স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তাকে ঘিরে অভিযোগের বিস্তার: তথ্য পাচার থেকে সম্পদ অর্জন প্রশ্নে বিতর্ক
নিজস্ব প্রতিবেদক
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (পিও) মোঃ আবদুর রউফ (রব)-কে ঘিরে একাধিক গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। সম্প্রতি শফিকুর রহমান নামের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল হয়েছে। অভিযোগে মোঃ আবদুর রউফ (রব)- তথ্য পাচার, রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা কাজে লাগিয়ে সুবিধা নেওয়া, অবৈধ সম্পদ অর্জন ও প্লট বরাদ্দে অনিয়মের মতো বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত কর্মকর্তা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এগুলোকে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেছেন।
অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্যের ভিত্তিতে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, রউফ বর্তমানে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার ব্যক্তিগত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং এ অবস্থানে থেকে তিনি মন্ত্রণালয়ের গোপনীয় তথ্য একটি রাজনৈতিক দলের কাছে সরবরাহ করছেন। অভিযোগপত্রে তাকে রাজনৈতিকভাবে ‘বহুমুখী পরিচয়ের’ ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করে দাবি করা হয়, ক্ষমতার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তিনি নিজের অবস্থান বদলান।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ছাত্রজীবনে তিনি ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী ও সচিবদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিতি পান।
সম্পদ অর্জনের প্রসঙ্গে অভিযোগকারী দাবি করেন, রাজারবাগ এলাকায় চারটি ফ্ল্যাট এবং একটি প্রাডো জীপ গাড়ির মালিক হয়েছেন রউফ। এসব সম্পদের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা বলে উল্লেখ করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, তদবির বাণিজ্য ও প্রভাব খাটিয়ে এসব সম্পদ অর্জন করা হয়েছে।
এছাড়া, তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হয়েও তার নামে একটি লাইসেন্সকৃত পিস্তল রয়েছে এবং সেটি প্রভাব বিস্তারের কাজে ব্যবহার করা হয়—এমন অভিযোগও রয়েছে।
পূর্বাচল এলাকায় নিজের ও স্ত্রীর নামে দুটি প্লট বরাদ্দ নিয়ে পরে তা বিক্রি করার অভিযোগও আনা হয়েছে। অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রভাবিত করে প্লট বরাদ্দ নেওয়া হয়।
নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৪ সালে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে তার বিরুদ্ধে ওঠা কিছু অভিযোগ তদন্তের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানানো হয়েছিল। তবে সেই তদন্তের অগ্রগতি বা ফলাফল সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, অতীতে একটি রাজনৈতিক দলের জেলা শাখা থেকেও তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা ও আচরণসংক্রান্ত অভিযোগ আনা হয়েছিল বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
নথিতে দেখা যায়, পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খান মোশাররফ হোসেন এক প্রত্যয়নে উল্লেখ করেছেন যে, রউফ ছাত্রজীবনে জেলা ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং দলের সমর্থক ছিলেন।
এ ছাড়া ২০১৫ সালে একজন সংসদ সদস্য তাকে বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসে প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করেছিলেন বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
মোঃ আবদুর রউফ তার দাখিল করা জীবনবৃত্তান্তে উল্লেখ করেছেন, তিনি বিএ, এলএলবি (অনার্স) ও এলএলএম ডিগ্রিধারী। ১৯৯৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চাকরি শুরু করেন।
তিনি সাবেক প্রতিমন্ত্রীদের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং জননিরাপত্তা বিভাগসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শাখায় কাজ করেছেন বলে উল্লেখ করেন। ২০১৫-১৬ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার কথাও তিনি তুলে ধরেছেন।
তার দাবি, সাম্প্রতিক অভিযোগগুলো পরাজিত প্রার্থীদের প্রতিহিংসার ফল এবং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর কোনো ভিত্তি নেই।