১৩ অক্টোবর ২০২৫ | ২৩:০০
জনতার কণ্ঠস্বর ডেস্ক
দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ, জনতার কণ্ঠস্বর
www.bangladeshprothomsangbad.com
এ যেন এক ঐতিহাসিক দৃশ্য—
শহীদ মিনারের পাদদেশে শত শত শিক্ষক চাদর মেলে রাত কাটাচ্ছেন। হাতে হাতে প্ল্যাকার্ড, চোখে অনিদ্রার ছাপ, তবুও কণ্ঠে দৃঢ়তা— “আমরা ন্যায্য দাবিই চাই।”
দেশের এই সময়টিকে একদিন ইতিহাসে লেখা হবে, যেমন লেখা হয় অবহেলিতদের লড়াই, প্রজন্মের জেগে ওঠা, এবং ন্যায়ের আহ্বান।
এই দৃশ্য দেখে আবেগাপ্লুত হয়েছেন শিক্ষক পরিবারের সন্তান আবিদুল ইসলাম খান। তাঁর ফেসবুক পোস্ট এখন ছড়িয়ে পড়েছে হাজারো মানুষের হৃদয়ে। তিনি লিখেছেন—
“আমি একজন শিক্ষকের সন্তান। ছোট বেলা থেকে বাবাকে শিক্ষক হিসেবে অসংখ্য মানুষের ভালোবাসা পেতে দেখেছি। এখনো দেশ-বিদেশের অসংখ্য শিক্ষার্থীরা তাঁর খোঁজ খবর নেন। এই মহান পেশায় নিয়োজিত দেশের লাখ লাখ শিক্ষকদের দাবীটা খুবই অল্প, তেমন বড় কিছু তারা চাননি। তার বিপরীতে তাঁদের সাথে পুলিশের যে আচরণ, সরকারের যে উদাসীনতা তা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছিনা। শহীদ মিনারে শিক্ষকদের রাত্রীযাপনের ভিডিওগুলো দেখে বারবার মনটা নরম হয়ে আসছে। ছোটোবেলার আমার পরিবারের মতই দেশের লাখো পরিবার এই একেকজন শিক্ষকের উপর নির্ভরশীল। ওনাদের রাষ্ট্র যেটুকু সম্মানী দিচ্ছে, তাকে আসলে ‘সম্মানী’ বলাটাও একটা ঠাট্টার মতন।”
সরকারের উদ্দেশে তাঁর অনুরোধ ইতিহাসে থেকে যাবে মানবতার ডাক হিসেবে—
“আমি সরকারের কাছে উদার্ত আহ্বান জানাই, শহীদ মিনারে অবস্থানরত আমাদের শিক্ষকদের জন্য যতটুকু করা যায় করুন। দ্রুতই আমাদের শিক্ষকদের সম্মানের সাথে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফিরিয়ে আনুন।”
এই এক পোস্ট যেন লক্ষ কণ্ঠের প্রতিধ্বনি হয়ে উঠেছে।
জনমনে এখন একটাই প্রশ্ন—
যাঁরা আমাদের অক্ষরজ্ঞান দিয়েছেন, নৈতিকতার পাঠ শিখিয়েছেন, আজ তাঁদের কেন রাত কাটাতে হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মৃতিস্তম্ভের নিচে?
ইতিহাস সাক্ষী থাকবে—
শিক্ষক সমাজের এই সংগ্রাম কেবল বেতনের নয়, মর্যাদার; কেবল রুটি-রুজির নয়, রাষ্ট্রের বিবেক জাগ্রত করার ডাক।
আর এই সময়, এই আহ্বান—বাংলাদেশের সামাজিক বিবেকের এক গর্বিত অধ্যায় হয়ে থাকবে।
বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ ডেস্ক
www.bangladeshprothomsangbad.com