• শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:৫৩ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনাম
গাজীপুরে মেট্রিক্স গার্মেন্টসে আগুন, ৬৭ জনকে জীবিত উদ্ধার আটতলা ভবনের তৃতীয় তলায় অগ্নিকাণ্ড, আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৯টি ইউনিট যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের বড় ধাক্কা, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যশোরের বেনাপোলে মোটরসাইকেল মিছিল করেছেন স্থলবন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়ন ৯২৫ ও ৮৯১-এর নেতাকর্মীরা। ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক চেতনায় বেনাপোলকে আধুনিক সীমান্ত নগরী গড়ার প্রত্যয়, জনআস্থার রাজনীতিতে আবু তাহের ভারত এমপি মাজেদ বাবুর বিরুদ্ধে হত্যার ষড়যন্ত্র ও হলফনামায় জালিয়াতির অভিযোগ হাসিনার সেই ‘৪০০ কোটির পিয়ন’ জাহাঙ্গীর: অনুসন্ধান থেকে ১০০ কোটি টাকা পাচারের মামলা, দুই বছরে কতদূর তদন্ত? পরিচয় নিয়ে নতুন বিতর্ক, কোন পক্ষ কতটা যৌক্তিক? ১৭ বছর আওয়ামী লীগের এমপির ‘ছায়াতল’ ও লটারির নাটক: পঞ্চগড়ে চালের ডিলারশিপ বাগিয়ে নেওয়া হাইব্রিড বিএনপি নেতা একরামুল হক মুন্না যশোরে আওয়ামী লীগের নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগের প্রতিবাদে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হঠাৎ ‘স্যরি’ বলল প্রথম আলো, কেন এই ক্ষমা চাওয়া? সামনে এলো আসল কারণ কবিতা, কলম ও রাষ্ট্রচিন্তায় বহুমাত্রিক পথচলা: কবি অথই নূরুল আমিনের জীবন, সাহিত্যকর্ম ও মানবিক উদ্যোগের বিস্তৃত অধ্যায়

সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান বাবলু ও তার দুই ছেলের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের চিত্র

Reporter Name / ২৫৩ Time View
Update : সোমবার, ৭ জুলাই, ২০২৫

 

সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান বাবলু ও তার দুই ছেলের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের চিত্র
তারিখ: ৭ জুলাই ২০২৫
প্রতিবেদক: নাজমুল হাসান

ঘটনার সারাংশ: শার্শায় আবারো সন্ত্রাসী হামলা, এবার যুবদল নেতাদের টার্গেট

যশোরের শার্শা উপজেলা আবারো কেঁপে উঠলো রাজনৈতিক সহিংসতায়। এবার সরাসরি হামলার শিকার হয়েছেন শার্শা উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আরঙ্গজেব, বিএনপি নেতা আব্দুল জলিল এবং আরও একজন রাজনৈতিক কর্মী। অভিযোগের তীর সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী নেতা বাবলু ও তার দুই ছেলের দিকে।

হামলার বিবরণ:

 

ঘটনাটি ঘটে রাত ৮টার দিকে, যখন ভুক্তভোগীরা বাড়ি ফেরার পথে ছিলেন। মোটরসাইকেলযোগে এসে বাবলুর দুই ছেলে—রনি ও সোহান (ছদ্মনাম ব্যবহৃত হতে পারে)—হাতুড়ি, রড এবং দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিতভাবে তাদের উপর হামলা চালায়। স্থানীয়রা জানান, হামলাকারীরা দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় ভয়ভীতি ও চাঁদাবাজির জন্য কুখ্যাত।

বাবলু ও তার বাহিনীর অতীত কর্মকাণ্ড: সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, জমি দখল, দলীয় প্রভাবের অপব্যবহার

বাবলু, শার্শা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান এবং বর্তমানে নিজেকে ‘সমঝোতার পুরোহিত’ হিসেবে প্রচার করলেও বাস্তবে তার নামটি শার্শা উপজেলার রাজনীতিতে এক আতঙ্কের নাম।

১. জমি দখল সিন্ডিকেট:

বাবলু ও তার ছেলে রনি-সোহানের নেতৃত্বে জমি দখল সিন্ডিকেট চালু আছে বহুদিন ধরে।

একাধিক অভিযোগ রয়েছে—বয়সে বৃদ্ধ, প্রবাসী কিংবা মামলায় জড়ানো মানুষের জমি চিহ্নিত করে জাল দলিল তৈরি করে তারা দখলে নেয়।

