প্রকাশকাল: ১৮ জুলাই ২০২৫
রিপোর্ট: শামীমা নাসরিন লিপা সিনিয়র এডিটর
মায়ানমার পাচারকালে ১৫০ বস্তা সিমেন্টসহ পাঁচ চোরাকারবারি আটক
চট্টগ্রাম, পতেঙ্গা:
বাংলাদেশ-মায়ানমার সীমান্তজুড়ে চলমান চোরাচালান রোধে জিরো টলারেন্স বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) দিবাগত রাত ২টার দিকে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী চ্যানেল এলাকা থেকে পাচারের সময় ১৫০ বস্তা সিমেন্টসহ পাঁচজন চোরাকারবারিকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। অভিযানে একটি কাঠের বোটও জব্দ করা হয়, যেটি পাচারকাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার হারুন-অর-রশীদ। তিনি জানান, পতেঙ্গা কোস্ট গার্ড আউটপোস্টের একটি টহল দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কর্ণফুলী নদীর মোহনায় নজরদারি চালায়। ওই সময় সন্দেহজনক একটি কাঠের বোট থামিয়ে তল্লাশি করে ৮০ হাজার টাকা মূল্যের ১৫০ বস্তা সিমেন্ট এবং পাচারকালে জড়িত পাঁচজনকে আটক করা হয়।
❝মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে পাচার হচ্ছিল❞
কোস্ট গার্ড কর্মকর্তারা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন, এসব সিমেন্ট মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে পাচারের জন্য বহন করা হচ্ছিল। এ ধরনের পাচার শুধু শুল্ক ফাঁকি নয়, বরং দেশের অর্থনীতির ওপর সরাসরি আঘাত এবং প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে অবৈধ বাণিজ্যিক সম্পর্কের উৎস।
❝স্থানীয় চোরাচালান সিন্ডিকেট জড়িত❞
আটক ব্যক্তিরা স্থানীয় চোরাকারবারি সিন্ডিকেটের সদস্য বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে গোয়েন্দা সংস্থা এবং কাস্টমস তদন্ত শুরু করেছে। জব্দকৃত সিমেন্ট, বোট এবং পাচারকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
চোরাচালান প্রতিরোধে টহল আরও জোরদার
লেফটেন্যান্ট কমান্ডার হারুন-অর-রশীদ বলেন—
> “দেশের অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা স্বার্থ রক্ষায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন টহল ও নজরদারি পরিচালনা করছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান আরও বিস্তৃত ও ঘনঘন পরিচালিত হবে।”
নদীপথে পাচার রোধে নজরদারি প্রয়োজন
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, উপকূলীয় ও নদীপথে যেভাবে কাঁচামাল, শিল্পপণ্য ও কৃষিপণ্য পাচার হচ্ছে, তা শুধু জাতীয় রাজস্ব হ্রাস করে না; বরং এটি একটি ছায়া-অর্থনীতির জন্ম দেয়—যা দেশের বৈধ বাজার ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিতে পারে।
সীমান্ত ও উপকূলীয় নিরাপত্তায় কোস্ট গার্ডের ভ‚মিকা প্রশংসনীয়
পতেঙ্গা, কক্সবাজার, টেকনাফ, টেকনাফ-নাফ নদীসহ বিস্তৃত উপকূলীয় অঞ্চলে কোস্ট গার্ডের তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, এসব অভিযান এখন পাচারকারীদের জন্য একটি ভয়ংকর বার্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই সিমেন্ট পাচারকান্ড শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি বড় এক চোরাচালান চক্রের অংশবিশেষ। স্থানীয়ভাবে একে ‘সিমেন্ট সিন্ডিকেট’ বলে আখ্যায়িত করা হচ্ছে, যা দেশের দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্ত অঞ্চলে সক্রিয় বলে গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক তৎপরতায় এই চক্রের মূল হোতাদের মুখোশ উন্মোচনের প্রত্যাশা করছেন সচেতন মহল।