• সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:২৮ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনাম
গাজীপুরে মেট্রিক্স গার্মেন্টসে আগুন, ৬৭ জনকে জীবিত উদ্ধার আটতলা ভবনের তৃতীয় তলায় অগ্নিকাণ্ড, আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৯টি ইউনিট নারীর মেসেঞ্জারে পুরুষাঙ্গের ছবি পাঠানোর অভিযোগ মোঃ দিদারের বিরুদ্ধে, সাইবার আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি সাউদার্ন ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা, মালিকানা ও ট্রাস্ট নিয়ে পুরোনো বিরোধ: ২০১৪ সালের জেলা প্রশাসনের তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসে একাধিক গুরুতর অসংগতি ভবিষ্যতে ফ্যাসিবাদী শাসনের পথ বন্ধে সংবিধান সংশোধন প্রয়োজন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ মাদক-সন্ত্রাস, দখলবাজি ও চাঁদাবাজমুক্ত সমাজ গড়তে ফখরুল ইসলাম এমপির আহ্বান হাতিয়ায় জাতীয় যুব দিবস ২০২৬ উদযাপন: যুব র‍্যালি, ঋণের চেক বিতরণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত ৮ মামলার বাধা পেরিয়ে এবার ইলিয়টগঞ্জ উত্তর ইউপির চেয়ারম্যান হওয়ার প্রত্যাশায় দুলাল সরকার বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী নিয়ে উসকানিমূলক বক্তব্যের অভিযোগ, থোয়াইচিং মং শাককে সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের কারণ দর্শানোর নোটিশ মাদকের সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না: এমপি নূরুল ইসলাম নয়ন সাংবাদিক অরিত্র কুন্ডুকে কনডেম সেলে রাখার অভিযোগ: ২৪ ঘণ্টার আইনি আলটিমেটাম, অন্যথায় হাইকোর্টে রিট পুরোনো ভিডিও নতুন করে ছড়িয়ে বিজিবির বিরুদ্ধে অপপ্রচার, বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারে সতর্ক করল সীমান্তরক্ষী বাহিনী

সনাতন ধর্মের পরিচয়কে সামনে এনে পিলিপ রায়কে ফাঁসানোর চেষ্টা? ডিলারশিপ বিতর্কে কর্মকর্তা সাদ্দাম হোসেনকে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ ডেস্ক রিপোর্ট / ১৫০ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬

 

পিলিপ রায়ের ডিলারশিপ নিয়ে বিরোধে ধর্মীয় পরিচয়ের প্রসঙ্গ কেন? নথি যাচাই ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন | দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক | সুনামগঞ্জ–সিলেট

সুনামগঞ্জ ও সিলেট:

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ভর্তুকিমূল্যে পণ্য বিতরণ, ডিলারশিপ চুক্তি নবায়ন, ডেলিভারি অর্ডার (ডিও) সংগ্রহ এবং পণ্য পরিবহন কার্যক্রমকে ঘিরে ব্যাপক ঘুষ, অনিয়ম ও কমিশন দাবির অভিযোগ সামনে এসেছে। টিসিবির আঞ্চলিক কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে এসব গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী ডিলার ও পরিবহন ঠিকাদাররা। উত্থাপিত অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে—ডিলারশিপ নবায়নের নামে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি, ডিও উত্তোলনের সময় প্রতি ডিলার থেকে অবৈধ কমিশন আদায়, পণ্য পরিবহনকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে মাসোহারা দাবি, পণ্যবাহী গাড়ি অন্যায়ভাবে আটকে রাখা, ডিলারদের সাথে অসংবেদনশীল আচরণ এবং প্রশাসনিক নোটিশের ভয় দেখিয়ে জিম্মি করা।

বিভিন্ন দাপ্তরিক কাগজপত্র, অভিযোগপত্র, এবং স্থানীয় সূত্রে উঠে এসেছে নানা জটিল প্রশাসনিক বিরোধের বিবরণ। অভিযোগকারীরা দাবি করছেন, তাঁদের কাছে আর্থিক লেনদেনের বিভিন্ন প্রমাণ রয়েছে। তবে সরকারি ভর্তুকির সুবিধা যেন সঠিক মানুষের কাছে পৌঁছায় এবং কোনো পক্ষ যেন বিনাদোষে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে জন্য বিষয়টি নিয়ে টিসিবির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষ থেকে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জোরদার হয়েছে।

১. ডিলারশিপ নবায়নে ৫০ হাজার টাকা দাবির অভিযোগ

অভিযোগকারীদের দেওয়া লিখিত তথ্য ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ডিলারশিপ চুক্তি নবায়নের ক্ষেত্রে ডিলারপ্রতি ৫০ হাজার টাকা করে ঘুষ দাবি করার অভিযোগ তোলা হয়েছে।

প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ও ব্যত্যয়: টিসিবির ডিলারশিপ নবায়ন একটি সম্পূর্ণ সরকারি ও বিধিবদ্ধ দাপ্তরিক প্রক্রিয়া। সরকার নির্ধারিত ফি ও নিয়মাবলীর বাইরে গিয়ে ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য টাকা দাবি করা বা লেনদেন করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
তদন্তের আবশ্যকতা: অভিযোগকারীদের দাবি অনুযায়ী, টাকা না দিলে ডিলারশিপ বাতিল বা নবায়ন ঝুলিয়ে রাখার হুমকি দেয়া হতো। তবে অর্থ দাবির অভিযোগ এবং ঘুষ গ্রহণের সত্যতা প্রতিষ্ঠার জন্য অভিযোগের তারিখ, স্থান, যোগাযোগের কল রেকর্ড, মেসেজ কিংবা প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

২. ডিও সংগ্রহে ডিলারপ্রতি ৫০০ থেকে ১,০০০ টাকা আদায়ের অভিযোগ

টিসিবি থেকে চাল, ডাল, তেলসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য উত্তোলনের জন্য ডেলিভারি অর্ডার বা ডিও (DO) একটি অন্যতম প্রধান প্রশাসনিক দলিল।

অবৈধ চাঁদা দাবি:অভিযোগকারীদের দাবি, প্রতিটি ডিও ইস্যু করার সময় বা ডিও সংগ্রহের মুহূর্তে ডিলারদের কাছ থেকে ৫০০ থেকে ১,০০০ টাকা পর্যন্ত নগদ দাবি করা হতো। টাকা না দিলে ডিও আটকে রাখা বা প্রক্রিয়াকরণে অযথা বিলম্ব করার অভিযোগও করা হয়েছে।

দাপ্তরিক রেজিস্টার পরীক্ষা:এই অভিযোগ সত্য কি না তা নিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট সময়কালের ডিও ইস্যু রেজিস্টার, অনুমোদিত ফি, টিসিবির ক্যাশ বই এবং সংশ্লিষ্ট ডিলারদের পৃথক জবানবন্দি গ্রহণ করা প্রয়োজন।

৩. পরিবহন প্রতিষ্ঠানের কাছে মাসোহারা ও গাড়ি আটকে রাখার অভিযোগ

টিসিবির পণ্য পরিবহন ব্যবস্থার সাথে যুক্ত ঠিকাদারি বা পরিবহন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির কাছ থেকেও গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মাসিক কমিশন দাবি:পরিবহন এজেন্সির প্রতিনিধির অভিযোগ, পণ্য পরিবহন স্বাভাবিক রাখতে এবং বিল পাস করানোর সুবিধা দিতে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা বা মাসোহারা দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হতো।

গাড়ি আটকে রেখে হয়রানি:দাবি করা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে পণ্যবাহী ট্রাক ও গাড়ি আটকে রেখে মালামাল খালাসে বাধা সৃষ্টি করা হতো এবং চালক ও ডিলারদের সাথে খারাপ ব্যবহার করা হতো বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

যাচাই প্রক্রিয়া:পরিবহন চুক্তি, পণ্যের চালানি রশিদ, বিল ভাউচার এবং সিসিটিভি ফুটেজ (যদি থাকে) পরীক্ষা করে দেখতে হবে গাড়ি আটকে রাখার পেছনে আসলেই কোনো দাপ্তরিক যৌক্তিকতা ছিল, নাকি ব্যক্তিগত আক্রোশ ও অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যে ক্ষমতার অপব্যবহার করা হয়েছিল।

৪. ফিলিপ রায়ের আবেদনপত্রে ডিলারশিপ বিরোধের বিস্তারিত

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার জাউয়াবাজার এলাকার ‘ঈশিকা এন্ড ঈশান ভ্যারাইটিজ স্টোর’-এর স্বত্বাধিকারী ফিলিপ রায় ২০২৩ সালের ১৬ জানুয়ারি টিসিবির চেয়ারম্যান বরাবর ডিলারশিপ চুক্তি নবায়নের জন্য একটি লিখিত আবেদন জমা দেন।

লাইসেন্স হাতবদলের অভিযোগ:আবেদনপত্রে ফিলিপ রায় উল্লেখ করেন যে, তাঁর প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন যাবৎ সুনামের সাথে জাউয়াবাজার ইউনিয়নে কার্ডধারীদের মাঝে সরকারি পণ্য বিতরণ করে আসছে। কিন্তু তাঁর ডিলারশিপ নবায়ন না করে ‘মেসার্স আলী ভ্যারাইটিজ স্টোর’-এর নামে নবায়নের অনৈতিক প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে।

তথ্য গোপনের দাবি:ফিলিপ রায়ের দাবি, আলী ভ্যারাইটিজ স্টোরের আগের চুক্তিতে স্বত্বাধিকারী হিসেবে আমজাদ আলীর নাম ছিল। পরবর্তীতে চুক্তি নবায়নের সময় ট্রেড লাইসেন্স ও মালিকানার তথ্য পরিবর্তন করে অন্য ব্যক্তির নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যা নিয়মবহির্ভূত। এই প্রশাসনিক অনিয়ম ও তথ্য গোপনের বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য মূল ফাইল ও সরকারি রেকর্ড পর্যালোচনার অনুরোধ জানান তিনি।

৫. ছাতক উপজেলা প্রশাসনের সুপারিশপত্র ও বাস্তবতা

২০২৫ সালের ৬ জানুয়ারি ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে টিসিবির আঞ্চলিক দপ্তরের উপপরিচালক বরাবর একটি প্রশাসনিক সুপারিশপত্র পাঠানো হয়।

ইউএনও কার্যালয়ের পর্যবেক্ষণ: ওই চিঠিতে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়, ‘ঈশিকা এন্ড ঈশান ভ্যারাইটিজ স্টোর’ (জাউয়াবাজার ইউনিয়ন) এবং ‘ইফতি স্টোর’ (ভাতগাঁও ইউনিয়ন) তাদের নিজস্ব স্থায়ী দোকানের মাধ্যমে নিয়মিত ও সুষ্ঠুভাবে পণ্য বিতরণ করে আসছে।

অন্য এলাকার বাসিন্দার অযোগ্যতা:সুপারিশপত্রে আরও বলা হয়, মেসার্স আলী ভ্যারাইটিজ স্টোরের স্বত্বাধিকারী হিসেবে নাম থাকা ব্যক্তি অন্য উপজেলার বাসিন্দা হওয়ায় তাঁর নামে সংশ্লিষ্ট এলাকায় ডিলারশিপ নবায়ন আইনসম্মত নয়। ফলে প্রকৃত স্থানীয় ও সফল ব্যবসায়ীদের নামেই চুক্তি নবায়নের সুপারিশ করে উপজেলা প্রশাসন।

প্রশাসনিক অবস্থান: এই সুপারিশপত্রটি প্রশাসনিক স্বচ্ছতার প্রমাণ দিলেও এটি ঘুষ দাবির প্রত্যক্ষ প্রমাণ নয়; তবে এর মাধ্যমে বোঝা যায় ডিলারশিপ বণ্টন নিয়ে একটি বিরোধ চলমান ছিল।

৬. ফরাসি ঘড়ি ও বিকাশ-নগদ লেনদেনের দাবি

 

অভিযোগকারীরা তাঁদের অভিযোগে কিছু চাঞ্চল্যকর উপাদানের কথা উল্লেখ করেছেন:

উপহার ও আর্থিক লেনদেন:অভিযোগকারীদের দাবি, উপহার হিসেবে একটি দামী ফরাসি ঘড়ি এবং বিকাশ ও নগদের মতো মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে অর্থ লেনদেন হয়েছে।

প্রমাণের যোগসূত্র: এ জাতীয় অভিযোগের ক্ষেত্রে লেনদেনের স্ক্রিনশট, স্টেটমেন্ট, প্রেরক ও প্রাপকের পরিচয় এবং সেই অর্থের বিনিময়ে সরকারি কোনো সুবিধা প্রদান করা হয়েছে কি না—তা গভীরভাবে অনুসন্ধান করা প্রয়োজন।

৭. আইন ও অপরাধের মাত্রা: অপরাধ প্রমাণিত হলে শাস্তি কী?

সিএমএস ও বি ও বি-সংক্রান্ত বিষয়ে অভিযোগ উঠেছে, সিলেট সফরকালে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে দেওয়ার কথা বলে ৫০ হাজার টাকা নগদ গ্রহণ করা হয়। পরবর্তীতে টিসিবির আঞ্চলিক অফিসপ্রধান সাদ্দাম হোসেন সংশ্লিষ্ট ডিলারশিপ নবায়ন না করে পদটি শূন্য রেখে ডিলারশিপ বাতিল করে দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে সরকারি কোনো পদে আসীন থেকে ঘুষ দাবি, গ্রহণ বা ক্ষমতার অপব্যবহার প্রমাণিত হলে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে।
আইন ও ধারা | অপরাধের বিবরণ | সম্ভাব্য শাস্তি
দণ্ডবিধি, ১৮৬০ (ধারা ১৬১)সরকারি কর্মচারীর অবৈধ সুবিধা/ঘুষ গ্রহণ,সর্বোচ্চ ৩ বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয়ই
| দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ ক্ষমতার অপব্যবহার ও দাপ্তরিক দুর্নীতি দুদক কর্তৃক মামলা, সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও সাজা |
| সরকারি কর্মচারী বিধিমালা, ২০১৮ অসদাচরণ, দুর্নীতি ও শৃঙ্খলাভঙ্গ,চাকরিচ্যুত, পদাবনতি ও বিভাগীয় শাস্তি।

1.দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ১৬১ ধারা:কোনো সরকারি কর্মকর্তা নিজের দাপ্তরিক কাজের ক্ষমতার বিনিময়ে নির্ধারিত পারিশ্রমিকের বাইরে কোনো অবৈধ আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করলে বা গ্রহণের চেষ্টা করলে এই ধারা প্রযোজ্য। এতে সর্বোচ্চ **৩ বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড** হতে পারে।

2. দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪:টিসিবির পণ্য বিতরণ জনস্বার্থের সাথে সম্পর্কিত। সরকারি ক্ষমতা ব্যবহার করে অনিয়ম বা অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেলে দুদক অনুসন্ধান চালিয়ে সরাসরি ফৌজদারি মামলা দায়ের করতে পারে।
3. সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮: কোনো দাপ্তরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি বা অসদাচরণের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা মিললে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত, কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান এবং বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে **চাকরি থেকে বরখাস্ত** করা সম্ভব।

(নোট: এই আইনগত শাস্তিগুলো তখনই কার্যকর হয়, যখন নিরপেক্ষ তদন্ত ও আদালতের মাধ্যমে অপরাধ চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়।)

৮. নিরপেক্ষ তদন্ত ও দ্রুত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা

টিসিবির মতো একটি জরুরি সরকারি সেবা প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে সাধারণ সুবিধাভোগী ও সৎ ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হন। তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য নিম্নে বর্ণিত পদক্ষেপগুলো নেওয়া জরুরি:

1. উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন: বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও টিসিবির সদর দপ্তর থেকে একটি যৌথ নিরপেক্ষ তদন্ত দল গঠন করে দ্রুত সুনামগঞ্জ ও সিলেটের সংশ্লিষ্ট কার্যালয় পরিদর্শন করা।
2. নথি ও ডিজিটাল প্রমাণের নিরীক্ষা:** ডিলারশিপের মূল ফাইল, ডিও ইস্যুর সময়কাল, ব্যাংকিং লেনদেনের তথ্য এবং উপজেলা প্রশাসনের নোটিশগুলো ফরেনসিক ও দাপ্তরিকভাবে নিরীক্ষা করা।
3. অভিযুক্তের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ:** কর্মকর্তা সাদ্দাম হোসেন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে তাঁদের বক্তব্য ও ব্যাখ্যার পূর্ণ সুযোগ দেওয়া, যাতে কোনো নিরপরাধ কর্মকর্তা মিথ্যা ষড়যন্ত্রের শিকার না হন।

