৫ আগস্ট ২০২৫ সময় সকাল ১০
প্রতিবেদক: জনতার কণ্ঠস্বর ডেস্ক
‘মায়ের চোখে বাংলাদেশ’ – তারেক রহমানের মানবিক রাষ্ট্রদর্শন: ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জনগণের বিজয়, শহীদের স্মরণ ও নারীর সম্মান
৫ আগস্ট ২০২৫, গণঅভ্যুত্থানের এক বছর পূর্তিতে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও আগামীর রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমান তার অফিসিয়াল ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে একটি ঐতিহাসিক বিবৃতি প্রকাশ করেন। তিনি সেখানে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র কাঠামো, নাগরিক নিরাপত্তা, নারীর অধিকার এবং অতীতের ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে জনগণের লড়াইকে শ্রদ্ধা জানিয়ে একটি সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেন।
তারেক রহমান বলেন,
> “মায়ের চোখে বাংলাদেশ যেমন আমরা তেমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই—যেখানে দলমত, ধর্ম-বর্ণ, বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী কিংবা সংশয়বাদী—প্রত্যেকটি মানুষ নিরাপদে থাকবে।”
এই একটি বাক্যে ফুটে উঠে তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের সারাংশ—মানবিকতা, সহনশীলতা এবং সমন্বয়ের বাংলাদেশ।
শ্রদ্ধাঞ্জলি: শহীদদের ত্যাগ ও গণজাগরণে অংশগ্রহণকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা
তারেক রহমান ফেসবুক বার্তায় স্পষ্টভাবে স্বীকার করেন,
বাংলাদেশের জনগণের সাহসিকতা ও আত্মত্যাগ ব্যতীত ৫ আগস্ট ২০২৪-এর স্বৈরাচার পতনের ইতিহাস লেখা সম্ভব হতো না।
তিনি বলেন—
> “বাংলাদেশের প্রতিটি প্রান্তে যারা হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন, তাদের প্রতি আমি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। যাঁরা প্রাণ দিয়েছেন, পুড়িয়ে মারা হয়েছেন কিংবা গুম হয়েছেন—তাদের আত্মত্যাগ আমাদের গণতন্ত্রের ভিত্তি।”
তিনি শহীদ আবু সাঈদ, মো. শামীম (সাবেক ছাত্রনেতা), জিয়াউল হাসান রুবেল, মো. সোহেল, শাহীন, আশরাফুল, রানা, জুয়েল, কাওসারসহ বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলের অসংখ্য নেতা-কর্মীর নাম স্মরণ করেন, যাঁরা স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে প্রাণ দিয়েছেন। শুধু জুলাই-আগস্ট ২০২৪ মাসে হত্যার সংখ্যা ১৫০ ছাড়িয়ে গেছে বলে জানা যায়, যার মধ্যে পুড়িয়ে মারা, গুম, ক্রসফায়ার—সবকিছুই ছিলো এক নিষ্ঠুর রাষ্ট্রযন্ত্রের উদাহরণ।
—
গুম ও নিখোঁজের প্রসঙ্গে তীব্র প্রতিক্রিয়া
তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন,
> “বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলমসহ যারা এক দশকেরও বেশি সময় ধরে নিখোঁজ, তাদের কোনো হদিস আজও পাওয়া যায়নি। তাদের পরিবার এখনও অপেক্ষায়—এটা শুধু একেকটা পরিবার নয়, পুরো জাতির ব্যর্থতার প্রতীক।”
এই বক্তব্য রাষ্ট্রের গুম সংস্কৃতির বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ ও ন্যায়বিচারের জোর দাবি।
নারীর অধিকার ও মায়ের সম্মানের প্রতি অঙ্গীকার
তারেক রহমান বিশেষভাবে নারী জনগোষ্ঠীর অবদান ও অবস্থান নিয়ে বক্তব্য দেন:
> “নারীরা শুধু ঘরের দায়িত্বই নেননি, রাজপথে বুক দিয়ে অন্যায় প্রতিহত করেছেন। তাদের সম্মান রক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করাই হবে আগামীর রাষ্ট্রব্যবস্থার অন্যতম শপথ।”
বিভিন্ন অঞ্চলে নারী আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি হামলার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন—এই নির্যাতনের দায় কেউ এড়াতে পারবে না। নারীর মর্যাদা রক্ষা না করে কোনো গণতন্ত্র টিকে থাকতে পারে না।
শিল্প, কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তার স্পষ্ট রূপরেখা
তিনি আগামী বাংলাদেশের যে রূপরেখা দেন, তাতে ছিল—
সকল নাগরিকের জন্য নিরাপদ কর্মসংস্থান
শিল্পপতিদের সুরক্ষা ও শ্রমিকের অধিকার
দেশীয় পণ্যের রপ্তানি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সমান অংশগ্রহণ
প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যৎ এবং দক্ষ যুব সমাজ গঠন
একজন রাষ্ট্রনায়ক কীভাবে প্রতিটি শ্রেণি-পেশার কথা একসাথে উল্লেখ করতে পারেন, তার অনন্য দৃষ্টান্ত এই বক্তব্য।
তারেক রহমানের ভাষণ: কল্পনাতীত স্পষ্টতা ও মানবিক আবেদন
পোস্টটি শুধুমাত্র রাজনৈতিক বার্তা নয়—এটি একটি জাতির আত্মচিন্তার খসড়া। যেখানে নিজের প্রতিশ্রুতিকে কাব্যিক করে তোলেন না, বরং বাস্তবতা ও গণমানুষের যন্ত্রণার প্রতিফলন ঘটান। তার ভাষায় ছিল তিক্ত সত্যের স্বীকারোক্তি, স্বপ্নের প্রতিশ্রুতি নয়।
তিনি বলেছিলেন—
> “আমি চাই একটি বাংলাদেশ, যেখানে আমার সন্তানকে গুম হওয়ার ভয় নিয়ে বাস করতে না হয়। যেখানে কোনো মা-কে সন্তানের রক্তে ভেজা জামা নিয়ে থানার সামনে দাঁড়াতে না হয়।”
এক রাষ্ট্রনায়কের জাতির প্রতি অঙ্গীকার
‘মায়ের চোখে বাংলাদেশ’ শ্লোগানের মাধ্যমে তারেক রহমান এক নতুন রাষ্ট্রচিন্তার উন্মোচন করেছেন। এটি শুধু এক বছরের জয়োৎসব নয়—এটি একটি নিষ্ঠুর অতীতের বিরুদ্ধে নতুন ভবিষ্যতের আহ্বান। যেখানে রাষ্ট্রব্যবস্থা হবে মানবিক, নেতৃত্ব হবে নৈতিক, আর জনগণ থাকবে রাষ্ট্রের কেন্দ্রে।