এই দখল প্রক্রিয়ায় স্থানীয় ভূমি অফিস ও কিছু দুর্নীতিবাজ পুলিশ কর্মকর্তার সহায়তা নেয়ার অভিযোগও উঠেছে।

২. রাজনৈতিক বিরোধীদের ওপর হামলা:

যুবদল, ছাত্রদল এবং সাধারণ বিএনপি সমর্থকদের ঘরবাড়িতে হামলা চালানো, হুমকি দেয়া যেন বাবলুর ছেলে রনিদের ‘ডেইলি রুটিন’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

২০২৩ সালে বিএনপি কর্মী আলাউদ্দিনের উপর হামলার ঘটনায় রনির নাম উঠে এলেও রাজনৈতিক প্রভাবে মামলা ‘খাইয়ে ফেলা’ হয়।

৩. স্কুল-কলেজের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ:

শার্শার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নির্মাণকাজ, সরকারি বরাদ্দ প্রজেক্ট—সবকিছুর উপর বাবলুর একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।

তার লোকজন ছাড়া কেউ টেন্ডারে অংশ নিতে সাহস পায় না। একবার সাহস দেখালে শুরু হয় হুমকি, ফেইসবুকে অপপ্রচার ও সামাজিকভাবে হেনস্থা।

৪. নারী হয়রানি ও চরিত্রহননের অভিযোগ:

বাবলুর ছেলেদের বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক স্কুল-কলেজ পড়ুয়া মেয়েদের হয়রানির অভিযোগ। কিছু বাবা-মা ভয়, অপমান আর নিরাপত্তার অভাবে মুখ খোলেন না।

২০২৪ সালে এক কলেজছাত্রীর লিখিত অভিযোগ থানায় জমা হলেও, পুলিশ মামলাটি ‘অজানা কারণে’ গ্রহণ করেনি।

৫. গাঁজা ও মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকা:

বাবলু বাহিনীর বিরুদ্ধে সীমান্ত এলাকায় গাঁজা পাচার, ইয়াবা সরবরাহ ও নেশাগ্রস্ত তরুণদের ব্যবহার করার অভিযোগও রয়েছে।

বেনাপোল ও শার্শা থানার কয়েকজন কর্মকর্তা মুখে না বললেও অফ দ্য রেকর্ড স্বীকার করেছেন—“ওরা আমাদের ওপর থেকেও চাপে আছে। বাবলুর নাম আসলে ফাইল বন্ধ হয়ে যায়।”

—

নিন্দা ও প্রতিবাদ: জনমতের বিস্ফোরণ

শার্শা উপজেলার সাধারণ জনগণ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রশাসনের নীরবতা বাবলুর মতো নেতাদের আরও বেপরোয়া করে তুলছে। শার্শা উপজেলা যুবদলের পক্ষ থেকে এই হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। তারা বলেন—
“এটা কোনো রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব না, এটা একটা চিহ্নিত সন্ত্রাসী বাহিনীর টার্গেট কিলিং। প্রশাসনের দৃষ্টি চাই।”

—

তদন্ত ও ব্যবস্থা:

তবে এখানেই শেষ নয়। এলাকাবাসী, সামাজিক সংগঠন এবং মানবাধিকার কর্মীরা এ বিষয়ে দ্রুত তদন্ত, গ্রেফতার ও বিচার দাবি করছেন। স্থানীয়রা চাইছেন—

রনি ও সোহানের বিরুদ্ধে অবিলম্বে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হোক

বাবলুর রাজনৈতিক ক্ষমতা খর্ব করে নিরপেক্ষ তদন্ত হোক

শার্শা উপজেলায় প্রশাসনিক নজরদারি আরও বাড়ানো হোক

বিএনপি নেতা খায়রুজ্জামান মধু সন্ত্রাসীদের উপযুক্ত শাস্তির দাবি করেন।

একটা সময় ছিল, রাজনীতিবিদ মানে ছিলেন জনসেবক। এখন তারা হয়ে উঠেছেন গডফাদার, তাদের ছেলেরা স্থানীয় গুন্ডা। শার্শার বাবলু ও তার দুই ছেলে যেন এই রোগের প্রতীক। রাজনৈতিক রং নয়, এই ধরনের অপরাধীদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে—ওরা জনগণের পাশে না সন্ত্রাসের পাশে?


More News Of This Category
bdit.com.bd