবিন্দু
স্থানীয় ও গোয়েন্দা সূত্র জানায়, বেনাপোল চেকপোস্টের রেজাউল মার্কেটের পাশে, আবাসিক হোটেলের নিচে অবস্থিত তরিকুল স্টোর দীর্ঘদিন ধরে হুন্ডি ব্যবসার মূল কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এই দোকানটি লাইসেন্সবিহীন এবং দীর্ঘদিন ধরে দুইটি দোকান নিয়ে অবৈধ লেনদেন পরিচালনা করছে।
তরিকুল নামের ব্যক্তি, স্থানীয়দের কাছে পরিচিত ভদ্র, মুখোশধারী হিসাবে, নিয়মিতভাবে হুন্ডি লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত। অভিযোগ, তার কর্মকাণ্ড এতটাই সংরক্ষিত ও সাবধান যে অনেক সময়ই ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে। আটককৃত মহিলাদের বক্তব্য এবং স্থানীয় সূত্রের তথ্যে এই ব্যবসার সুনির্দিষ্ট তথ্য উঠে এসেছে।
আইনি প্রক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ ব্যবস্থা
কাস্টমস সূত্র জানায়, উদ্ধারকৃত অর্থ যথাযথ কাগজপত্র ও প্রমাণ সাপেক্ষে প্রকৃত মালিকের কাছে হস্তান্তর করা হবে। যদি প্রমাণ বা মালিক শনাক্ত করা না যায়, তাহলে টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেওয়া হবে। পাশাপাশি ভারতীয় নাগরিকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে আসল হুন্ডি মালিক এবং তাদের সুনির্দিষ্ট দিক নির্দেশনা উন্মোচিত হতে পারে। এটি হুন্ডি ব্যবসায়ের বিরুদ্ধে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে কড়াকড়ি বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হবে।
বেনাপোল কাস্টমসের মন্তব্য
> “এ ধরনের ঘটনা দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি। আমরা নিয়মিত তল্লাশি, নজরদারি এবং আইনগত পদক্ষেপের মাধ্যমে এই অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান রাখছি। যারা দায়ী, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ভারত থেকে বিভিন্ন কায়দায় হুন্ডির অর্থ বাংলাদেশে পাঠানো হয়। সাধারণত এই টাকা চেকপোস্টের মাধ্যমে হুন্ডি ব্যবসায়ীদের হাতে পৌঁছে। তরিকুল স্টোরের মতো লাইসেন্সবিহীন দোকানগুলি এই অবৈধ কার্যক্রমের মূল কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হয়।