প্রহর শেষের ক্ষণ : যশোরের শার্শার রাজপথে জনস্রোত
দেশনায়ক তারেক রহমানের আগমন ঘিরে ঐতিহাসিক আনন্দ মিছিল ও বিশাল জনসভা
শার্শা (যশোর) প্রতিনিধি :
সময় যেন থেমে থাকতে চায় না। দীর্ঘ অপেক্ষা, নিরব প্রহর আর প্রত্যাশার গণনা শেষের পথে। ঘরের ছেলে ঘরে ফেরার ক্ষণ ঘনিয়ে আসছে। আগামী ২৫ ডিসেম্বর—এই দিনটিকে সামনে রেখে শার্শা উপজেলায় সৃষ্টি হয়েছে এক অভূতপূর্ব রাজনৈতিক আবহ। চারদিকে একটাই নাম, একটাই উচ্চারণ—
দেশনায়ক তারেক রহমান, জননেতা তারেক রহমান।
এই ঐতিহাসিক মুহূর্তকে স্বাগত জানাতে শার্শা উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আজ বিকাল ৩টা থেকে শার্শা উপজেলা বিএনপির কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে বের হয় এক বিশাল আনন্দ মিছিল। অল্প সময়ের মধ্যেই সেই মিছিল রূপ নেয় জনসমুদ্রে, ঢেউ তোলে পুরো শার্শা রাজপথে।
এক লক্ষাধিক মানুষের উপস্থিতিতে গণআনন্দের বিস্ফোরণ
এই আনন্দ মিছিলে প্রায় এক লক্ষাধিকেরও বেশি নেতা-কর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। ইউনিয়ন পর্যায় থেকে শুরু করে পৌর, থানা ও উপজেলা পর্যায়ের বিএনপি এবং যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষক দলসহ অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে রাজপথ পরিণত হয় উৎসব ও আন্দোলনের মিলনস্থলে।
ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ডে সেজে ওঠে চারদিক। মানুষের ঢল, স্লোগানের গর্জন আর পদচারণায় শার্শার প্রধান সড়কগুলো হয়ে ওঠে গণতন্ত্রের প্রত্যয়ের প্রতিচ্ছবি।
স্লোগানে স্লোগানে কেঁপে ওঠে শার্শা
পুরো কর্মসূচি জুড়ে রাজপথ মুখর ছিল বজ্রকণ্ঠ স্লোগানে—
“যে জিয়া জনতার, সে জিয়া মরে নাই”,
“তারেক রহমান আসছে, মা মাটি ডাকছে”,
“তারেক রহমান ফিরে আসবেই”,
“গণতন্ত্র মুক্তি পাক”—
এসব স্লোগানে শার্শার আকাশ-বাতাস যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পায়।
জনসভার নেতৃত্ব ও সংগঠনের দায়িত্ব
আনন্দ মিছিল শেষে অনুষ্ঠিত হয় এক বিশাল জনসভা।
এই জনসভার নেতৃত্ব দেন চারটি থানার বিএনপির সভাপতি আবুল হাসান জহির। তাঁর দিকনির্দেশনা ও সভাপতিত্বে জনসভা পরিণত হয় শৃঙ্খলাবদ্ধ ও শক্তিশালী রাজনৈতিক সমাবেশে।
সার্বিক আয়োজন, সমন্বয় ও মাঠপর্যায়ের সংগঠনের দায়িত্বে ছিলেন শার্শা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব নুরুজ্জামান লিটন। তাঁর তত্ত্বাবধানে ইউনিয়ন, থানা ও পৌর পর্যায়ের সকল স্তরের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে কর্মসূচিতে অংশ নেন।
নেতৃত্বে ঐক্য, রাজপথে আস্থা
দীর্ঘদিন ধরে মাঠে সক্রিয় থাকা, ত্যাগী নেতাকর্মীদের সংগঠিত করা এবং সাধারণ মানুষের সাথে দলের সেতুবন্ধন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আবুল হাসান জহির ও আলহাজ্ব নুরুজ্জামান লিটনের নেতৃত্ব আজ আবারও দৃশ্যমান হয়ে ওঠে।
নেতাকর্মীদের ভাষায়,
“এই নেতৃত্বই প্রমাণ করে শার্শা বিএনপি বিভক্ত নয়—শার্শা বিএনপি প্রস্তুত।”
গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রত্যয়
জনসভায় বক্তারা বলেন, দেশনায়ক তারেক রহমান কোনো একক রাজনৈতিক পরিচয় নন—তিনি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আশা, মানুষের ভোটের অধিকার ফেরানোর অঙ্গীকার। তাঁর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়েই দেশে ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার নতুন অধ্যায় সূচিত হবে।
শার্শা থেকে স্পষ্ট বার্তা
আজকের এই প্রায় এক লক্ষাধিক মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত রাজপথে উপস্থিতি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে—
শার্শার মানুষ পরিবর্তন চায়,
গণতন্ত্র চায়,
এবং সেই পরিবর্তনের নেতৃত্বে দেখতে চায় দেশনায়ক তারেক রহমানকে।
এই আনন্দ মিছিল ও জনসভা কেবল একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি ছিল না—
এটি ছিল শার্শার জনগণের পক্ষ থেকে উচ্চারিত এক দৃঢ়, সুস্পষ্ট ও শক্তিশালী রাজনৈতিক ঘোষণা।