‘মন্ত্রী নয়, মাদক নির্মূল’—প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেবেন ইশরাক, আন্দোলন-সংগ্রাম ও পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি জোরদারের প্রত্যয়
জাতীয় প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হওয়ার ঘোষণা; বিএনপির কর্মী হিসেবে মাদকের বিরুদ্ধে আরও জোরালো ভূমিকা রাখার অঙ্গীকার
নিজস্ব প্রতিবেদক | দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ
ঢাকা, ১৯ অক্টোবর ২০২৬: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের বিষয়ে আজ সোমবার দুপুর ২টায় রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন ইশরাক হোসেন। সোমবার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ ঘোষণা দেন। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
নিজের বক্তব্যে ইশরাক হোসেন জানান, প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর পরও মাদকের বিরুদ্ধে তাঁর অবস্থান ও কার্যক্রম থেমে থাকবে না। বরং সংসদ সদস্য বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নয়, বিএনপির একজন কর্মী হিসেবে মাদকবিরোধী কর্মকাণ্ডে আগের চেয়ে শতগুণ বেশি উদ্দীপনা নিয়ে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতিক্রিয়া নিয়ে মন্তব্য
নিজের পদত্যাগের ঘোষণা ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকজনের উল্লাসসূচক লেখালেখির বিষয়েও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইশরাক হোসেন।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে দেশে কখনো আন্দোলন-সংগ্রামের প্রয়োজন হলে এসব ব্যক্তি জাতীয়তাবাদী আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বিদেশ থেকে দেশে ফিরে সেই আন্দোলনে অংশ নেবেন।
তাঁর এই বক্তব্যে রাজনৈতিক আদর্শ, আন্দোলন-সংগ্রামে অংশগ্রহণ এবং দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রবাসীদের ভূমিকার প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে ভিন্নমত ও আলোচনা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার
ইশরাক হোসেনের বক্তব্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো মাদকবিরোধী কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ঘোষণা। প্রতিমন্ত্রীর পদে থাকুন কিংবা না থাকুন, মাদকের বিরুদ্ধে তাঁর অবস্থান অপরিবর্তিত থাকবে—এমন বার্তাই দিয়েছেন তিনি।
তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, বিএনপির একজন কর্মী হিসেবে মাদকের বিরুদ্ধে আরও বেশি উদ্দীপনা নিয়ে কাজ করবেন। তাঁর এই ঘোষণায় মাদকবিরোধী অভিযান, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষার বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে।
তবে মাদক নির্মূলের মতো জটিল সামাজিক সমস্যার সমাধানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর ভূমিকা, আইনের যথাযথ প্রয়োগ, মাদক কারবারের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং তরুণদের পুনর্বাসন ও সচেতনতা কার্যক্রমও গুরুত্বপূর্ণ।
পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি জোরদার ও জেলা সফরের পরিকল্পনা
নিজের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরে ইশরাক হোসেন জানান, পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি আরও জোরদার করা হবে। পাশাপাশি দেশব্যাপী প্রজন্ম দলের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন জেলা সফরের সুযোগ তৈরি হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক পদ-পদবির বাইরে থেকেও দলীয় কর্মকাণ্ড, সামাজিক পরিচ্ছন্নতা এবং মাদকবিরোধী উদ্যোগে সক্রিয় থাকার পরিকল্পনা রয়েছে।
এতে তাঁর ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড কোন পথে এগোয়, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
‘মন্ত্রী নয়, মাদক নির্মূল’—বক্তব্যের মূল বার্তা
নিজের ফেসবুক পোস্টের শেষে ইশরাক হোসেন লেখেন, ‘মন্ত্রী নয়, মাদক নির্মূল! মাদক নির্মূল, মাদক নির্মূল!’
এই স্লোগানের মাধ্যমে তিনি পদ-পদবির চেয়ে মাদকবিরোধী কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বার্তা দিয়েছেন। তাঁর ঘোষিত অবস্থান বাস্তবে কতটা কার্যকর হয় এবং ভবিষ্যতে মাদকবিরোধী কর্মকাণ্ড কীভাবে পরিচালিত হয়, তা সময়ের সঙ্গে স্পষ্ট হবে।
পদত্যাগের আনুষ্ঠানিকতা নিয়ে অপেক্ষা
ইশরাক হোসেনের ঘোষণার পর এখন জাতীয় প্রেস ক্লাবে তাঁর বক্তব্যের দিকে নজর রয়েছে। তবে পদত্যাগের ঘোষণা, পদত্যাগপত্র জমা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া পৃথক বিষয়। তাই আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়ার পরই তাঁর পদত্যাগের চূড়ান্ত অবস্থা নির্দিষ্টভাবে বলা যাবে।
দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ মনে করে, মাদকবিরোধী যেকোনো উদ্যোগে আইনের শাসন, মানবাধিকার, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সামাজিক সচেতনতা নিশ্চিত করা জরুরি। রাজনৈতিক পরিচয় যা-ই হোক, মাদক কারবারের বিরুদ্ধে কার্যকর ও আইনসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি মাদকের শিকার ব্যক্তিদের পুনর্বাসনেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
সূত্র: ইশরাক হোসেনের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া বক্তব্য এবং ১৯ অক্টোবর ২০২৬ প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদন।