শেখ দলীয় ভেতরে অপকর্ম ও লুটপাটের অভিযোগ: শেখ হাসিনার নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সমালোচকরা
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক বলয়ের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি, লুটপাট, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপকর্মের অভিযোগ থাকলেও এসব বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও দলীয় একাংশের নেতাকর্মীদের অভিযোগ—ক্ষমতার আশেপাশে গড়ে ওঠা একটি সংঘবদ্ধ চক্রের কারণে দলীয় আদর্শ ভেঙে পড়েছে এবং তৃণমূল কর্মীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সমালোচকদের দাবি, আওয়ামী লীগের ভেতরে আদর্শের রাজনীতির পরিবর্তে অর্থনৈতিক স্বার্থকেন্দ্রিক একটি প্রতিযোগিতা দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে। অভিযোগ আছে, ক্ষমতার কাছাকাছি থাকা বহু ব্যক্তি রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ও প্রভাব খাটিয়ে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। তাঁদের অনেকের বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকা সম্পদ অর্জনের অভিযোগ থাকলেও দৃশ্যমান জবাবদিহি বা শাস্তির নজির খুবই সীমিত।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, এই বলয়ের অনেকেই ক্ষমতার সুবিধা নিতে নিতে পরোক্ষভাবে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গেও যোগাযোগ ও আঁতাতে জড়িয়েছেন—এমন অভিযোগ রয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় তারা দলীয় পরিচয়ের বাইরে গিয়ে কাজ করছে বলেও অভিযোগ তুলেছেন একাধিক নেতাকর্মী।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হলো—এই অপকর্মে জড়িত গোষ্ঠীর কারণে মাঠপর্যায়ের দলীয় কর্মীরা হামলা, মামলা, নির্যাতন ও রাজনৈতিক সহিংসতার শিকার হলেও ক্ষমতাবানদের পরিবার নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবন যাপন করছে। এতে দলীয় কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, শেখ হাসিনা এসব অপকর্মের অভিযোগ সম্পর্কে অবগত থাকলেও কঠোর অবস্থান নিতে পারছেন না। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, ক্ষমতার বলয়ের লোকজন দল থেকে বাদ পড়লে তারা বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে প্রকাশ্যে যুক্ত হয়ে বিপুল অর্থ ও প্রভাব ব্যবহার করতে পারে—এই আশঙ্কাই বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আরও অভিযোগ উঠেছে, সংঘবদ্ধ এই চক্র দলীয় কর্মীদের ইচ্ছাকৃতভাবে সুবিধাবঞ্চিত ও দুর্বল করে রেখেছে, যাতে তারা সবসময় রাজপথে ব্যবহারের জন্য নির্ভরশীল থাকে। সরকারি নিয়োগ ও সুযোগ-সুবিধায় তৃণমূল সংগঠনের কর্মীরা উপেক্ষিত হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে দলীয় কর্মীদের একটি বড় অংশ নীরব অবস্থান নিয়েছে। অনেকেই প্রকাশ্যে বলতে শুরু করেছেন—যাঁরা ক্ষমতার মধু খেয়েছেন এবং অপকর্ম করে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন, আগে তাঁদেরই রাজপথে নামা উচিত। এরপর প্রয়োজনে কর্মীরা আন্দোলনে যুক্ত হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগের জন্য সবচেয়ে বড় সংকট এখন বাইরের বিরোধী শক্তি নয়, বরং দলের ভেতরে গড়ে ওঠা এই অপকর্ম ও স্বার্থান্বেষী চক্র। সময়মতো এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে দলীয় রাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে তারা মনে করছেন।