ঢাকা, ১৯ জুলাই ২০২৫ |
একটি দলের নাম “জাতীয় ঐক্য” হলেও বাস্তবে তা হয়ে উঠেছে জাতীয় বিভাজনের প্রকল্প—এমনই এক অসংকোচ বার্তা দিয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা রাশেদ খান। সাম্প্রতিক ফেসবুক পোস্টে তিনি বিএনপির শীর্ষ নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে এনসিপি নেতা নাসির উদ্দিন পাটোয়ারীর অশালীন, উগ্র ও উস্কানিমূলক বক্তব্যের কড়া প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, “এই পথের শেষ গৃহযুদ্ধ”।
রাশেদের পোস্ট নিছক প্রতিক্রিয়া নয়—এটি একটি সতর্কবার্তা এবং সেই সাথে একটি রাজনৈতিক দল (বিএনপি)-এর প্রতি নৈতিক সম্মান ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ, যারা ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্যের মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করে চলেছে।
রাশেদ খান স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন—
“সালাহউদ্দিন আহমেদ ভাই সহনশীল, বিচক্ষণ ও প্রজ্ঞাবান একজন নেতা। তার বিরুদ্ধে এভাবে বিষোদ্গার করা শুধু বিএনপিকে নয়, বরং তরুণ নেতৃত্ব এবং সমগ্র আন্দোলনকেই প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা।”
এ বক্তব্যের মাধ্যমে নাসির উদ্দিন পাটোয়ারীর মতো রাজনৈতিক অনভিজ্ঞ ও আত্মকেন্দ্রিক কিছু এনসিপি নেতার আসল মুখোশ উন্মোচন হয়েছে, যারা নিজেরা ব্যর্থতার দায় অন্যের উপর চাপিয়ে দিয়ে নিজেদের ‘বিকল্প শক্তি’ হিসেবে জাহির করতে চায়।
জিয়াউর রহমানকে নিয়ে একাধিকবার আপত্তিকর মন্তব্য করা, তার ঠিক পরের দিন চাঁদপুরে সমাবেশে যাবার ঘটনা, এবং পরে সালাহউদ্দিন আহমেদকে রাত ৩টায় ফোন করে শান্তি রক্ষার আবেদন—এসব কিছুই নাসির উদ্দিনের রাজনৈতিক দ্বিচারিতা ও সুবিধাবাদী চরিত্রের জলজ্যান্ত উদাহরণ।
যিনি শান্তি চান, তিনি আগে উস্কানি দেবেন না।
যিনি ঐক্য চান, তিনি কখনোই আন্দোলনের কান্ডারীদের অপমান করেন না।
বিএনপি এ ঘটনায় সম্পূর্ণ সহনশীলতা ও পরিণত রাজনৈতিক আচরণ প্রদর্শন করেছে। উস্কানির জবাবে প্রতিক্রিয়া আসলেও কেন্দ্রীয়ভাবে বিএনপি কোনো দমন-পীড়ন বা উল্টো চর্চা করেনি, বরং তাৎক্ষণিকভাবে দলীয় নেতাদের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
রাশেদ খান এ বিষয়ে বলেন—
“বিএনপিকে বিভক্ত করে লাভবান হবে হাসিনা। তাই এখন সবচেয়ে বেশি দরকার ঐক্য, সহনশীলতা ও দূরদর্শিতা।”
রাশেদ খান নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, ২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় সালাহউদ্দিন আহমেদ, নুরুল হক নুর এবং তিনি একসাথে অনেক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সেই রাজনৈতিক সম্পর্কের ভিত্তি ছিল বিশ্বাস, শ্রদ্ধা এবং উদার সহাবস্থান।
তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন:
“যদি এনসিপি এই বিভাজনের পথ অব্যাহত রাখে, তাহলে ১/১১’র পুনরাবৃত্তি হবেই। তখন আন্দোলনের কেউ নিরাপদ থাকবে না।”
এনসিপি যে তরুণদের নামে রাজনীতি করছে, তাদের মাঝে আজ সন্দেহ, হতাশা ও বিভ্রান্তির জন্ম দিচ্ছে। নিজ নেতাদের আগ্রাসী ও অপমানজনক বক্তব্যকে না থামিয়ে, উল্টো নীরব সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। আজ পর্যন্ত নাসির উদ্দিন পাটোয়ারীর বক্তব্য প্রত্যাহার বা সংশোধনের কোনো চেষ্টাই দেখা যায়নি।
এটি প্রমাণ করে—এনসিপি এখন বিএনপির পাশে নয়, বরং বিএনপির বিরুদ্ধে একটি ‘সামরিক-সমর্থিত বিকল্প’ হিসেবে দাঁড়ানোর অপচেষ্টা করছে।
আজকের বাস্তবতায় বিএনপিই সেই রাজনৈতিক শক্তি যারা জনগণের ভোটাধিকার, গণতন্ত্র এবং স্বাধীন মত প্রকাশের লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিচ্ছে। এই দলে আছে বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি, তারেক রহমানের কৌশলগত দূরদর্শিতা, ও সালাহউদ্দিন আহমেদের মতো সহনশীল নেতৃত্ব।
অন্যদিকে, বিভ্রান্তিমূলক জোট, মুখে ঐক্যের বুলি আর ভিতরে ঘৃণা নিয়ে যারা রাজনীতি করছে—তারা জনগণের আস্থার যোগ্য নয়।
সংবাদ বিশ্লেষণ
(ডেইলি প্রথম বাংলাদেশ-এর জন্য বিশেষ প্রতিবেদন)