পূর্বের অফিস প্রধান মহোদয় উক্ত সুপারিশ গ্রহণে সরকারের মূল্যায়ন করে ডিলারের আসন ফাঁকা করে রাখেন। পরবর্তীতে উনি সাদ্দাম হোসেন যোগদান করিলেন ডিলারের নবায়নের কথা বলে ২৪/০৫/২০২৩ ইং তারিখে পরিচালক (পিএসসিডি ও পিওডি) সিলেটে থাকারকালে উনাকে দেওয়ার জন্য নগদ ৫০,০০০/- (পঞ্চাশ হাজার টাকা) নেন। পরবর্তীতে আঞ্চলিক প্রধান গ্রহনের পরও তিনি ডিলারের আসন ফাঁকা রেখে তাদের ডিলারশীপ বাতিল করে দেন (কপি সংযুক্ত)। নতুন ডিলার নিয়োগের সম্পাদনে প্রতি ডিলারের প্রতি আঞ্চলিক প্রধান সাদ্দাম হোসেন ৫০০/- টাকা করে ঘুষ নেন। ডিলারগণ মাসিক পণ্য উত্তোলনের সময় ডিও প্রতি ১০০০/- (এক হাজার) টাকা করে ঘুষ দিতে হয়। কোন ডিলার উনার দাবীকৃত ঘুষের টাকা দিতে অপারগতা করিলে মোবাইলের মাধ্যমে কথাবার্তা রেকর্ড করেন ও অন্য পরিবহনের গাড়ি আটকে রেখে হয়রানী করেন।
সরকারি দায়িত্বে থেকে কেউ ঘুষ বাণিজ্য, অবৈধ অর্থ আদায় কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহারের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাঁর বিরুদ্ধে দ্রুত ও নিরপেক্ষ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্ত, প্রয়োজন হলে ফৌজদারি মামলা এবং সরকারি চাকরির বিধি অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে। তদন্তে অপরাধ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছে প্রত্যাশা—জনগণের অর্থ ও অধিকার রক্ষায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক। কোনো কর্মকর্তা যেন রাজনৈতিক পরিচয়, পদমর্যাদা বা প্রভাব খাটিয়ে জবাবদিহির বাইরে থাকতে না পারেন। একই সঙ্গে নিরপরাধ কেউ যেন মিথ্যা অভিযোগের শিকার না হন, সে জন্য প্রতিটি অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্তের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি।

ঘুষ ও দুর্নীতি শুধু আর্থিক অনিয়ম নয়; এটি সরকারি সেবার প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট করে। তাই অভিযোগ পেলেই প্রমাণ সংরক্ষণ, দ্রুত তদন্ত এবং আইনসম্মত ব্যবস্থা গ্রহণই হওয়া উচিত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অগ্রাধিকার।

পিলিপ রায় বলেন আমাকে অনেকেই ধর্মীয় ট্যাগ দিয়ে সব থেকে বঞ্চিত করলেও আমি বিশ্বাস করি বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমার প্রতি-সু বিচার করবেন।

পিলিপ রায়ের ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা: মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

ফিলিপ রায় বলেন, “বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আমি শুধু বলতে চাই, আমরা সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যেন সব সময় ন্যায়বিচার পাই। আমাদের অভিযোগ ও দাখিল করা নথিপত্র যেন নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা হয় এবং আমরা যেন ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত না হই।”

পিলিপ রায় জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তাঁর কাছে পর্যাপ্ত প্রমাণ ও নথিপত্র রয়েছে। তিনি বিশ্বাস করেন, এসব তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে বাংলাদেশ বিএনপি সরকার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে। তবে তিনি তাঁর ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে প্রতিষ্ঠানটির বৈধতা নিয়ে সমস্যা হয়েছে কিংবা তাঁর বিরুদ্ধে ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে—এমন কোনো বক্তব্য দেননি। তাই তাঁর বক্তব্যের বাইরে গিয়ে ধর্মীয় পরিচয়কে এই বিরোধের কারণ হিসেবে উপস্থাপন করা সমীচীন হবে না।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রতি শ্রদ্ধা, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং সব নাগরিকের সমঅধিকার প্রতিষ্ঠা একটি বৈষম্যহীন ও সম্প্রীতিময় বাংলাদেশ গড়ার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’—এই চেতনায় প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। দুর্গাপূজায় সহযোগিতা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সহায়তা এবং সব ধর্মের মানুষের অধিকার রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহাবস্থানের পরিবেশ আরও সুদৃঢ় হোক—এটাই প্রত্যাশা।

পিলিপ রায়ের ডিলারশিপ-সংক্রান্ত অভিযোগ ও দাখিল করা নথিপত্র নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন করা প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং একই সঙ্গে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন অন্যায়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, তা নিশ্চিত করা হোক।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের প্রতি পিলিপ রায়ের এই আবেদন,ধর্মীয় পরিচয়, সামাজিক অবস্থান কিংবা ব্যক্তিগত প্রভাব নয়; বরং তথ্য-প্রমাণ ও আইনের ভিত্তিতে যেন প্রত্যেক নাগরিক ন্যায়বিচার পান।

ন্যায়বিচার, মানবিকতা ও আইনের শাসন সবার জন্য সমান হোক।


More News Of This Category
bdit.com.bd