রামপুরায় গুলিতে ৩২ জন নিহত: ডিসি হায়াতুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা না হওয়ায় প্রশ্ন
অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট :
২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে রাজধানীর রামপুরা এলাকায় ধারাবাহিক সংঘর্ষে কমপক্ষে ৩২ জন আন্দোলনকারী পুলিশের গুলিতে নিহত হন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। তবে এসব ঘটনার সময় এলাকায় দায়িত্বে থাকা মতিঝিল জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হায়াতুল ইসলাম খানের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে সমালোচনা ও প্রশ্ন উঠেছে।
১৮ জুলাই: দুলাল মাতবর ও সেলিম তালুকদারের মৃত্যু
১৮ জুলাই রামপুরা এলাকায় সংঘর্ষের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান গাড়িচালক দুলাল মাতবর। তিনি মাইক্রোবাস চালিয়ে এলাকা পার হচ্ছিলেন। একই দিন গুলিবিদ্ধ হন মো. সেলিম তালুকদার, যিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১২ দিন পর মারা যান।
এদিন বিটিভি ভবনে হামলার অভিযোগে ব্যাপক অভিযান চালায় পুলিশ। একই সময়ে সন্ধ্যা ৬টা ৪৭ মিনিটে ডিসি হায়াতুল ইসলাম খান ও ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানের কথোপকথনের একটি অডিও প্রকাশিত হয়, যেখানে ডিসিকে “চাইনিজ রাইফেল দিয়ে গুলি করতে হবে” বলতে শোনা যায়।
১৯ জুলাই: দুই হাসপাতালে ১০ মরদেহ
পরদিন ১৯ জুলাই রামপুরায় সংঘর্ষ আরও তীব্র আকার ধারণ করে।
বেটার লাইফ হাসপাতালে ৫ জনের মরদেহ
বনশ্রীর অ্যাডভান্স হাসপাতালে আরও ৫ জনের মরদেহ
নেওয়া হয়।
এছাড়া গুলিবিদ্ধ হন শতাধিক আন্দোলনকারী।
২১ দিনে কমপক্ষে ৩২ জন নিহত
মানবাধিকার সংগঠন ও স্থানীয় সূত্র বলছে, ১৬ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত রামপুরায় পুলিশের গুলিতে কমপক্ষে ৩২ জন নিহত হন। আহত হন আরও বহু মানুষ।
তবুও ডিসির বিরুদ্ধে মামলা নেই
যদিও একই সময় ও একই এলাকায় দায়িত্বে থাকা এডিসি ও ইনস্পেক্টর পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা হয়েছে,
কিন্তু ওই জোনের সর্বোচ্চ কর্মকর্তা ডিসি হায়াতুল ইসলাম খানের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এতে প্রশ্ন উঠছে—
“এত বড় ঘটনার পরও জোনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিসির বিরুদ্ধে কেন মামলা নেই?”
বর্তমান দায়িত্ব
২৪তম বিসিএসের কর্মকর্তা হায়াতুল ইসলাম খান বর্তমানে অ্যাডিশনাল ডিআইজি পদে রাজশাহী রেঞ্জে সংযুক্ত আছেন।
তথ্যের উৎস
এই ঘটনাসমূহ ও অভিযোগ নিয়ে পৃথক প্রতিবেদনে তথ্য প্রকাশ করেছেন আলজেরিয়ার সাংবাদিক জুলকারনাইন সাইর, তার ভেরিফাইড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে।