মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি:
মুন্সিগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম, সশস্ত্র হামলা, অপহরণ ও অবৈধ সম্পদ অর্জন সংক্রান্ত অভিযোগ তদন্তের জন্য গোয়েন্দা বিভাগ তলব দিয়েছে। মহিউদ্দিনের আমলে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন ও রাজনৈতিক পরিবেশে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধ ও অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে।
গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, মহিউদ্দিন ও তার পরিবার প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় জুলুম, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দখলবাজি, মাদক ও অবৈধ বালু ব্যবসা–সহ কোটি কোটি টাকা আয় করেছেন। দলের পদপদবী, মনোনয়ন ও ক্ষমতার ব্যবসায়ও তারা যুক্ত ছিলেন।
তদন্তে নাম উল্লেখিত আসামিদের মধ্যে রয়েছেন:
মহিউদ্দিনের দ্বিতীয় স্ত্রী ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সোহানা তাহমিনা,
সাবেক এমপি মৃণাল কান্তি দাসের স্ত্রী নিলীমা দাস,
সাবেক সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আনিসউজ্জামান আনিস,
সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আফসার উদ্দিন ভূঁইয়া আফসুর,
মিরকাদিম পৌরসভার আওয়ামী লীগের সাবেক মেয়র শহিদুল ইসলাম শাহিন।
গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ৪ আগস্ট মুন্সিগঞ্জে শিক্ষার্থীদের ওপর সশস্ত্র হামলায় তিনজন নিহত হওয়ার ঘটনায় মহিউদ্দিন ও তার পরিবারের সদস্যদের কার্যকর ভূমিকা রয়েছে। ৫ আগস্ট সরকারের পরিবর্তনের পর মহিউদ্দিন আত্মগোপনে চলে গেছেন। তবে তারা এখনও দেশে অবস্থান করছেন এবং নিরাপদে থাকার জন্য ঘন ঘন অবস্থান পরিবর্তন করছেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, “অপারেশন ডেভিল হান্টে কোনো অপরাধী ছাড় পাবে না। যারা শয়তান, তারাই ধরা পড়বে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারাও ছাড় পায়নি। অপারেশন চলবে যতক্ষণ পর্যন্ত ডেভিল মুক্ত না হবে।”
মুন্সিগঞ্জের এই ঘটনা দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় যোগ করেছে, যেখানে দলীয় ক্ষমতার অপব্যবহার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সরকারের তদন্ত প্রক্রিয়া দ্রুত ত্বরান্বিত হয়েছে।