শতখালী দারুল উলুম দাখিল মাদরাসায় চরম জালিয়াতি
প্রক্সির অন্তরালে সুপারের পকেটস্থ লাখ লাখ টাকা: শিক্ষক শিল্পীর বেতনের টাকা নিয়ে তুলকালাম!
বিশেষ প্রতিনিধি, দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ
শালিখা (মাগুরা):
মাগুরার শালিখা উপজেলার শতখালী দারুল উলুম দাখিল মাদরাসায় দুর্নীতি, প্রক্সি শিক্ষক দিয়ে পাঠদান এবং জাল রেজুলেশনের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। সহকারী কৃষি শিক্ষক শিল্পী খাতুনের বেতন থেকে প্রতি মাসে অনৈতিকভাবে ২০ হাজার টাকা কেটে নেওয়ার মূল কারিগর অত্র মাদরাসার সুপার মাওলানা হাফিজুর রহমান।
বিকাশ ও পাঞ্জাবির পকেটে বেতনের ভাগ
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৩ সাল থেকে সহকারী কৃষি শিক্ষক শিল্পী খাতুন মাদরাসায় নিজে অনুপস্থিত থেকে ‘সোহাগ’ নামের এক বহিরাগত যুবককে দিয়ে প্রক্সি পাঠদান করাচ্ছেন। শিক্ষক শিল্পী খাতুন সরকারি কোষাগার থেকে প্রতি মাসে মোট ৪১ হাজার ৫০০ টাকা বেতন উত্তোলন করেন। কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী, প্রক্সি দেওয়া বাবদ প্রতি মাসে তার বেতন থেকে কেটে নেওয়া হয় ২০ হাজার টাকা।
এই ২০ হাজার টাকার বণ্টন প্রক্রিয়াও বেশ নাটকীয়:

প্রক্সি সোহাগের বিকাশ: প্রক্সি দেওয়া সোহাগের মোবাইল বিকাশ নম্বরে পাঠানো হতো প্রতি মাসে ৬ হাজার টাকা।
সুপারের পকেটে:বাকি ১৪ হাজার টাকা সোজা চলে যেতো মাদরাসার সুপার মাওলানা হাফিজুর রহমানের পাঞ্জাবির পকেটে।
মূল শিক্ষকের হাতে:যাবতীয় জালিয়াতি ও কাটুতির পর আসল কৃষি শিক্ষক শিল্পীর পকেটে থাকতো মাত্র ২১ হাজার ৫০০ টাকা।
“`
[মোট বেতন: ৪১,৫০০ টাকা]
├── প্রক্সি সোহাগ (বিকাশ): ৬,০০০ টাকা
├── সুপার হাফিজুর রহমান (পকেটস্থ): ১৪,০০০ টাকা
└── শিক্ষক শিল্পী (অবশিষ্ট): ২১, ৫০০ টাকা
ভুয়া রেজুলেশন ও সাবেক সভাপতির বক্তব্য
দুর্নীতি ঢাকতে সম্প্রতি ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসের ২৬ তারিখে একটি ভুয়া ব্যাকডেটেড (২০২৩ সালের) রেজুলেশন তৈরি করেন সুপার। কিন্তু যে সময়ের নামে রেজুলেশন বা মেডিকেল ছুটির দোহাই দেওয়া হয়েছে, সেই ২০২৩ সালে মাদরাসার পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ছিলেন মাসুদ আলম।
সাবেক সভাপতি মাসুদ আলমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:
আমার মেয়াদকালে শিক্ষক শিল্পী খাতুন কোনো মেডিকেল ছুটি কিংবা প্রক্সি সংক্রান্ত কোনো রেজুলেশনের আবেদন করেননি। এখন যে রেজুলেশনের কথা বলা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ ভুয়া, জাল ও বানোয়াট।

ডান হাতের অজুহাত, সই করতেন খোদ সুপার!
ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে সাংবাদিকরা মাদরাসার শিক্ষক হাজিরা খাতায় শিল্পী ম্যাডামের স্বাক্ষর দেখতে গেলে বেরিয়ে আসে আরও বড় জালিয়াতি। হাজিরা খাতায় দুই ধরনের ভিন্ন ভিন্ন স্বাক্ষর দেখতে পান অনুসন্ধানী সাংবাদিকরা।
স্বাক্ষরের অমিল সম্পর্কে জানতে চাইলে শিক্ষক শিল্পী খাতুন এক অদ্ভুত অজুহাত দিয়ে বলেন, *”আমার ডান হাত কেটে যাওয়ার কারণে আমি দীর্ঘদিন যাবত বাম হাত দিয়ে স্বাক্ষর করছি।
তবে সরেজমিনে অনুসন্ধান ও মাদরাসা সূত্রে পাওয়া চরম সত্য হলো—ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, শিক্ষক শিল্পীর নাম ভেঙে ওই হাজিরা খাতায় জালিয়াতি করে এতদিন স্বাক্ষর করে আসছিলেন খোদ মাদরাসার সুপার মাওলানা হাফিজুর রহমান!
এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের দাবি, একজন সুপারের ছত্রছায়ায় দীর্ঘদিন ধরে এমন জালিয়াতি ও প্রক্সি বাণিজ্য চলায় শিক্ষার পরিবেশ ধ্বংস হচ্ছে। তারা দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে দুর্নীতিবাজ সুপার মাওলানা হাফিজুর রহমান এবং প্রক্সি বাণিজ্যে জড়িত শিক্ষক শিল্পীর বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।