প্রকাশিত: ৮ জুলাই ২০২৫
রিপোর্ট: হাফিজুর রহমান, যশোর প্রতিনিধি
—
শাহীন চাকলাদারসহ চারজনের বিরুদ্ধে প্রায় ১ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলা
এমপিওভুক্তির প্রতিশ্রুতিতে কোটি টাকার প্রতারণা, তদন্তে পিবিআই
যশোর জেলার কেশবপুরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ৮৪ লাখ ৪৫ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক এমপি শাহীন চাকলাদারসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (৮ জুলাই) শহীদ লে. মাসুদ মেমোরিয়াল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মশিয়ার রহমান যশোরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। আদালতের বিচারক আঞ্জুমান আরা বেগম মামলাটি আমলে নিয়ে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
—
অভিযুক্তরা কারা?
শাহীন চাকলাদার – সাবেক সংসদ সদস্য, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক
আলমগীর সিদ্দিকি টিটো – শাহীনের ব্যক্তিগত সহকারী (PS), বসবাস শাহপাড়া রোড
শামীমা পারভিন রুমা – টিটোর স্ত্রী
রবিউল ইসলাম – মাগুরখালী গ্রামের মৃত সোবহান গাজীর পুত্র
—
অভিযোগের বিবরণ
মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, ২০২০ সালের ২ অক্টোবর থেকে ২০২১ সালের ৩০ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন সময় আসামিদের হাতে নগদ অর্থ দেওয়া হয়। উদ্দেশ্য ছিল—
শহীদ লে. মাসুদ মেমোরিয়াল কলেজের স্নাতক ও বিএমপি শাখার এমপিও আদেশ করানো
কলেজের কৃষি ডিপ্লোমা শিক্ষকদের এমপিও ছাড় করানো
রেজাকাটি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাধ্যমিক শাখার এমপিও আদেশ নিশ্চিত করা
এই কাজগুলো বাস্তবায়নের জন্য তারা দাবি করেন মোট ৮৪ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। বাদী শিক্ষকদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে টিটোর বাসায় শাহীন চাকলাদারের উপস্থিতিতে তা হস্তান্তর করেন। প্রতিবার টাকাগুলো মেশিনে গুনে নেওয়া হয়।
কাজগুলো ২০২১-২২ সালের মধ্যে শেষ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও, পরে তা আর করা হয়নি। সময় গড়াতে থাকলে বাদী বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেন, কিন্তু বারবার তালবাহানা ও হুমকির মুখে পড়েন।
—
⚠️ ভয়ভীতি ও রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ
২০২৪ সালের ২০ জুন বাদী টিটো ও রুমার কাছে টাকা ফেরত চাইলে তারা সরাসরি জানিয়ে দেন—
> “টাকা ফেরত দেওয়া হবে না, আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসছে, কিছু করতে পারবি না!”
এই হুমকির পরেই বাদী সাহস করে আইনের দ্বারস্থ হন।
বাদীর আইনজীবী তাহমিদ আকাশ বলেন,
> “আমরা আদালতের নির্দেশে পিবিআইয়ের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত চাই, যাতে এই ভয়ানক প্রতারণার বিচার হয়।”
—
প্রেক্ষাপট ও রাজনৈতিক তাৎপর্য
এই মামলাটি ক্ষমতাসীন দলের এক প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধে প্রতারণা ও দুর্নীতির অভিযোগে সরাসরি দায়েরকৃত একটি বিরল উদাহরণ। যেখানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম ভাঙিয়ে নিয়োগ বাণিজ্য, বদলি বাণিজ্য ও এমপিওভুক্তিকরণের নামে লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
এই মামলার রায় ও তদন্তের অগ্রগতি ভবিষ্যতে বাংলাদেশে রাজনৈতিক দুর্নীতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহার সংক্রান্ত বিচার ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা ও সাহসিকতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ এক মাইলফলক হতে পারে।
—
নজর রাখুন — পিবিআই তদন্তে কী উঠে আসে, আর আদালত কেমন রায় দেয়।
আপনার মতামত জানান: আপনি কি মনে করেন রাজনৈতিক নেতাদের এই ধরনের অপরাধের জন্য শাস্তি হওয়া উচিত?
—
প্রতিবেদন: নাজমুল হাসান-এর সম্পাদকীয় পর্যালোচনায় প্রস্তুতকৃত।