২১ লাখ টাকার মাদক ও চোরাচালান পণ্য জব্দ: কুমিল্লা সীমান্তে বিজিবির বড় সাফল্য
কুমিল্লা প্রতিনিধি শাহাজাহান বাসার
১৯ জুলাই ২০২৫
কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার শিবেরবাজার ও আমানগন্ডা সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর পরিচালিত পৃথক দুই অভিযানে প্রায় ২১ লাখ টাকার মাদকদ্রব্য ও চোরাচালানি পণ্য উদ্ধার করা হয়েছে। ১৮ ও ১৯ জুলাই তারিখে পরিচালিত এসব অভিযান ছিল কুমিল্লা ব্যাটালিয়নের (১০ বিজিবি) রুটিন নজরদারির অংশ।
অভিযানের বিবরণ
১০ বিজিবির পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সীমান্ত থেকে এক কিলোমিটার বাংলাদেশের ভেতরে বিশেষ টহলদল এই অভিযান চালায়। সন্দেহজনক মালামাল পড়ে থাকতে দেখে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদক ও অবৈধ পণ্য জব্দ করা হয়। এসব পণ্যের কোনো দাবিদার না থাকায় বিষয়টি চোরাচালানের সুস্পষ্ট প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জব্দকৃত পণ্যের তালিকা:
গাঁজা: ২০২ কেজি
ফেনসিডিল: ১,৫৫৫ বোতল
বিদেশি মদ: ৭২ বোতল
ইস্কফ সিরাপ: ২০২ বোতল
বিয়ার: ৪৮ বোতল
স্কিন সাইন ক্রিম: ৫০০টি
ভারতীয় অবৈধ বাজি: ২০,৭৭৬ পিস
উদ্ধারকৃত এসব পণ্যের মোট বাজারমূল্য আনুমানিক ২১ লাখ ২০ হাজার ৩২০ টাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি।
আইনানুগ ব্যবস্থা
বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উদ্ধারকৃত সব পণ্য প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
স্থানীয় বাসিন্দারা বিজিবির এই সফল অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “এই অঞ্চলে মাঝে মাঝেই চোরাচালান বেড়ে যায়। বিজিবির কড়া নজরদারি এবং তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ আমাদের জন্য আশার আলো।”
এক বিজিবি কর্মকর্তা মন্তব্য করেন, “দেশের নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করতে আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। সীমান্তকে মাদকমুক্ত করতে আমাদের প্রতিটি সদস্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত।”
বিশ্লেষণ: সীমান্তবর্তী অঞ্চলে মাদক চোরাচালান বহুদিনের সমস্যা হলেও বিজিবির সাম্প্রতিক সাঁড়াশি অভিযানে দৃশ্যত বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে পাচারকারীরা। সুশাসনের জন্য শুধু রাজনৈতিক সদিচ্ছাই নয়, এমন প্রাতিষ্ঠানিক সক্রিয়তাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রশ্ন থেকেই যায় — এত বিপুল পরিমাণ মাদক সীমান্তে এল কোথা থেকে, এবং এর পেছনের ‘অদৃশ্য হাত’গুলো এখনো অধরা কেন?
সতর্কতা অবলম্বন করুন। সচেতন থাকুন। সীমান্ত নিরাপদ রাখুন।