তারিখ: ৬ আগস্ট ২০২৫
রিপোর্ট: জনতার কণ্ঠস্বর ডেস্ক
স্বৈরাচার মুক্ত বাংলাদেশের এক বছর পূর্ণ, জুলকারনাইন সাইর আল জাজিরার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি দশ দফা অনুরোধ
স্বৈরাচার মুক্ত বাংলাদেশের এক বছর পূর্ণ হলো আজ। এই গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষে দেশব্যাপী বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছেন তাঁদের প্রতি, যারা দেশকে অন্ধকার থেকে মুক্ত করতে শহীদ হয়েছেন, আহত হয়েছেন এবং সংগ্রামের নানা পর্যায়ে অবদান রেখেছেন। বিজয়ের পতাকা ছিনিয়ে আনার এই মহাযজ্ঞে সকল বীরের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে।
অপরদিকে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে, যারা হাজার বাধা-বিপত্তি সত্ত্বেও দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী করতে নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
জুলকারনাইন সাইর আল জাজিরা, একটিভিস্ট ও সাংবাদিক হিসেবে, সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত একটি বার্তায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি দশ দফা গুরুত্বপূর্ণ অনুরোধ জানিয়েছেন, যা বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে অপরিহার্য বলে গণ্য হচ্ছে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি জুলকারনাইনের দশ দফা অনুরোধের মূল পয়েন্টসমূহ হলো:
১. জুলাই ২৪ বিপ্লবের নেতাদের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও হয়রানি থেকে রক্ষা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন।
২. রাজনৈতিক দলগুলোর আর্থিক সহায়তার উৎস জনসমক্ষে প্রকাশ করার বাধ্যতামূলক বিধান।
৩. অর্থ পাচারের নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা।
৪. দুর্নীতি থেকে মুক্ত ব্যক্তিবর্গ ও ব্যবসায়ীদের জন্য বৈধ বিদেশ বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি ও কর্মসংস্থান নিশ্চিতকরণ।
৫. গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু রাষ্ট্রগুলোতে ‘বাংলাদেশ ট্রেড প্রমোশন এজেন্সি’ প্রতিষ্ঠার রূপরেখা প্রণয়ন।
৬. সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করে পদোন্নতি ও নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ।
৭. গোয়েন্দা সংস্থার কার্যক্রমের জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধির জন্য ওভারসাইট বোর্ড গঠন।
৮. পুলিশ, বিজিবি, আনসারদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি ও কল্যাণমূলক ব্যবস্থার সুপারিশ এবং তা প্রকাশ।
৯. গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সুরক্ষা, মালিক পক্ষের হস্তক্ষেপ বন্ধকরণ এবং সাংবাদিক ও হুইসেল ব্লোয়ারদের নিরাপত্তা নীতিমালা প্রণয়ন।
১০. রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা থেকে আটকদের মুক্তি নিশ্চিতকরণ।
এই অনুরোধগুলো জাতির গণতান্ত্রিক অগ্রগতি, অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য সময়োপযোগী এবং অপরিহার্য।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন বাস্তবায়নে এই দশ দফা দেশের উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।