দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ
জনতার কণ্ঠস্বর
তারিখ: ৩ আগস্ট ২০২৫, রবিবার
সাংবাদিক ইলিয়াস হোসেনের বিস্ফোরক অভিযোগ: বেপজার মেম্বার পদে মেজর জেনারেল (অব.) নজরুল ইসলামের গোপন পুনর্বাসন?
বিশেষ প্রতিবেদন
সরকার পতনের আন্দোলনের মাঝে ‘তথাকথিত অবসরে’ যাওয়া কিছু সেনা কর্মকর্তার গোপন রাজনৈতিক পুনর্বাসনের কাহিনি এখন মুখে মুখে ফিরছে। এর অন্যতম উদাহরণ মেজর জেনারেল (অব.) নজরুল ইসলাম—একজন বিতর্কিত সেনা কর্মকর্তা, যিনি ১৭তম বিএমএ লং কোর্স থেকে কমিশনপ্রাপ্ত হয়ে সেনাবাহিনীর বিভিন্ন সংবেদনশীল পদে কর্মরত ছিলেন।
সম্প্রতি ২০২৫ সালের জুলাই মাসে তাঁকে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের (বেপজা) মেম্বার হিসেবে গোপনে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। অথচ, নজরুল ইসলাম এর আগেও ২০২১ সালে বেপজার চেয়ারম্যান ছিলেন এবং সেখানে নানা অনিয়ম ও দলীয় আনুগত্যের অভিযোগ ওঠে।
২০১৩ চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন ও অপারেশন ‘প্রার্থিতা প্রত্যাহার’
২০১৩ সালের চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন ছিল এক অন্ধকার অধ্যায়, যার নেপথ্যে ছিলেন তৎকালীন কর্নেল জিএস নজরুল ইসলাম। সাংবাদিক ইলিয়াস হোসেনের সাম্প্রতিক বক্তব্য অনুযায়ী, নির্বাচনের দিন দুপুর ১১টার দিকে বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী মঞ্জুরুল ইসলামের ছেলেকে অপহরণ করা হয় সেনাবাহিনীর ছদ্মবেশী টিমের মাধ্যমে।
নজরুল ইসলাম সরাসরি হুমকি দেন—যদি মঞ্জুর প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করেন, তাহলে তাঁর ছেলেকে হত্যা করা হবে। এই ভয়াবহ হুমকির পর বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে মঞ্জুর প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেন। ফলস্বরূপ, আওয়ামী লীগের আজম নাসির বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।
এই “অভিযানের” পুরস্কার স্বরূপ কর্নেল নজরুলকে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল, পরে মেজর জেনারেল পদে উন্নীত করা হয়—যা রাজনৈতিক আনুগত্যের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর মর্যাদাকে কলুষিত করার জ্বলন্ত উদাহরণ।
জুলাই ২০২৫-এ পুরস্কারস্বরূপ নতুন দায়িত্ব
বিএনপি-নেতৃত্বাধীন বৃহৎ গণআন্দোলনের প্রেক্ষিতে যখন দেশে প্রশাসনিক রদবদল এবং সামরিক নিরপেক্ষতা প্রতিষ্ঠার দাবি জোরালো হচ্ছে, তখনই নজরুল ইসলামকে পুনরায় বেপজার মত একটি অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক গুরুত্বপূর্ণ দফতরের মেম্বার বানানো হয়—তা-ও গোপনে, কোনো গণবিজ্ঞপ্তি বা সরকারি ঘোষণার বাইরে।
জনমনে প্রশ্ন উঠেছে:
কে বা কারা তাঁকে এই পদের জন্য চূড়ান্ত করল?
এই নিযুক্তি কি প্রশাসনিক ভুল, না কি পুরনো আনুগত্যের প্রতিদান?
এই জেনারেল কি আবার নতুন কোনো রাজনৈতিক অপারেশনের অংশ হতে চলেছেন?
‘তারেক সিদ্দিকীর লোক’ হিসেবে পরিচিত
নজরুল ইসলামের পরিচয় শুধু একজন প্রাক্তন সেনা কর্মকর্তা হিসেবে নয়—বরং তিনি দীর্ঘদিন ধরে শেখ হাসিনার নিরাপত্তা উপদেষ্টা তারেক সিদ্দিকীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। তাঁর প্রতিটি পদোন্নতি, পোস্টিং এবং পুরস্কারের পেছনে আওয়ামী ঘরানার রাজনৈতিক আনুগত্য ছিল অন্যতম চালিকা শক্তি।
গণদাবি: গোপন নিয়োগের তদন্ত চাই
রাজনৈতিক পুনর্বাসনের এই গোপন চিত্র গণতান্ত্রিক শুদ্ধি অভিযানের পক্ষে বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এমন একজন বিতর্কিত ব্যক্তিকে বেপজার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দেওয়া মানে হচ্ছে দুর্নীতিকে পুরস্কৃত করা, জবাবদিহিতাকে উপহাস করা।
উপসংহার
মেজর জেনারেল (অব.) নজরুল ইসলামের বেপজা মেম্বার হিসেবে গোপন পুনঃনিযুক্তি কেবল একটি ব্যক্তিগত পুরস্কার নয়—এটি রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্টতার সর্বশেষ নিদর্শন। স্বাধীন ও স্বচ্ছ প্রশাসনের জন্য এখনই প্রয়োজন এই ধরনের নিয়োগ প্রক্রিয়ার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা।